চট্টগ্রামে স্বস্তিতে নেই মনোনয়ন প্রত্যাশীরা

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:২১
চট্টগ্রামের অধিকাংশ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা স্বস্তিতে নেই। চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার ১৬টি আসনে শীর্ষ কয়েকজন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতা ছাড়া বেশির ভাগের মনোনয়ন নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে ওই সকল শীর্ষ নেতার আসনেও একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন বলে জানা যায়। চট্টগ্রামে গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে যারা নির্বাচিত হয়েছিলেন তাদের এবারও মনোনয়ন পাওয়া মোটামুটি নিশ্চিত বলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অভিমত। তবে যারা মনোনয়ন পেয়েও জয়লাভ করতে পারেননি তাদের আসনে প্রার্থিতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। গত নির্বাচনে যে সকল আওয়ামী লীগ নেতা মনোনয়ন পাননি তারা এবার মনোনয়নের জন্য এক প্রকার কোমর বেঁধে নেমেছেন। গত নির্বাচনে চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ ৯টি আসনে জয়লাভ করে। গত নির্বাচনে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো চট্টগ্রামেও বিএনপির ভরাডুবি হয়। ১৬টি আসনের মধ্যে বিএনপি গত নির্বাচনে ৩টি আসনে এবং জামায়াতে ইসলামী ১টি আসনে জয়লাভ করে। এ সকল আসনে বিএনপির প্রার্থিতা অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা বেশি। তবে অন্যান্য একাধিক আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের লবিং-তদ্বির অব্যাহত রয়েছে। আগামী নির্বাচনে বর্তমানের মহাজোট ও জোটের অবয়ব কেমন হয় তাও বিভিন্ন আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিরাট প্রভাব ফেলবে। কারণ মহাজোট ও জোটের প্রার্থীদের আসন দিতে গিয়ে একাধিক আসনে প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে। গত নির্বাচনে চট্টগ্রামে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম এবং জাসদের মাঈনুদ্দিন খান বাদল জয়লাভ করেন। অপরদিকে জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের শামসুল ইসলাম জয়লাভ করেন। এছাড়া গত নির্বাচনে এলডিপি প্রধান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ জয়লাভ করেন। আগামী নির্বাচনে সন্দ্বীপ আসনে মহাজোটের মনোনয়ন কে পাবেন তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। এই আসনে আওয়ামী লীগের মরহুম মোস্তাফিজুর রহমান পরপর দুইবার নির্বাচিত হলেও পরবর্তী সময়ে সেখানে বিএনপি প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা জয়লাভ করেন। এবারও বিএনপি থেকে মোস্তফা কামাল পাশার মনোনয়ন পাবার সম্ভাবনা বেশি হলেও আওয়ামী লীগের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন। একইভাবে ফটিকছড়ি আসনে দীর্ঘদিন পর গত নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী জয়লাভ করেন। যুদ্ধাপরাধের মামলায় তিনি কারা অন্তরীণ থাকার পরও ওই আসনে প্রার্থী বাছাইয়ে তার ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে বলে নেতা-কর্মীদের ধারণা। ওই আসনে সালাউদ্দিন কাদের কিংবা তার পরিবারের কেউ প্রার্থী না হলে যারা মনোনয়ন চাইতে পারেন তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএমএ চট্টগ্রামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী একেএম জয়নাল। এছাড়া রয়েছেন বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফয়জী। ফটিকছড়ি আসনে সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন আওয়ামী লীগের গতবারের পরাজিত প্রার্থী এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরুল আলম চৌধুরী, ফটিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব আহমদ। এছাড়া রয়েছেন উক্ত আসনের সাবেক এমপি মরহুম রফিকুল আনোয়ারের ছোট ভাই এবং একমাত্র মেয়ে। চট্টগ্রাম-৫ হাটহাজারী আসনে গত নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চৌধুরী জয় লাভ করেন। এ আসনে আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাশী চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ সালাম। অন্যদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, বিজিএমইএ-এর সাবেক সভাপতি এসএম ফজলুল হক এবং সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম। হাটহাজারী আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সমর্থক কল্যাণ পার্টির প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিমও মনোনয়ন প্রার্থী। চট্টগ্রামের বাঁশখালী আসনে গত নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর এবারও মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী সুলতানুল কবির। এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে থাকছেন সাবেক চট্টগ্রাম সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। চট্টগ্রামের চন্দনাইশ আসনে এবার জোটের প্রার্থী হিসেবে এলডিপি প্রধান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ওই আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার আফসার উদ্দিন চৌধুরী রয়েছেন। সাতকানিয়া আসনে এবার আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ওই আসনে গত নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী শামসুল ইসলাম জয়লাভ করেন। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া আসনে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি এবারও আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে থাকছেন বলে অনেকেরই ধারণা। এ আসনে গত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি জেলে রয়েছেন। চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার অন্যান্য আসনে মনোনয়ন প্রার্থীদের তেমন একটা পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে সংশ্লিষ্ট মহাজোট ও জোটের নেতা-কর্মীদের অভিমত।