প্রথম ম্যাচে মোহামেডানের বিপক্ষে কাছে গিয়ে হার, দ্বিতীয় ম্যাচে আবাহনীর বিপক্ষে জয়; এই দিয়েই প্রাইম দোলেশ্বর বুঝিয়ে দিয়েছিল এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে বড় দলগুলোর সঙ্গে তাদের নাম উচ্চারণ করতে হবে। গতকাল কাগজে-কলমে এবারের লিগের সবচেয়ে শক্তিধর দল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্রিকেট ক্লাবকে হারিয়ে ঘোষণাটা আরও পরিষ্কার করে দিল যেন ফরহাদ রেজার দল। ফতুল্লায় তাইজুল ইসলামের ১৯ রানে ৬ উইকেটের দুরন্ত বোলিংয়ে শেখ জামালকে মাত্র ৯৩ রানে অলআউট করে দিয়ে ৭ উইকেটের বিশাল এক জয় পেয়েছে প্রাইম দোলেশ্বর!
এদিকে পয়েন্ট তালিকার নিচের দিকের দুই দলের লড়াইয়ে খেলাঘরের বিপক্ষে ৩ উইকেটের জয় পেয়েছে কলাবাগান ক্রিকেট অ্যাকাডেমি। ২৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে দলের জয় ঠেকাতে পারেননি খেলাঘরের অধিনায়ক ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স।
ফতুল্লায় শেখ জামাল ও প্রাইম দোলেশ্বরের ম্যাচে প্রথম ইনিংসেই আসলে ভাগ্য ঠিক হয়ে গেছে। সেই ভাগ্যটা এতো দ্রুত, এতো কম ওভারের মধ্যে ঠিক হয়ে গেছে যে, বিস্ময়ের ঘোর থেকে বের হতে পারছেন না শেখ জামালের ব্যাটসম্যানরাও।
টসে হেরে ফতুল্লার লো বাউন্স ও ধীর গতির উইকেটে আগে ব্যাট করতে নেমেছিল শেখ জামাল। একটু ধীরগতিতে হলেও শুরুটা একেবারে যাচ্ছেতাই হয়নি তাদের। ১৩ ওভারে ১ উইকেটে ৬০ রান তুলে ফেলেছিল মুশফিকদের দল। পরের ১৯ ওভারের এক প্রবল ঝড়ে আর ৩৩ রান তুলতে ৯ উইকেট হারিয়ে ৯৩ রানে অলআউট শেখ জামালের ‘বিখ্যাত ব্যাটিং’! জুনায়েদ ২৬, জহুরুল ২৫ ও শেহজাদ ১২ রানে আউট হওয়ার পর আর কেউ দুই অংকের মুখ দেখতে পারেননি। দিলশান মুনাবীরা, মুশফিকুর রহিম, তুষার ইমরান, এলটন চিগুম্বুরারা ধসে পড়লেন তাসের ঘরের মতো।
আর এই ধসিয়ে দেয়ার কাজটা করলেন প্রাইম দোলেশ্বরের এই ম্যাচের নায়ক, বাহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। জুনায়েদ, মুশফিক, শেহজাদকে আউট করে শুরু করেছিলেন। আর নিজের শেষ তিন ওভারে তিন উইকেট নিয়ে অলআউট করে দিয়েছেন তিনি শেখ জামালকে।
অবশ্য এই রান পাড়ি দিতে গিয়ে শুরুটা খুব স্বাচ্ছন্দ্যে হয়নি দোলেশ্বরের। আব্দুর রাজ্জাকের আক্রমণে ৪৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল দোলেশ্বর। তবে আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান মোমিনুল হক অপরাজিত ৩৭ রানের ইনিংস খেলে দল জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন।
বিকেএসপিতেও কাল হয়েছে লো স্কোরিং ম্যাচ। মাসাকাদজা, সিকান্দার রাজাদের আক্রমণে ৪৮.৩ ওভারে ১৬২ রানে অলআউট হয়ে যায় খেলাঘর। ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স ও মোসাদ্দেক ইফতেখার ৩৪ রান করে সংগ্রহ করে সম্মান বাঁচান। বল হাতেও ডিকেন্স চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তার ইনিংসে ৫ উইকেট শিকারকে ব্যর্থ করে দিয়ে মার্শাল আইয়ুবের ৬৩ রানের ইনিংসে ২.২ ওভার হাতে রেখেই জয় পায় কলাবাগান অ্যাকাডেমি।
