নারী টেনিস খেলোয়াড়দের কথা বলতে গেলে যে কয়েকজনের নাম প্রথম সারিতেই চলে আসে সেরেনা জামেকা উইলিয়ামস তাদের মধ্যে অন্যতম। ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতা বিশিষ্ট এই আমেরিকান তারকার জন্ম ১৯৮১ সালে, মিশিগানে। পাঁচ বোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ সেরেনার টেনিসে হাতেখড়ি চার বছর বয়স থেকে। আর পেশাগত ক্যারিয়ার শুরু ১৯৯৫ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে। এরপর শীর্ষদশে উঠে আসতে তাঁর সময় লাগে মাত্র কয়েক বছর। আর র্যাঙ্কিং এ নিজের অবস্থান প্রথমে নিয়ে আসেন ২০০২ সালে। আর ২০০২-২০০৩ ছিল তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘোরানো স্বর্ণকাল। এর মাঝেই তার শিরোপা জয়ের সূচনা হয় অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, ফ্রেঞ্চ ওপেন, উইম্বলডন আর ইউ.এস ওপেনে। দৃড়চেতা মানসিকতা আর শারীরিক সক্ষমতা ক্রমেই সেরেনাকে পরিণত করে মহিলা এককের নাম্বার ওয়ানে। বোন ভেনাস উইলিয়ামস-এর সাথে জুটি বেঁধে দ্বৈত বিভাগেও সেরেনা হয়ে ওঠেন রীতিমত অপ্রতিরোধ্য। অচিরেই জয় করেন অলিম্পিক স্বর্ণও। একের পর এক শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে টেনিসে তার অবস্থান আরো শক্ত হতে থাকে।
তবে খেলোয়াড়দের সবচেয়ে বড় শত্রু ইনজুরির কাছে হার মানার সাথে সাথে তার ক্যারিয়ার কিছুটা নড়ে যাওয়ার শুরুটা ২০০৪ থেকেই। পরে তিনি যদিও সে সময়ের ব্যর্থতার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তার বিষণ্নতাকে। কিন্তু এসব প্রতিকূলতাকে কাটিয়ে উঠতে খুব বেশ সময় লাগেনি তার। নিজেকে নতুন করে তৈরি করে প্রত্যাবর্তন করেন নিজের হারিয়ে যাওয়া অবস্থানে, ফিরে আসেন খেলার মাঠে তার চিরাচরিত আত্মবিশ্বাস নিয়েই। পুনরায় র্যাঙ্কিং-এর শীর্ষে চলে আসেন ২০০৯ সালে, যৌথভাবে ছয় ম্যাচ খেলে সে বছর সেরেনা-ভেনাস জুটি থাকেন দ্বিতীয় অবস্থানে।
২০১১ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত একটানা অবস্থান ধরে রাখা বিশ্বসেরা এই টেনিস তারকা সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় যিনি র্যাঙ্কিং-এ শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছেন। বর্তমানে সক্রিয় যেকোন মহিলা খেলোয়াড়ের চেয়ে তিনি বেশি সংখ্যক গ্র্যান্ডস্লাম জিতেছেন এবং টেনিস ইতিহাসের যে কোন নারী তারকা খেলোয়ারের চেয়ে বেশি প্রাইজমানি অর্জন করেছেন। মাত্র মাসখানেক আগেই ষষ্ঠ ইউএস ওপেন জেতা সেরেনা ব্যক্তিগত জীবনে এখনো অবিবাহিত। টেনিস কোর্ট-এর বাইরে তার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় টেলিভিশন পর্দায়ও। বোন ভেনাসের সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন বেশ কিছু অ্যানিমেশন শোতেও। মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন নানা ভাবে। কেনিয়ায় তার নামে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয় তৈরিতে তার বিরাট ভূমিকা ছিল। লেখন হিলারি বিয়ার্ড-এর সহায়তায় দুই বোন মিলে ২০০৫ সালে প্রকাশ করেন তাদের প্রথম আত্মজীবনী মূলক বই। আর একক ভাবে সেরেনার আত্মজীবনী প্রকাশ পায় ২০০৯ সালে। আসছে ২৬ সেপ্টেম্বর ৩১ বছরে পা রাখতে যাওয়া সেরেনাকে টেনিস ইতিহাসের একরকম বিস্ময়ই বলা চলে। সামনের দিনগুলোতে সেরেনা হয়তো হয়ে উঠবেন আরো পরিণত, ডান হাতের জাদুতে মাতাবেন পুরো বিশ্ব আর ধরাশায়ী করবেন প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে, অর্জনের তালিকায় যুক্ত হবে আরো কিছু শিরোপা আর রেকর্ড।
