শিক্ষকদের হাতে ৫ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর মুক্ত হতে না হতেই চাকরি হারানো কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পুনরায় তাকে অবরুদ্ধ করায় উপাচার্যের পদ থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর-উন-নবী।
শনিবার মধ্যরাতে অবরুদ্ধ উপাচার্য মুক্ত হওয়ার পর গতকাল রবিবার বিকাল ৩টা থেকে আবার চাকরি হারানো কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে লাগাতার কর্মসূচি শুরু করার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। গতকাল ঐ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রগতিশীল কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে উপাচার্যকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে সেখানে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন। এ সময় তারা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন।
এ ব্যাপারে গতকাল সন্ধ্যায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর-উন-নবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আজ সোমবার ৩৩৬ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বেতন দেয়ার পর আমি বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে ঢাকা চলে যাবো। ইতিমধ্যে আমার স্ত্রীকে বাংলো থেকে সরিয়ে নিয়েছি। বাংলো খালি করে দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, অনেক আশা নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু এখানে এসে দেখলাম এক গ্রুপ আন্দোলন করে যতোটুকু সফলতা অর্জন করেছে বলে দাবি করে অপর গ্রুপ তা অতিক্রম করার জন্য আবার আন্দোলন করছে। তিনি আরও বলেন, আগের উপাচার্যের নিয়োগ দেয়া ৭৬ জন শিক্ষক, কর্মকর্তার পদ অনুমোদন করে এনে শনিবার রাতে সিন্ডিকেট সভায় পদায়ন করা হয়েছে। ইউজিসি ৩৩৬ জনের বেতন দিয়েছে। বাকি পদগুলোর অনুমোদন প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু কোন শক্তির ইন্ধনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে সেটা আমার বোধগম্য নয়।
সংগঠনের মুখপাত্র ও চাকরি হারানো নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, উপাচার্য চাকরি নিশ্চয়তা প্রদান করলেই কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়া হবে।
