মৃিশল্প কারিগরদের দুর্দিন

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:১৩
মৃিশল্পীদের সংসারে অভাব-অনটন লেগেই আছে। সারাদিন কঠোর পরিশ্র্রম করে যে টাকা রোজগার হয় তা দিয়ে জীবন চালানোই দায়। ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠানো তাই সম্ভব হয় না এসব পরিবারের। দেশে আধুনিক তৈজসপত্র বাজার দখল, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, উত্পাদন খরচ অনেক বেড়ে যাওয়ায় লক্ষ্মীপুর জেলার প্রায় দেড় শতাধিক মৃিশল্পী পরিবারের জীবন-জীবিকার এ দুরবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আর গ্রামবাংলার ঐতিহ্য এ মৃিশল্প আজ প্রায় ধ্বংসের পথে রয়েছে। এখানকার মৃিশল্প আধুনিক প্লাস্টিক শিল্পের সাথে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকতে পারছে না। অনেকে পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, উপকুলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরের ভূখন্ডে জনবসতি স্থাপনের আদিপর্ব থেকে গৃহস্থালীর জন্য মাটির তৈরী জিনিষপত্রের চাহিদা শুরু হয়। এক সময় মেঘনার উপকূলীয় চরাঞ্চল ও গ্রাম-গঞ্জের মানুষ মাটির হাঁড়ি পাতিল, কড়াই ও থালাবাসন ব্যবহার করত। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্লাস্টিক শিল্পবাজার দখল করে নেয়ায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্য এ মৃিশল্প আজ ধ্বংসের পথে। আর সেই সঙ্গে এর সাথে জড়িত মানুষগুলোর রোজগারও প্রায় বন্ধের পথে। শুধু বেঁচে থাকার তাগিদে অনেক কষ্টে যারা এ পেশা এখনও আঁঁকড়ে ধরে আছেন তাদের যেন কষ্টের শেষ নেই। জেলার রামগতি উপজেলার করুণানগরের চন্দ্রমোহন পাল কয়েক পুরুষ পূর্ব থেকে মৃিশল্পের কাজ করতেন। বর্তমানে এ পরিবারের লোকজন অন্য পেশা বেছে নিলে মাটির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এভাবেই অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।সরেজমিনে সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ধর্মপুর গ্রামের কুমার বাড়ি ও দালাল বাজার গঙ্গাপুর পাল বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, এ দু’বাড়িতে ৩০টি মৃিশল্প পরিবার রয়েছে এবং রামগতি করুনানগর, রামগঞ্জের জয়পুর, রায়পুর বাজারসহ জেলার প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার মৃিশল্পের সাথে জড়িত রয়েছেন। এখনও তাদের প্রধান পেশা এটি। তবে মাটির তৈরি জিনিসপত্র আর আগের মতো না চলায় সংসারে তাদের অভাব অনটন লেগেই থাকে। সেখানে গিয়ে কথা হয় অনিল চন্দ্র পাল, শিল্পী রানী পাল, নেহার বালা পাল, ঝর্ণা রানী পাল, বীনা রানী পাল, বিনোদ পালসহ একাধিক মৃিশল্পীর সঙ্গে। তারা জানায়, পূর্ব পুরুষের পেশা থেকে মৃিশল্পের ওপর নির্ভরশীল তারা। আগের ন্যায় বিনা পয়সায় মাটি না পাওয়ায়, মাটির রঙ, লেবার, খড়ি, প্রভৃতির সংগ্রহ মূল্য বেড়ে যাওয়ায় উত্পাদন খরচ অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি সরকারি পৃষ্ঠপোশকতার অভাব এবং প্লাস্টিক শিল্পের কারণে মাটির তৈরী জিনিসপত্র আগের মতো কদর না থাকায় সংসারে অভাব অনটন এখন তাদের নিত্য দিনের সঙ্গী।মৃিশল্পী ঝর্ণা রানী পাল জানান, এ পেশায় জড়িত থেকে ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। মাটির তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা আগের মতো না থাকায় অভাব অনটনে ঢিমেতালে সংসার চলছে তাদের। সরকারের সহযোগিতা ও কম সুদে ঋণ পেলে তারা লাভবান হতেন এবং তাদের অনুকরণ করে অনেকেই এই শিল্পে আবার আগ্রহী হয়ে উঠতেন।