সম্পদ ও সৌভাগ্যের নগরী লক্ষ্মীপুর

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:০৮
ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুতে লক্ষ্মীপুর ভুলুয়া রাজ্যের অংশ ছিল। ষোড়শ থেকে উনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত এই এলাকায় প্রচুর লবণ উত্পাদন ও রফতানি হতো। এ থেকে এখানে লবণ আন্দো-লনের সূত্রপাত হয়। জেলাবাসীর নীল বিদ্রোহ ও স্বদেশী আন্দোলনের গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। স্বদেশী আন্দোলনের সময় সংগঠিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পরপরই মহাত্মা গান্ধী এ অঞ্চল পরিভ্রমণ করেন। তিনি রামগঞ্জের শ্রীরামপুর রাজবাড়ী ও কাফিলাতলী আখড়াতে অবস্থান করেন। ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুর ইসলাম এখানে আসেন। এছাড়া শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক, গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুবার লক্ষ্মীপুরে এসেছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এখানে ২৯টি ছোট বড় যুদ্ধ হয়। এরমধ্যে ১৭টি বড় ধরনের যুদ্ধ সংঘঠিত হয়। জেলার বধ্যভূমি গণকবর ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ইতিহাসের সে সাক্ষী হয়ে রয়েছে।বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে চট্টগ্রাম বিভাগের অর্ন্তগত লক্ষ্মীপুর জেলা। এ জেলার উত্তরে চাঁদপুর, পূর্বে নোয়াখালী দক্ষিণে ও পশ্চিমে মেঘনা নদী এবং অপর পাড়ে নোয়াখালী, ভোলা ও বরিশাল জেলা। এ জেলার ছোট বড় অনেক নদী ও খাল নিয়ে মেঘনা বিধৌত অঞ্চল। লক্ষ্মীপুর নামে থানা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে। ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে ১ সেপ্টেম্বর তত্কালীন ৫নং বাঞ্চানগর ইউনিয়ন লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় রূপান্তরিত হয়। পরে পৌরসভার বিস্তৃতি ঘটে আরো নতুন নতুন মৌজা নিয়ে। রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নিয়ে ১৯৭৯ সালে লক্ষ্মীপুর মহকুমা এবং ১৯৮৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি লক্ষ্মীপুর জেলা গঠিত হয়। ২০০৬ সালে রামগতি উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন নিয়ে কমলনগর উপজেলা গঠন করা হয়। এ জেলায় ৪টি পৌরসভা, ৫৮টি ইউনিয়ন, ৫৭৪টি মৌজা ও ৫১৪টি গ্রাম রয়েছে। জেলার মোট আয়তন ১৫,৩৪.০৭ বর্গ কি.মি.। পূর্বে লক্ষ্মীপুর জেলা নোয়াখালীর অধীনে ছিল। নামকরণঃ লক্ষ্মী ধন-সম্পদ ও সৌভাগ্যের দেবী (দূর্গা কন্যা ও বিষ্ণু পত্মী) এবং পুর হলো শহর বা নগর। সুতরাং লক্ষ্মীপুর এর সাধারণ অর্থ দাঁড়ায় সম্পদ সমৃদ্ধ শহর বা সৌভাগ্যের নগরী। কখন-কিভাবে লক্ষ্মীপুর নামকরণ হয়েছে তা নিয়ে নানা মত রয়েছে। ঐতিহাসিক কৈলাশ চন্দ্র সিংহ ‘রাজমালা’ বা ত্রিপুরার ইতিহাস লিখতে গিয়ে তত্কালীন নোয়াখালীর পরগনা ও মহালগুলোর নাম উল্লেখ করেছেন। এতে দেখা যায়, বাঞ্চানগর ও সমসেরাবাদ মৌজার পশ্চিমে ‘লক্ষ্মীপুর নামে একটি মৌজা ছিল। শ্রী সুরেশ চন্দ্রনাথ মজুমদার ‘রাজ পুরুষ যোগী বংশ’ নামক গবেষণামূলক গন্থে লিখেছেন দালাল বাজারের জমিদার রাজা গৌর কিশোর রায় চৌধুরী ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি থেকে রাজা উপাধি পেয়েছেন। তাঁর পুর্ব পুরুষরা ১৬২৯-১৬৫৮ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে দালাল বাজারে আসেন। তাঁর বংশের প্রথম পুরুষের নাম লক্ষ্মী নারায়ণ রায় (বৈঞ্চব) এবং রাজা গৌর কিশোরের স্ত্রীর নাম লক্ষ্মী প্রিয়া। কেউ কেউ ধারণা করেন এদের কারো নাম অনুসারে লক্ষ্মীপুর নামকরণ করা হয়েছে।