মোহামেডানের নাটকীয় জয়

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৫৪
জয়ের জন্য শেষ ওভারে দরকার পাঁচ রান। প্রথম দুই বলে কোনো রান নেই। তৃতীয় বলে ক্যাচ তুলে দিলেন মোক্তার আলী; পয়েন্টে সে ক্যাচ আল-আমিন ধরতে তো পারলেই না, হয়ে গেল চার রান! এবার তিন বলে চাই এক রান। আবার দুই বলে রান নেই। পরিস্থিতি দাঁড়ালো সেই আইসিসি ট্রফির মতো—এক বলে এক রান! হ্যাঁ, এমনই স্নায়ুর এক খেলা জমে উঠল কাল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে। আগের মতো দর্শকরা ঢোল বাজিয়ে, শহর কাঁপিয়ে, তাণ্ডব করে সমর্থকরা আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ জমিয়ে দিতে পারলেন না; কিন্তু খেলোয়াড়দের তরফে উত্তেজনার অভাব রইল না। আর তুমুল ক্রিকেটীয় উত্তেজনায় ভরা এই ম্যাচে শেষ হাসিটা হাসল মাশরাফি বিন মুর্তজার মোহামেডান। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীকে কাল মিরপুরে ৩ উইকেটে হারিয়ে মোহামেডান চলে এলো এককভাবে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে। টসে জিতে আবাহনীকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন মোহামেডান অধিনায়ক মাশরাফি। নিজেই বল হাতে পুরোনো রূপে ফিরে আসতে থাকায় আবাহনীর শুরুটা খুব ভালো হয়নি। দলীয় ৩২ রানেই দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দেন দেশসেরা পেসার মাশরাফি; এর মধ্যে আবাহনী অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফীসের উইকেটও আছে। তারপরও আবাহনী দারুণভাবে খেলায় ফিরে এসেছিল। মূলত মিডল অর্ডারে চার ব্যাটসম্যানের কার্যকর প্রতিরোধে দিব্যি বড় পুঁজির দিকে এগোচ্ছিল আবাহনী। চতুর্থ উইকেটে থারাঙ্গা পারানাভিতানা ও মোসাদ্দেক হোসেন ৯৭ রানের জুটি করেন। ৯১ বলে ৬১ রান করে আউট হয়ে ফেরেন পারানাভিতানা। তবে এরপরও তরুণ মোসাদ্দেকের ইনিংস লম্বা হয়েছে। থিলান কানডাম্বিকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে তিনি যোগ করেন ৭৬ রান। শেষ পর্যন্ত মোসাদ্দেক ও কান্ডাম্বি দুই জনই মাশরাফির শিকার হয়ে ফেরেন। মোসাদ্দেক আউট হওয়ার আগে ৬৭ বলে ৩টি চার ও ৪টি ছক্কায় সাজানো ৭৬ রানের ইনিংস খেলে ফেরেন। মূলত ৪০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে মাশরাফিই এরপরও আবাহনীর স্কোর তিনশ স্পর্শ করতে দেননি। শাহরিয়ার নাফীসের দল শেষ পর্যন্ত ইনিংসের এক বল বাকী থাকতেই ২৮২ রানে অলআউট হয়ে যায়। জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই নাটকীয়ভাবে বাক নিতে শুরু করে মোহামেডানের ইনিংস। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ওপেনার জুপিটার ঘোষ ও নবম ওভারে উপল থারাঙ্গা আল আমিনের জোড়া আঘাতে ফিরে যাওয়ায় ম্যাচ আবাহনীর দিকে হেলে পড়েছে বলেই মনে হচ্ছিল; কিন্তু এই সময় সামসুর রহমানের সঙ্গে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলেন দিলশান। শ্রীলঙ্কান এই মারকুটে ব্যাটসম্যান আউট হওয়ার আগে ৫১ রান করেন। এরপর আবার একটু পিছিয়ে পড়তে থাকে মোহামেডান। পঞ্চম উইকেটে মোহাম্মদ নবীকে নিয়ে ৮৭ রানের জুটি করে আবার মোহামেডানকে কক্ষপথে নিয়ে আসেন সামসুর রহমান শুভ। নবী ফিরে যাওয়ার পর অধিনায়ক মাশরাফিও ১২ বলে ১৮ রান করে জয়ের দিকে এগিয়ে দেন দলকে; কিন্তু পর পর দুই ওভারে মাশরাফি ও ধীমান ঘোষ আউট হয়ে যাওয়ায় পর আবাহনী একেবারে জয় দেখতেই পাচ্ছিল। এই সময়ই সেঞ্চুরি পূর্ণ করে মুক্তার আলীকে সঙ্গে নিয়ে নাটকীয় সেই জয় এনে দেয়া জুটি করেন শুভ। অষ্টম উইকেটে শুভ ও মুক্তারই ৩৭ রান যোগ করে জয় এনে দেন মোহামেডানকে। এই জয়ে মোহামেডান যেমন শীর্ষে উঠে গেল, তেমনই আবাহনী ৩ ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে তলানির দিকে চলে গেল। স ং ক্ষি প্ত স্কোর আবাহনী লিমিটেড—মোহামেডান এসসি আবাহনী লিমিটেড : ৪৯.৫ ওভারে ২৮২/১০ (থারাঙ্গা পারানাভিতানা ৬১, মোসাদ্দেক হোসেন ৭৬, থিলান কানডাম্বি ৪৯; মাশরাফি ৪/৪০, মুক্তার আলী ৩/৪৬, মো. নবী ২/৪০)। মহামেডান এসসি : ৫০ ওভারে ২৮৩/৭ (তিলকারত্নে দিলশান ৫১, শামসুর রহমান ১০৫*, মো. নবী ৪৭; আল-আমিন ২/৫১, নাবিল সামাদ ৩/৫৪)। ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ : শামসুর রহমান শুভ ।ফল : মোহামেডান এসসি ৩ উইকেটে জয়ী কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমি—খেলাঘর এসকেএস খেলাঘর এসকেএস : ৪৮.৩ ওভারে ১৬২/১০ (ফয়সাল হোসেন ৩৪, মোসাদ্দেক ইফতেখার ৩৪*; হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ২/২২, সিকান্দার রাজা ২/২২) কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমি : ৪৭.৪ ওভারে ১৬৪/৭ (মার্শাল আইয়ুব ৬৩, সিকান্দার রাজা ২৭; ফয়সাল হোসেন ৫/২৩, আরিফুল হক ১/১৪)। ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ : ফয়সাল হোসেন ।ফল : কলাবাগান ৩ উইকেটে জয়ী শেখ জামাল ডিসি— প্রাইম দোলেশ্বর এসসি শেখ জামাল ডিসি : ২৯ ওভারে ৯৩/১০ (জুনায়েদ সিদ্দিকী ২৬, জহরুল ইসলাম ২৫; তাইজুল ইসলাম ৬/১৯, সোহাগ গাজী ২/১৬)। প্রাইম দোলেশ্বর এসসি : ২২.৩ ওভারে ৯৪ (তিলকারত্নে সাম্পাথ ১৮, মোমিনুল হক ২৭*; সাফিউল ইসলাম১/১৬, আব্দুর রাজ্জাক ২/৩৯)। ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ : তাইজুল ইসলাম। ফল : প্রাইম দোলেশ্বর ৭ উইকেটে জয়ী