শ্রী শ্রী বুড়াকর্তার আসল নাম ওঁ রাধাকান্ত সোহাং স্বামীজি। তিনি বাংলা ১১৮৫ সালে জন্ম গ্রহণ করেন এবং ১২৯৫ সালের মাঘী সপ্তমী তিথিতে পরলোক গমন করেন। পরস্পর ধর্মালাপ, সাধুসঙ্গ, সিচন্তা, সদভ্যাস ইত্যাদি ছিল তার চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য। তার মাতা-পিতাও ধর্মপরায়ন ছিলেন। তাদের এই ধর্মনিষ্ঠভাবই পরবর্তী জীবনে শ্রী শ্রী বুড়াকর্তার সত্য প্রতিষ্ঠার কর্মে ও ধ্যানে প্রতিবাহিত হয়েছিল। পিতার সহচার্যে তিনি রামায়ণ, মহাভারত ও শ্রী মদ্ভাবত্ গীতা সম্বন্ধে জ্ঞানার্জন করেন।
শ্রী শ্রী বুড়াকর্তা বিদ্যালয়ের ধারাবাহিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাননি। তবে তিনি যে কোন বিষয়ে তত্ত্বজ্ঞান হূদয়ঙ্গম করার মত শিক্ষা লাভ করেছিলেন। তিনি ২৫ বছর বয়সে রাধামঞ্জুরি নামে এক ধর্মানুরাগী নারীকে বিয়ে করেন। শ্রী শ্রী বুড়াকর্তার ছেলে রাজচন্দ্র অধিকারী ছিলেন তার বংশের একমাত্র প্রদীপ।
পরলোক গমনের পর শ্রী শ্রী বুড়াকর্তাকে নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার সাহাপুর গ্রামে তার ভক্ত ক্ষেত্রমোহন চক্রবর্তীর বাড়িতে সমাহিত করা হয়। বাড়িটি নদী ভাঙ্গনের মুখে পড়লে তার দেহাবশেষ স্থানীয় দেবমন্দিরে সংরক্ষণ করা হয়। পরের বছর রামগতি পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চর ডাক্তার গ্রামে তার কঙ্কাল পুনরায় স্থানান্তরিত করা হয়। এর পর ওই সমাধিকে ঘিরে বুড়াকর্তার ভক্তরা একটি আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন।
আশ্রম কমিটির সভাপতি বাবু প্রনদা কান্ত দাস ও সাধারণ সম্পাদক জীবন কৃষ্ণ দাস জানান, প্রতি বছর শুক্ল পক্ষের মাঘী সপ্তমী তিথিতে শ্রী শ্রী বুড়াকর্তার তিরোধান উত্সব পালন করা হয়। উত্সবে বুড়াকর্তার দেশি ও বিদেশি ভক্তরা সমবেত হন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকেও অনেক ভক্ত এই উত্সবে যোগ দেন।
