শিক্ষা-দীক্ষায় পাকিস্তান এমনিতেই পিছিয়ে আছে। তার উপর আবার ধর্মের দোহায় দিয়ে সেদেশের মোল্লারা নারীদেরকে ঘরের কোণে বন্দি করে রাখতে ব্যাকুল। এমনই পরিস্থিতিতে মালালা ইউসুফ জাই শিক্ষাগ্রহণের ব্রত নিয়ে জীবন বাজি রেখে পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তার অপরাধ এটুকুই— তিনি শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে চান নিজেকে। আর এই ‘অপরাধ’-এর জন্য তালেবানরা তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। গুলি করেছিল মাথায়। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান মালালা। তারপর থেকেই তিনি বিশ্বব্যাপী পরিচিত মুখ। শিশু ও নারীদের শিক্ষা নিয়ে কাজ করছেন, চালিয়ে যাচ্ছেন আন্দোলন। এর ফলস্বরূপ পুরস্কার পেয়েছেন অনেকগুলো। গত মাসে নারী ও শিশুদের শিক্ষার দাবিতে আন্দোলনরত মালালা ইউসুফ জাই সম্মানজনক টিপেরারি আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন।
গত মঙ্গলবার মানবাধিকার গ্রুপ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল শিক্ষার বিষয়ে শিশুদের উদ্বুদ্ধ করতে প্রচারণা চালানোর জন্য গত বছর তালেবান হামলার শিকার এই পাকিস্তানী কিশোরীকে তাদের সর্বোচ্চ পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। লন্ডন ভিত্তিক সংস্থাটি জানায়, মালালার সাথে আমেরিকান সঙ্গীত তারকা ও মানবাধিকার কর্মী হ্যারি বেলাফন্টে অ্যাম্বাসেডর অব কনসায়েন্স এওয়ার্ড-২০১৩ পাচ্ছেন। আইরিশ রক সঙ্গীত তারকা বোনো আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেবেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব সলিল শেঠি বলেন, নতুন এ দু’জন অ্যাম্বাসেডরের কর্ম জগত্ ভিন্ন হলেও তারা সর্বক্ষেত্রে এবং সকলের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মোত্সর্গ করবেন। এবারের শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত তালিকায় আছেন পাকিস্তানের এই আন্দোলন কর্মী। তালেবানদের হামলার শিকার হওয়ার পর মালালাকে ইংল্যান্ডে উন্নত চিকিত্সার জন্য নেয়া হয়। তারপর থেকেই সেখানে আছেন তিনি।
