মজুচৌধুরীর হাট হতে পারে মনোরম পর্যটন কেন্দ্র

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:১৬
উপকূলীয় জনপদ লক্ষ্মীপুরে হাতছানি দিচ্ছে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা। পর্যটন শিল্প অনগ্রসর এই জেলার মেঘনা তীরবর্তী মজু চৌধুরীর হাট হতে পারে এক সম্ভাবনাময় পর্যটনের জায়গা। মনোমুগ্ধকর পরিবেশ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর, বিশাল জলরাশি যা সহজেই পর্যটকদের মুগ্ধ করে। জেলা শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত লক্ষ্মীপুর মজু চৌধুরীর হাট। ভৌগলিক অবস্থান আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ঘিরে এখানে গড়ে উঠতে পারে সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র। মজু চৌধুরীর ঘাট এলাকায় চারদিকে বাগান বেষ্টিত রাস্তার দুই পাশ জুড়ে রয়েছে আকাশমণি ও পাহাড়ি গাছের সমারোহ। সবুজ শ্যামল স্নিগ্ধ মনোরম পরিবেশ। রহমতখালী নদীর ওপর আধুনিক কারুকার্যে স্থাপিত সুদৃশ্যমান সুইচগেট। নয়াভিরাম প্রাকৃতিক নৈসর্গ, ভাসমান মাছ চাষ, নৌকা ভ্রমণে মেঘনা নদীর মোহনা, নতুন জেগে ওঠা চর, প্রতিনিয়তই জেলা ও জেলার বাইরের দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। শত ব্যস্ততার মাঝেও ছুটির দিন কিংবা বিশেষ দিনে তরুণ-তরুণী, নবদম্পত্তি ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষদের পদচারণে মুখরিত হয়ে উঠে এ স্থানটি। তবে ভ্রমণপিপাষুদের থাকা খাওয়ার ভালো হোটেল-মোটেল না থাকায় এখানে আসা পর্যটকদের পোহাতে হয় নানা ভোগান্তি। নদীতে বিপদ সংকেত কিংবা উত্তাল তরঙ্গ থাকলে প্রায়ই আটকে পড়তে হয় যাত্রীদের। তাছাড়া পুলিশ ফাঁড়ি না থাকায় নিরাপত্তা নিয়েও উত্কণ্ঠায় ভোগেন পর্যটকরা। কখনো কখনো মুখোমুখি হতে হয় বিব্রতকর পরিস্থিতির। সমপ্রতি মজু চৌধুরীর হাটে ফেরি ঘাট চালুর মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলের একুশটি জেলার সাথে এ স্থানের সহজ যোগাযোগের সেতু বন্ধন রচিত হওয়ায় বাড়ছে পর্যটকদের আনাগোনাও। তাই ভৌগোলিক অবস্থানের কথা বিবেচনা করে এখানে পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন জেলাবাসী। পর্যটন শিল্পকে ঘিরে সরকারের লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আয়েরও সুযোগ রয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা লোকজন জানান, এ স্থানে পর্যটন শিল্প স্থাপন করা হলে স্থানীয় উন্নয়নসহ এ অঞ্চলবাসীর বিনোদনের চাহিদা পূরণ হবে। মজুচৌধুরীর ঘাটে পর্যটন শিল্প গড়ে উঠতে প্রয়োজন সরকারি বেসরকারি উদ্যোগ।