‘আপনার বিয়ে করতে মন চাইবে’

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৪৫
‘আমাদের পেজে গিয়ে ছবি দেখলে আপনি বিবাহিত হলেও আবার বিয়ে করতে ইচ্ছা করবে’ এভাবেই নিজেদের ছবির প্রশংসা করেন সুমাইয়া ইসলাম। সুমাইয়া ছবি তোলেন তার সাথে আছেন আরও অনেক মেয়ে। তারা কেউ চিকিত্সক, কেউ প্রকৌশলী, কেউ নিতান্তই শিক্ষার্থী, কেউ আবার পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে পেশা গ্রহণ করেছেন। এদের সবার একটা বিশেষ মিল আছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেস বুককে ব্যবহার করে আয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এরা। ফটোগ্রাফি, ইন্টেরিয়র ও ফ্যাশন ডিজাইনিং-এ তাদের আছে স্বতন্ত্র ফেসবুক পেইজ। যেখানে গেলে বিয়ের ছবি দেখলে আপনার বিয়ে করতে মন চাইবে। আপনি বিবাহিত হন কিংবা অবিবাহিত, সাধ্য না থাকলেও বাড়ি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিবেন। আর কোন কিছুর প্রয়োজন না থাকলেও কিছু শপিং করে ফেলবেন। তাদের এই উদ্যোগকে ঘিরে আমাদের এই প্রতিবেদন লিখেছেন— রাবেয়া বেবী মানুষকে না ঠকালে উন্নতি হবে —উম্মে কুলসুম কাকলি কাকলি যেসময় এক্সিম ইনস্টিটিউট থেকে ইনটেরিয়র ডিজাইনিং-এর ওপর গ্রাজুয়েশন করেন, সেসময় বিষয়টি এতটা জনপ্রিয়তা পাননি। অভিভাবকগণ সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় এই বিষয় পড়তে চাইতেন না পেশাতো পরের কথা। কাকলি প্রায় যুদ্ধ করে ছোট্ট করে কাজটা শুরু করেন। আর এই পেশাই আজ তাকে অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দিয়েছে বলে জানান। ফেসবুকে ভর করে তিনি ছড়িয়ে পড়েছেন সর্বত্র। তবে ভুলতে পারেননি যে ভাঙ্গাগড়ার দিনগুলোর কথা। কাকলি বলেন একটা ল্যাপটপের অভাবে কত ডিজাইন বেহাত হয়েছে। পরিশ্রমের বদলে একটা টাকাও পাইনি। গ্রাহকদের নিজের কম্পিউটারে ডিজাইন দেখালে তার স্বামী কিংবা বাড়ির অন্যদের দেখাবে বলে পেনড্রাইভে নিয়ে যেতেন আর ফিরতেন না। পরিশ্রম সততা আর কাজের প্রতি একাগ্রতা আজ কাকলিকে পরিচিত করেছে এক্সিম ব্যাংকের প্রধান শাখার ইন্টেরিয়র ডিজাইনারসহ আরও বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানের ইন্টেরিয়র ডিজাইনিংয়ের সাথে। এই সফলতার যার সহযোগিতা সবচেয়ে বেশি পাথেয়, তিনি স্বামী। এক সন্তানের জননী কাকলি মনে করেন মেয়েদের ঘর-সংসার দেখে ইন্টারনেটকে যুক্ত করে সফল হওয়া যায়। তিনি বলেন আমরা ব্যবসা করি কিংবা চাকরি আমাদের মানুষকে ঠকানোর মনোভাব ত্যাগ করলেই উন্নতি হবে। ০০০০০০ টেলি প্রেসক্রিপশন শুরু হয়েছে —তানজিনা নওরিন ‘ড্রিম উইভার’ এর সিনিয়র এডভাইজর তানজিনা নওরিন হিব্রাহীম মেডিক্যাল কলেজের ৫ম বর্ষের শিক্ষার্থী। চিকিত্সা বিজ্ঞানের মতো সিরিয়াস পড়াশুনার পাশাপাশি কিভাবে এই পেশা চালিয়ে নেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাজটা প্রতিষ্ঠানের এগিয়ে নেয়ার নানা বিষয় পরামর্শ দেয়া। তাদের মার্কেটিংয়ে কি করতে হবে। কোথায় কিভাবে মার্কেটিং করলে গ্রাহক আগ্রহ বাড়বে, আমি প্রভৃতি পরামর্শ তাদের দেই। কখনো মেইল করি আবার কখনো কাজগুলো ফেসবুকে মিটিং-এর মাধ্যমে করে নেই। তাতে আমার পড়াশুনায় কোন প্রভাব পরে না। উপরন্তু আমার নিজের খরচ চালিয়ে নিতে পারি। আমি মনে করি প্রত্যেক