অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক আর নয়

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৫৭
নির্বাচনে কারচুপির কারণে এবং দীর্ঘদিন সশস্ত্র বাহিনীর স্বৈরশাসকদের রাজনৈতিক চরিত্রহনন এবং দুর্বৃত্তায়নে আমাদের দেশের এক বিশৃংখল পরিবেশ পরিস্থিতিতে ১৯৯৬ সালে সব রাজনৈতিক দল মিলে দেশের স্বার্থেই নির্বাচনে কারচুপি ঠেকাতে বাধ্য হয়ে নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী তিন মাসের ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ বিধান সংবিধান সংশোধন করে চালু করে। সেই সময়েই বলা হয়েছিল পরীক্ষামূলকভাবে তিনবারের জন্য বিধানটি করা যেতে পারে। কিন্তু তিনবারের তত্ত্বাবধায়কের অভিজ্ঞতা খুব একটা ভালো ফল দেয়নি। বিশেষত শেষবারের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত তিক্ত। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার সেনা শাসনে রূপ নেয় এবং অনন্তকাল ক্ষমতায় থাকার বাসনা নিয়ে কমপক্ষে দুই বছর ক্ষমতা ভোগ করে বাধ্য হয়ে রণেভঙ্গ দেয়। মাননীয় উচ্চ আদালত মামলার রায়ে যথার্থই বলেছেন, অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানের মৌলিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। নির্দলীয় অনির্বাচিত ব্যক্তি জনগণের প্রতিনিধি নয় এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধও নয়। নির্দলীয় হওয়ায় রাজনীতিতেও অনভিজ্ঞ। তদুপরি নিরপেক্ষ ও অনির্বাচিত ব্যক্তিগণ যে বিশেষ দেশ, গোষ্ঠী বা কোন দলের হয়ে অথবা নিজের স্বার্থের অনুকূলে কাজ করবেন না তার গ্যারান্টি কোথায়? যেহেতু এ সকল ব্যক্তি কারও প্রতিনিধিত্ব করে না এবং দায়বদ্ধও নন। ইতিমধ্যে গায়ে মানে না আপনি মোড়ল ধরনের অনেকেই তত্ত্বাবধায়কের প্রধান বা কমপক্ষে সদস্য হওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়েছেন। এটি স্বতঃসিদ্ধ যে, তারা দেশের ভালোর জন্য এটি চাইছেন না। আমাদের দেশের বেশ কয়েকজন বরেণ্য ব্যক্তি কেন যে মাথা ব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলার মত সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়কের পক্ষে বলছেন তা বোধগম্য নয়। আর যাই হোক, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কোন অনির্বাচিত সরকারের বিধান থাকার প্রশ্নই ওঠে না। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, ‘এক মুহূর্তের জন্যও অনির্বাচিত সরকার হতে পারে না এবং অনির্বাচিত কোন ব্যক্তির নিকট তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন না।’ তারপরও দেশের স্বার্থে গণতন্ত্রের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে সব দলের সংসদ সদস্য সমন্বয়ে নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা যেতে পারে সংবিধান সমুন্বত রেখে। কিন্তু কোনমতেই অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর মেনে নেয়া যায় না। মো. হাবিবুল ইসলাম সিডিএ আবাসিক এলাকা আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম