৬শ’ টাকা মজুরি বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে বিপাকে গার্মেন্টস মালিকরা

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:১৩
হঠাত্ করেই অস্থির হতে শুরু করেছে গার্মেন্টস খাত। গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি ৮ হাজার টাকার দাবিতে গত দুই দিন ধরে রাজধানীর উত্তরা, সাভার ও গাজীপুরের বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা অসন্তোষ দেখিয়েছেন। এর রেশ ধরে গাজীপুর ও সাভার এলাকার বেশ কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করতে হয়েছে। গত কয়েক বছর থেকেই শ্রমিকদের বিভিন্ন সংগঠন শ্রমিকদে মজুরি ৮ হাজার টাকার দাবি করে আসলেও কেবল এই দাবিতে এমন হিংসাত্মক প্রতিক্রিয়া এর আগে দেখা যায়নি। এর কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, গার্মেন্টস মালিক পক্ষ সমপ্রতি শ্রমিকদের মজুরি ৬শ’ টাকা বাড়িয়ে ন্যূনতম মজুরি ৩ হাজার ৬শ’ টাকার প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবটি শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন এমনকি সুশীল সমাজ এই প্রস্তাবটিকে হাস্যকর আখ্যা দিয়ে ‘শ্রমিকদের সাথে তামাশা’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাজরীন ও রানা প্লাজার ঘটনার ফলে ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের মধ্যে এটি নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। শ্রমিক নেতা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন ‘ইন্ডাস্ট্রিঅল’ এর বাংলাদেশ কাউন্সিলের মহাসচিব রায় রমেশ চন্দ ও মনে করেন মাত্র ৬শ’ টাকা বাড়ানোর মালিকপক্ষের প্রস্তাবে শ্রমিকদের মধ্যে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়া থেকে অসন্তোষ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল ইত্তেফাককে তিনি বলেন, মালিকদের এমন প্রস্তাব অগ্রহণযোগ্যই নয় হাস্যকরও। নানা কারণে বাংলাদেশের শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি এখন বিশ্বব্যাপী আলোচিত। বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর জন্য সারা বিশ্বে জনমত সৃষ্টি হয়েছে। শ্রমিক নেত্রী নাজমা আক্তার ইত্তেফাককে বলেন, মালিকদের পক্ষ থেকে মাত্র ৬শ’ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাবের পর শ্রমিকদের ক্ষোভ বেড়েছে। বিভিন্ন স্থানে শ্রম অসন্তোষের অন্যতম কারণ এটি। তিনি বলেন, মজুরির প্রস্তাবটি মালিক পক্ষের তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়। এক্ষেত্রে আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই। তবে গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ বলছে, তাদের প্রস্তাবই চূড়ান্ত মজুরি নয়। মজুরি বোর্ড যাচাই-বাছাই ও আলোচনার পর এটি চূড়ান্ত করবে। বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম বলেন, আমাদের প্রস্তাব তো চূড়ান্ত নয়। এর আগে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আমরা একটা প্রস্তাব দিয়েছি। এখন মজুরি বোর্ড অন্য কয়েকটি দেশের মজুরি হার দেখবে। দেশের কারখানা পরিদর্শন করবে। এরপর ন্যূনতম মজুরি কত হতে পারে - তা ঠিক করবে। রায় রমেশ অবশ্য শ্রমিকদের মজুরি কত হতে পারে সে সম্পর্কে একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। তার মতে, তিন বছরের জন্য একটি মজুরি প্যাকেজ ঘোষণা করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ২০১৩ সালে ৮০ মার্কিন ডলার বা ৬ হাজার ১০০ টাকা (প্রতি ডলার ৭৭ টাকা হিসেবে), ২০১৪ সালে ১০০ ডলার বা ৭ হাজার ৭শ’ টাকা এবং ২০১৫ সালে ১২০ ডলার বা ৯ হাজার ২শ’ টাকা করা যেতে পারে। এই মজুরি কার্যকর করবে পোশাক মালিক ও বায়াররা যৌথভাবে।