মানুষেরই শিক্ষা জীবন থেকে আয় করার প্র্যাকটিস করা উচিত। এতে নিজের আয়ের আনন্দ যেমন পাওয়া যায় তেমন পেশাগত জীবনের অভিজ্ঞতা অর্জন হয়। আমি ভাল আয় করছি এটা বিষয় না, বিষয় হল আয়ের জগতে প্রবেশ করছি কর্মক্ষেত্রে পেশাগত নানা পরিস্থিতির সাথে পরিচিত হচ্ছি। যা পরে পেশায় প্রবেশ করলে অর্জন করতে সময় লেগে যায়। পড়াশুনা শেষ হলে কি চিকিত্সা সেবা করবেন, না এই পেশাতেই থাকবেন জানতে চাইলে তানজিনা বলেন, চিকিত্সা করাকে পেশা হিসেবে নিলেও আমি এই কাজটি করে যাবো। আর আমি মনে করি এতে আমার চিকিত্সা সেবার কোন ক্ষতি হবে না। কারণ এখন টেলিপ্রেসক্রিপশন শুরু হয়েছে। রোগী চিকিত্সকের কাছ থেকে ফোনেই চিকিত্সা নিচ্ছে। ০০০০০০ কঠিনভাবে ভারসাম্য বজায় রেখে কাজ করতে হবে —রুবাবা মাহমুদ অনলাইন ভিত্তিক কেনাকাটা করতে করতেই অনলাইন ফ্যাশন হাব প্রতিষ্ঠা করেন রুবাবা। ‘ইন্ট্রিগ ফ্যাশন’র স্বত্বাধিকারী রুবাবা পড়াশুনার ক্ষতি হবে বলে তখন পরিবারকে জানাননি তার ব্যবসার কথা। নিজের জমানো পকেটমানি দিয়ে শুরু হয় তার ব্যবসা। বর্তমানে তিনি ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নবম সেমিস্টার বিবিএ’র শিক্ষার্থী। শুরুতে পড়াশোনার একটু ক্ষতি হলেও সে তা এখন পুষিয়ে নিয়েছেন। এখন বেশ সফলভাবেই তিনি ব্যবসা ও পড়াশুনা করছেন। আর এই ব্যবসায় পরিবারের সহযোগিতা পাচ্ছেন। এ কাজের প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে তিনি বলেন, আগের তুলনায় কিছু বাড়লেও আমাদের হোলসেলের ওয়েব সাইটের সংখ্যা অনেক কম। বাইরে থেকে পণ্য আনতে কাস্টমের একটি বিরাট ঝামেলার সম্মুখীন হতে হয়। আবার কারো পছন্দের পণ্য এনে যদিও সে না নেয় তাহলে অন্য রকমেরও সমস্যা হয়। এক্ষেত্রে রুবাবা ৫০ শতাংশ মূল্য আগে নিয়ে নেন। শুধু ফেইজবুকে গিয়ে পছন্দ করা পণ্য সিলেকট করে তার একাউন্টে টাকা পাঠালেই হবে। ‘ইন্ট্রিগ ফ্যাশন’র পেজে জুয়েলারী, পোশাক, ব্যাগ, জুতার অপূর্ব সমারোহ দেখলে আপনার কিছু প্রয়োজন না হলেও কিনতে মন চাইবে। মার্কেটের চেয়ে তার পণ্যের দাম কম। শিক্ষাজীবনে নিজের আয়ের আনন্দ উপভোগ করতে চাইলে ভারসাম্য বজায় রেখে কাজ করার পরামর্শ দেন রুবাবা। ০০০০০০ আমাদের পেশা ইন্টারনেটের নেতিবাচক ব্যবহার কমায় —সুমাইয়া ইসলাম সিটি কলেজ থেকে সবে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন সুমাইয়া ইসলাম। বেশ কিছুদিন যাবত্ তিনি ‘ড্রিম উইভার’এর চিত্রগ্রাহক এবং মার্কেটিং এর দায়িত্ব পালন করছেন। এতে তার পড়াশুনার কোন ক্ষতিতো হয়ই না বরং তিনি মনে করেন ফেসবুক ভিত্তিক পেশা তরুণদের ইন্টারনেটের নেতিবাচক ব্যবহার থেকে দূরে রাখে। তিনি বলেন, নিজের কাজ করা, কাজ আপলোড করা, অন্যদের কাজ দেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন তারা। ফলে তাদের অন্য কোন নেতিবাচক কাজে সময় দেয়ার মতো বাড়তি সময় নেই। কাজের সময় কাজ পড়াশুনার সময় পড়াশুনা এইভাবে সময়টাকে ভাগ করে নিতে পারলেই হয়। আমরা একটি টিমের মতো করে কাজ করি। ‘ড্রিম উইভার’এর সবাই খুব হেলপফুল। আমাদের একটি বিশাল সংখ্যক ফ্যান আছেন। তাদের অনুপ্রেরণা নিয়ে কাজ করি। আমাদের ছবি দেখে অনেকে আবার বিয়ে করতে মন চায় বলে কম্লিপেন্ট করে। যেহেতু কাজটা উপভোগ করি তাই আপাতত পেশা হিসেবে করতে চাই। পরের কথা পরেই ভাববো।