ইফতারিসহ সকল খাদ্য বিষ ও ভেজালমুক্ত করতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সকলের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
তারা বলেছেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য বিষ ও ভেজালমুক্ত এবং পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। রাষ্ট্রকে আমরা এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে দেখছি না। ফলে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি বিষ ও ভেজালমুক্ত এবং পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য পাওয়ার অধিকার থেকে। সহজপ্রাপ্যতা, আইন প্রয়োগ ও যথাযথ নজরদারির অভাবে এসব ঘটেই চলেছে, যাতে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার কলাবাগানের পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) কার্যালয়ে ‘বিষাক্ত খাদ্য : সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। পবিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, খাদ্যকে ভেজালমুক্ত করা গেলে ক্যান্সার কমপক্ষে অর্ধেকে নেমে আসত। বক্তারা বলেন, নানা ধরনের বিষাক্ত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রস্তুতকৃত নিম্নমানের খাদ্যের কারণে আগামী প্রজন্ম বিভিন্ন গুরুতর অসুখের ঝুঁকি নিয়ে বড় হচ্ছে। দীর্ঘদিন বিষাক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে গর্ভবতী মা ও তার পেটের ভ্রূণের ক্ষতি হয়, সন্তানও ক্যান্সার, কিডনিসহ মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। গর্ভবতী নারীরা জন্ম দিচ্ছে বিকলাঙ্গ শিশু, গর্ভস্থ শিশু স্বল্পবুদ্ধি সম্পন্ন ও প্রতিবন্ধী হওয়ার আশঙ্কাও থাকছে। এসব খাবারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা।
কিডনি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী দেশে দুই কোটির বেশি মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত এবং রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত খাদ্য গ্রহণের ফলেই কিডনি রোগ হচ্ছে। প্রতিমাসে ক্যান্সার, কিডনি ও লিভার রোগী দ্বিগুণ হারে বাড়ছে। খাদ্যের সঙ্গে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ গ্রহণের পর তা নিঃশেষ না হয়ে দেহের ভিতর দীর্ঘদিন জমা থাকে। ফলে এ বিষক্রিয়া বংশ থেকে বংশে স্থানান্তর হয়।
পবার সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান বলেন, পবাসহ পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সচেতন জনগণের দীর্ঘ আন্দোলন, গণমাধ্যম ও হাইকোর্টের ভূমিকার ফলে খাদ্যে ভেজাল ও বিষাক্ত কেমিক্যালের ব্যবহারের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্পরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। র্যাব, সিটি করপোরেশন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ডিএমপি, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই, জেলা প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত স্পেশাল টাস্কফোর্স ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা সত্ত্বেও ক্রমবর্ধমান চাহিদার সুযোগে বেপরোয়া অসাধু ব্যবসায়ীরা। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি এখনো বিপজ্জনক এবং মারাত্মক ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য।
বক্তারা বলেন, জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় সংসদ কর্তৃক সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন করা হলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার যথাযথ উদ্যোগ ও অঙ্গীকারের অভাব, বিষাক্ত খাদ্যের ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকি অনুধাবনে ব্যর্থতার ফলে আমরা জনগণ এর কোনো সুফল পাচ্ছি না। এ অবস্থা চলতে থাকলে ধীরে ধীরে আমরা পঙ্গু জাতিতে পরিণত হবো।
গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান। আরো বক্তব্য রাখেন ইব্রাহিম মেডিক্যাল কলেজের ডা. মো. আবু সাইদ, নাসফের সাধারণ সম্পাদক মো. তৈয়ব আলী, বানিপার সভাপতি প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন, বিজিআরএমর সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. গোলাম হায়দার, হিল-এর সভাপতি মো. জেবুন নেসা প্রমুখ।
