জীবনের সুর গাঁথা চলচ্চিত্রে

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৪৮
সুস্থ ধারা ও পূর্ণাঙ্গ মানসিক বিকাশের জন্য চলচ্চিত্র বেশ শক্তিশালী একটি মাধ্যম। আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে রূপালী পর্দায় টেনে এনে দর্শককে নিজের যাপিত জীবন দ্বারা বিমোহিত করা কঠিন কাজ। আর সেই কাজ যুগের পর যুগ করে আসছে চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্রকে আমাদের মাঝে নিয়ে আসতে কাজ করে যায় নানা ধরনের সংগঠন। বাংলাদেশের সংস্কৃতি, রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলচ্চিত্রকে মূখ্য রেখে তিলে তিলে গড়ে তোলা হয় একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন। ১৯৬২ সালে একটি ছোট্ট ও প্রথম পদক্ষেপটি নেয়া হয় ‘সায়েন্স সিনে ক্লাব’ নামে, এর দীর্ঘ ৩১ বছর পর ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ’ নামে প্রতিষ্ঠিত হয় ক্যাম্পাসভিত্তিক এই সংগঠনটি। প্রায় জন্মলগ্ন থেকেই চলচ্চিত্রকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি হিসাবে তরুণ প্রজন্মের কাছে উপস্থাপন ও সুস্থ ধারার চলচ্চিত্রের নিয়মিত দর্শক তৈরির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে এই সংগঠন। ‘সুস্থ চলচ্চিত্র, সুস্থ দর্শক’— এ মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে নিরন্তর তরুণ প্রজন্মের কাছে চলচ্চিত্রকে আদর্শ, মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম গড়ে তোলার হাতিয়ার হিসাবে উপস্থাপন করে আসছে তারা। বরাবরই এই সংগঠনের মূল কাজ হচ্ছে চলচ্চিত্রকে সমাজের কাছে উপস্থাপন করা, যেটা সেই সমাজের পরিবর্তনে, সংশোধনে ও অনুধাবনে সাহায্য করতে পারবে। আর এজন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ নিয়মিত চলচ্চিত্র উত্সবের আয়োজন করে থাকে। নতুন বছরের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেয় তারা ‘ফিল্ম ফর ফ্রেশার্স’ দিয়ে। এখানে প্রতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে জীবনমুখী চলচ্চিত্র দেখানো হয়। দেশ ও সমাজের দুর্যোগময় সময়ে তাদের দায়িত্ববোধ অপরিসীম। কার্যকরী সদস্য সোহেল মোহাম্মদ রানা বলেন, আমাদের সংগঠন নিজ খরচে প্রায়ই দুর্যোগ প্রস্তুতি বিষয়ক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও বন্যা পীড়িত মানুষের জন্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী করে থাকে। এছাড়াও ২০০৭ এ অপরাজিত নামে একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী করা হয় যেখানে দুর্যোগ ও তার প্রতিকার নিয়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়া হয়। এই সংগঠনের অন্যতম চলচ্চিত্র উত্সব হচ্ছে ‘আমার ভাষার চলচ্চিত্র’ যেখানে এপার বাংলা ও ওপার বাংলার বেশ ভালো কিছু চলচ্চিত্র বেশ কয়েকদিনব্যাপী প্রদর্শন করা হয়। এসবের পাশাপাশি প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য থাকে, ভাষা ও বিশ্ব সংস্কৃতিকে সবার সামনে তুলে ধরা। নারী নেতৃত্বে এই সংগঠন বেশ বলিষ্ঠ দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছে দপ্তর সম্পাদক আরিফা সুলতানা তানিন, কার্যকরী সদস্য মাহবুবা পূষন, দোয়েল বিশ্বাসের কাজের মাধ্যমে। বিদেশি ভালো স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্রের পাশাপাশি দেশি তরুণ নির্মাতাদের জন্যও এখানে আলাদা জায়গা করে দেয়া হয় নিজেদের তুলে ধরার। বিশেষ বিশেষ দিবসগুলোতে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয় এই সংগঠনের পক্ষ থেকে। চলচ্চিত্রের খুঁটিনাটি জানতে ডিউএফএস নিয়মিত আয়োজন করে পাঠচক্র। চলচ্চিত্র কর্মীদের বিশ্বের ধ্রুপদী সব চলচ্চিত্রের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য আয়োজন করা হয়, ‘ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ম্যানিফেস্টো প্রোগ্রাম’। চলচ্চিত্র আর সমাজ ওতপ্রোতভাবে এগিয়ে চলতে পারে, এটি অনুধাবন করে সমাজের সাথে তাল মিলিয়ে চলচ্চিত্রের আয়নায় নিজেদের বুঝতে পারাটাই চলচ্চিত্র দেখার উদ্দেশ্য আর সেটা সহজলভ্য করার জন্যই এই সংগঠন।