ঢাকা সিটি কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী তোসিবা বিনতে রহমান তোড়া। সে উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বেশ ভালো রেজাল্ট করে এখন উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষ পড়ছে। ছোটবেলা থেকেই দুরন্ত ও বেশ মেধাবী এই তরুণী। তার স্বপ্ন বৈষম্যহীন প্রগতিশীল বাংলাদেশ। দেশ ও দশের জন্য কাজ করতে ইচ্ছুক তিনি। ভবিষ্যত্ লক্ষ্য আর পরিকল্পনা নিয়ে মহিলা অঙ্গনের সাথে কথা বলেছেন তোড়া।
তোমার ভবিষ্যত্ লক্ষ্য কি?
—আপাতত আমার নির্দিষ্ট কোনো ভবিষ্যত্ লক্ষ্য নাই। এখন চিন্তা-ভাবনা পুরোপুরি সামনের এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে। তবুও আমি চাই যাতে ভালো ফলাফল নিয়ে কলেজ শেষ করে প্রকৌশলী হবার জন্য পড়তে পারি। এজন্য অবশ্য বেশ পড়ালেখা করা প্রয়োজন। আমাদের দেশের কোনো ভাল সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশলে ভর্তি হওয়ার জন্য অনেক প্রতিযোগিতা করতে হয়। আমি নিজেকে সেভাবে তৈরি করছি। ইনশাআল্লাহ আমি আমার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো।
দেশ নিয়ে তোমার ভাবনা কি, মানে পেশাগত স্তরে দেশের জন্য তুমি কি করতে চাও?
—উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশ হিসেবে আমাদের দেশ বেশ ভালো এগিয়ে যাচ্ছে, আমাদের গার্মেন্টস শিল্প দেখে ঈর্ষা করে আশপাশের উন্নত দেশগুলো। আমাদের গার্মেন্টের অধিকাংশ শ্রমিক নারী। তাদের যদি যথাযথ শিক্ষা দিয়ে কাজে পাঠানো যেত তবে আরো ভালো ফল আমরা পেতাম বলে আমি মনে করি। আমার পেশাগত স্তর তো এখনো নিশ্চিত হয়নি। তাই আমি এখনি বলতে পারছি না যে আমি কীভাবে সহায়ক হতে পারি দেশের উন্নতিতে। তবুও বলতে চাই দেশকে ভালোবাসি। দেশের জন্য কাজ করতে চাই।
নারীদের সামগ্রিক উন্নতি কতোটুকু হয়েছে বলে মনে করো?
—সামগ্রিকভাবে অবশ্যই নারীদের উন্নতি হয়েছে। আজ আমি শিক্ষাগতভাবে যে স্তরে আছি ১৫-২০ বছর আগে তা ভাবাই যেত না। আর এখন নারীদের জন্য ব্যাঙ্কিং, শিক্ষকতা, সাংবাদিকতা এসব পেশা বেশ সাধারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা এসব পেশায় আসছেন কোনরকম দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছাড়া। তারপরও বাংলাদেশের নারীদের এখনো আমি নিরাপদ বলবো না। কারণ এজন্য সামগ্রিক মূল্যবোধের পরিবর্তন দরকার। এখনো ছেলেরা রাস্তায় মেয়েদের বাজেভাবে উত্ত্যক্ত করে। এখনো মেয়েদের মুখ বুঁজে সহ্য করার মানসিকতা রয়ে গেছে। এসব ট্যাবু থেকে বেরিয়ে আসতে পারলে আমি শতভাগ উন্নতি হয়েছে বলে মনে করবো।
নারীদের জন্য তুমি নিজে কি ধরনের ভূমিকা পালন করতে পারো?
—এখানে আসলে ‘আমি’ শব্দটি অনেক ছোট, একটা জাতির জন্য কেউ একা কিছু করতে পারে না। যা করতে হবে আমাদের সবাইকে মিলিতভাবে করতে হবে। উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম পেলে আমি আমাদের গ্রামের মেয়েদের নিয়ে কাজ করতে চাই। তাদের যেসব প্রতিভা আছে সেগুলো তুলে নিয়ে আসতে চাই। বিশ্ব বাজারে এসবের বেশ চাহিদা রয়েছে। আর সেইসাথে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিংও হবে। এজন্য মূলত সরকারি সাহায্য দরকার।
এজন্য সরকার বা সমাজের কি ব্যবস্থা নেয়া উচিত?
—আমাদের আসলে অনেক দূর যেতে হবে, একটি-দুটি কর্মশালা আয়োজন এখন আর যথেষ্ট না, বারো মাস আমাদের কাজ করতে হবে উন্নতির লক্ষ্যে। আমরা অবশ্যই পিছিয়ে আছি উন্নত বিশ্বের থেকে, কিন্তু সেটা বেশি না। আমরা সবাই মিলে কাজ করলে এই ঘাটতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব। সরকারের ধর্মান্ধ গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। আমার মতে, গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীরা মূলত এসব ধর্মীয় কুসংস্কারের কারণেই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারছে না। নারীর সঠিক শিক্ষার দিকে নজর দেয়া, ক্যাম্পেইন ও আইন প্রয়োগের মাধ্যমে ইভটিজিংয়ের মতো সামাজিক ব্যাধিগুলোকে ছেঁটে ফেলার জন্য মূল কাজটি করতে হবে সরকারকেই। আমাদের দেশের পুরুষদের বুঝতে হবে, আজ সে যে মেয়েকে উত্ত্যক্ত করছে, কাল অন্য কেউ তার বোনকে উত্ত্যক্ত করবে।
