চেলসির এখনও অনেক কিছু দেখানো বাকি আছে, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে গত শনিবার রাতে জয়ের পর এমনই হুঙ্কার দিলেন ক্লাবটির কোচ হোসে মরিনহো। প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা দুটি ম্যাচে বাজে হারের পর ইতালিয়ান এই কোচের অধীনে ফুলহ্যামকে ২-০ গোলে হারায় ব্লুজরা।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে প্রথমে এভারটনের কাছে হার। তারপর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বাসেলের কাছে। সময়টা একদম ভালো যাচ্ছিল না মরিনহোর চেলসির। আর সব মিলিয়ে টানা চার ম্যাচ জয় বঞ্চিত হওয়া চেলসি অবশেষে জ্বলে উঠলো। শনিবার ফুলহ্যামকে ২-০ গোলে হারিয়ে কিছুটা হলেও স্বস্তির বাতাস বইছে চেলসি শিবিরে। এই জয়ের সুবাদে লিগের শীর্ষেও উঠে গেল দলটি। পাঁচ ম্যাচ থেকে চেলসি ও লিভারপুল দুই দলেরই সংগ্রহ ১০ পয়েন্ট। তবে একই দিনে সাউদাম্পটনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়া লিভারপুলের চেয়ে গোল গড়ে এগিয়ে থাকায় প্রথম স্থানে উঠে আসল চেলসি। এর ফলে টানা ৩৪ বছর স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে জয়বঞ্চিত থাকলো ফুলহ্যাম। আর মরিনহোও গড়লেন অনন্য এক রেকর্ড। চেলসির হয়ে টানা ৬৩ হোম ম্যাচে অপরাজিত থাকলেন সাবেক এই রিয়াল মাদ্রিদ কোচ।
স্বস্তি’র এক জয়ের পর ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মরিনহোও ফিরে পেলেন নিজের পুরনো ফর্ম। তিনি বলেন, ‘এভারটনের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে আমাদের অনেক কষ্ট নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছিল। আর আজ (শনিবার) আমরা অনেক স্বস্তি নিয়ে বাড়ি ফিরতে পাচ্ছি। এভারটনের বিপক্ষে ম্যাচটিতে ফলাফল অনেক খারাপ ছিল। তবে, এখনও আমার মনে হয় সেই ম্যাচটিতে আমরা আরও ভাল ফুটবল খেলেছিলাম। সব শেষে পয়েন্ট পাওয়াটাও জরুরী।’
মরিনহো আরও বলেন, ‘বাজে একটা শুরুর পর সবাই বলেছিল, এটাই নাকি এক যুগের মধ্যে চেলসির সবচেয়ে বাজে শুরু। কিন্তু আজ যখন আমি পয়েন্ট টেবিল দেখলাম, তখন আমার দলকেই সবচেয়ে উপরে দেখতে পেলাম। প্রিমিয়ার লিগে এটাই সব থেকে মজার ব্যাপার যে, এখানে প্রত্যেকেই ম্যাচ হারে ও পয়েন্ট হারায়। প্রথম ছয়টি দলের প্রত্যেকেই এক ম্যাচ করে হেরেছে। তাই কোন নাটকেরই সুযোগ নেই।’
তবে নিজেদের মধ্যে উন্নতির আরও সুযোগ দেখছেন মরিনহো, ‘একটা ব্যাপারে আমি সতর্ক যে, আমরা যথেষ্ট পরিমাণ ভাল খেলতে পারছি না। আমরা যথেষ্ট পেশাদার, আর আমরা অনেক পরিশ্রম করছি। সবাইকে আমি বলে দিতে চাই যে, চেলসি’র এখনও দেয়ার অনেক কিছুই বাকি আছে।’
স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে প্রথম দশ মিনিটে বেশ আক্রমণাত্মক খেলে ফুলহ্যাম। কয়েকটি কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল পেতে পেতেও পায়নি তারা। তবে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে মরিনহোর শিষ্যরা।
প্রথমার্ধ গোল শূন্য থাকার পর ৫২ মিনিটে শুরলের শট ফুলহ্যামের গোলরক্ষক ধরতে ব্যর্থ হলে বল চলে আসে অস্কার লুইসের পায়ে। ফিরতি বল পেয়ে বাম পায়ের শটে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন এই ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার।
এরপর বেশ কয়েকটি সুযোগ পায় চেলসি। কিন্তু ফরওয়ার্ডদের ব্যর্থতায় বার বার গোল থেকে বঞ্চিত হয় তারা। অবশেষে ৮৪ মিনিটে কর্নার কিক জন টেরি’র হেডে বল পান নাইজেরিয়ান খেলোয়াড় জন ওবি মিকেল। স্বল্প দূরত্ব থেকে মিকেলের ডান পায়ের শটে শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে চেলসি। ম্যাচের শেষ সময়টুকু রক্ষণাত্মক খেলেই কাটিয়ে দেয় ‘স্পেশাল ওয়ানে’র চেলসি। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।
এক নজরে
নরউইচ সিটি ০ ১ অ্যাস্টন ভিলা
লিভারপুর ০ ১ সাউদাম্পটন
নিউক্যাসল ইউনাইটেড ২ ৩ হাল সিটি
ওয়েস্ট ব্রুমউইচ ৩ ০ স্যান্ডারল্যান্ড
ওয়েস্টহ্যাম ২ ৩ এভারটন
চেলসি ২ ০ ফুলহ্যাম
