লক্ষ্মীপুরে বাঁশের তৈরি কুটির শিল্প ধরে রেখেছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ৫শ’ পরিবার

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:০৯
লক্ষ্মীপুরে বাঁশের তৈরী কুটির শিল্প ধরে রেখেছে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কয়েকশ’ পরিবার। আর এ কুটির শিল্পে কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন তারা । এসব পরিবারের নারী-পুরুষের হাতে তৈরিকৃত বাঁশের বিভিন্ন ধরনের পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে ঢাকা-চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন্ অঞ্চলে। সরকারী বা বেসরকারী কোন দাতা সংস্থার সহযোগিতা পেলে এ পেশায় আরো বহু লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ প্রচুর পরিমান অর্থ উপার্জন করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন শিল্প সংশ্লিষ্টরা। জেলার ৫টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা লোকজন এশিল্পের কাজ করলেও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার শহর কসবা গ্রামের প্রায় ৫শ’ পরিবার ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঐতিহ্যগতভাবে বাঁশের তৈরি বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। এই শিল্পে কাজ করে স্বচ্ছলতা ফিরেছে তাদের। সংসারের স্বচ্ছলতার পাশাপাশি সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ যোগানও চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। শিল্পায়নের ফলে বর্তমানে প্ল¬াষ্টিক সামগ্রী প্রচুর পরিমানে বাজারজাত হওয়ার কারণে কিছুটা সমস্যা সৃষ্টি হলেও পূর্ব পুরুষের ঐতিহ্যবাহী এই পেশাকে ধরে রেখেছে তারা। এরমধ্যে সদর উপজেলার শহর কসবা গ্রামে ব্যাপকভাবে তৈরী হচ্ছে, টুকরি, ছালনি, খাঁচা, কূলা, মাছ ধরার বিভিন্ন ফাঁদ, টেপা, লাই-ওড়াসহ (ধান রাখার বড় পাত্র) বাঁশের তৈরী বিভিন্ন জিনিস-পত্র। এখানকার বাঁশের তৈরি পণ্যগুলো সুন্দর হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে এর কদর রয়েছে। বাজারজাত করার লক্ষ্যে জেলা শহরের গো-হাটা রোড, মান্দারী বাজার, জকসিন বাজারে কারিগররা যখন তাদের পণ্যের পসরা নিয়ে বসে, তখন ক্রেতারা এসব পণ্যের শৈল্পিক সোন্দর্যে আকৃিষ্ট হয়ে এসব পণ্য ক্রয় করেন। এ শিল্পে কাজ করে প্রায় ৫শতাধিক পরিবারের ভাগ্যবদল হলেও বর্তমানে অসংখ্য পরিবার ঋণের বেড়াজালে বন্দি হয়ে আছে। অর্থের অভাবে তারা এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে পারছেন না। সরকারী ভাবে কোন ঋণ সহায়তা না পাওয়ায় তাদের বাধ্য হয়ে ঋণ নিতে হচ্ছে স্থানীয় এনজিও গুলো থেকে। এতে লাভের চেয়ে এনজিও গুলোর কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন । এতে করে হারাতে হচ্ছে মূলধন। এ পেশার কারিগররা জানান, বিগত ৫০বছর যাবত গ্রামের ৪/৫শত পরিবার বাঁশের তৈরী কুটির শিল্পের কাজে জড়িত। কিন্তু সরকারী ভাবে তারা কোন ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন না। সরকারী ভাবে যদি তাদেরকে স্বল্প সুদে ক্ষুদ্র ঋণ দেয়া হতো, তাহলে এ পেশায় তারা আরো ভালো করতে পারতো। বাজারে বাঁশের তৈরি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও শুধু মাত্র অর্থ সংকটের কারণে তারা ঠিক মতো মালামাল সরবরাহ করতে পারছেন না। তবে গ্রাম বাংলার এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য সরকারী ভাবে স্বল্প সুদে এ শিল্পের কারিগরদের ঋণ ও প্রশিক্ষণ সহায়তা দেয়া হলে এই শিল্পটি টিকে থাকাসহ গতিশীল হবে দেশের অর্থনীতি।