রাবিতে শিবির-ছাত্রলীগ-পুলিশ গোলাগুলি

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:১৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে রবিবার দুপুরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। প্রথমে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। পরে পুলিশ এসে গুলিবর্ষণ করে। এতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুইজন এবং একজন সাধারণ শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে ছাত্রশিবিরের মতিহার হল শাখার সভাপতি আবু সুফিয়ানকে পিঠের বামদিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পুলিশ হেফাজতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া ছাত্রশিবিরের বিজ্ঞান অনুষদের সভাপতি ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী আল ইমরান গ্রেফতার এড়াতে অজ্ঞাত স্থানে চিকিত্সা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তার কোথায় গুলি লেগেছে তা জানা সম্ভব হয়নি। এছাড়া আহত ভাষা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের সাধারণ শিক্ষার্থী ফিরোজ আহমেদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টার থেকে প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়ে সটকে পড়েছেন। তার নাক সামান্য স্পর্শ করে গুলি চলে যাওয়ায় তিনি অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন বলে মেডিক্যাল সেন্টারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চিকিত্সক জানিয়েছেন। গোলাগুলির ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী দাবিদার একাধিক শিক্ষার্থীর ভাষ্যমতে, গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ছাত্রলীগের ১৫-২০ জন কর্মী কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পিছনে ছাত্রলীগের টেন্টে বসে ছিলেন। এ সময় শিবিরের ২০-২৫ জন নেতাকর্মী পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী তখন ডেকে পরিচয় জানতে চাইলে ছাত্রশিবির কর্মীরা দৌড়ে সরে যায়। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, এ সময় শিবির নেতাকর্মীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। তবে ছাত্রশিবির নেতাকর্মীরা দৌড় দিলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কয়েকটি গুলি ছোঁড়ে বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শী দাবিদার সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কিছুক্ষণ পর বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্বরত মহানগর পুলিশের বিশেষ শাখার (সিটিএসবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ কলাভবনের সামনে গিয়ে ভবন লক্ষ্য করে শটগানের কয়েকটি গুলি ও রাবার বুলেট ছোঁড়ে। ওই ভবনে আরবী সাহিত্য, ভাষা, ইসলাম শিক্ষা ও ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস করে থাকে। রামেক হাসপাতাল, পুলিশ ও ক্যাম্পাসসূত্রে জানা গেছে, বুকের বামপাশে গুলিবিদ্ধ ছাত্রশিবিরের মতিহার হল শাখার সভাপতি আবু সুফিয়ানকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখান থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে সুফিয়ানের শরীর থেকে গুলি বের করার জন্য জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চলছিল। এছাড়া ছাত্রশিবিরের বিজ্ঞান অনুষদ শাখার সভাপতি আল ইমরান গ্রেফতার এড়াতে অজ্ঞাত স্থানে চিকিত্সা নিচ্ছেন বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। অসমর্থিত সূত্রগুলো বলছে, আল ইমরান নগরীর নওদাপাড়ায় ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সা নিচ্ছেন। তবে এই হাসপাতালের দায়িত্বশীল কোনো সূত্র থেকে আল ইমরানের সেখানে ভর্তি ও চিকিত্সা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেনি। এছাড়া ফিরোজ আহমেদ প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিত্সা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়ে সটকে পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালে খোঁজ নিয়েও ফিরোজ আহমেদের ভর্তি ও চিকিত্সার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ-এর প্রতিনিধি নাজিম মৃধা অভিযোগ করেছেন, গোলাগুলির ঘটনার ছবি তার মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় তুলতে গিয়ে ছাত্রলীগের কয়েকজন বহিরাগত কর্মীর হাতে মারধরের শিকার হন। এ সময় মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরে ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে তিনি মোবাইল ফোন ফিরে পান। মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুস সোবহান বলেন, কে প্রথম গুলিবর্ষণ করে তা তারা নির্ধারণ করতে পারেননি। তিনি জানান, ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর তারিকুল হাসান মিলন বলেন, ছাত্রলীগ নেতারা দাবি করেছে যে ছাত্রশিবিরের কিছু নেতাকর্মী ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা তৈরির জন্য তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়েছে। এরপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শিবিরের নেতাকর্মীদের পাল্টা ধাওয়া করলে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। প্রক্টর আরো বলেন, ফিরোজ আহমেদ নামের এক শিক্ষার্থীকে তিনি নিজে তার গাড়িতে করে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিত্সা কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন। আরেকজনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানা বলেন, দুপুরে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ আল তুহিনের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে মানববন্ধন কর্মসূচি করতে যাচ্ছিলাম। এই সময় টেন্টে জড়ো হওয়া ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর পাশ দিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের একটি মিছিল যাচ্ছিল। সেখান থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছিল। এ সময় ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী তাদের দিকে অগ্রসর হলে শিবির নেতাকর্মীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে পালিয়ে যায়। প্রতিবাদে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া করে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া বলেন, ‘আমাদের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান শেষে ছাত্রলীগের টেন্টের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তখন ছাত্রলীগের ক্যাডার ও পুলিশ ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি করেছে। এতে ছাত্রশিবিরের মতিহার হল শাখার সভাপতি আবু সুফিয়ানসহ দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।