পক্ষে-বিপক্ষে কর্মসূচি নিয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:২২
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৮তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিউইয়র্কে অবস্থানকালে সবখানেই কালো পতাকা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করবে ত্রিধাবিভক্ত যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন। প্রতিবছরের মত প্রধানমন্ত্রীর অবতরণের পর বিমানবন্দর, হোটেল গ্র্যান্ড হায়াত, জাতিসংঘ সদর দপ্তর এবং সংবর্ধনাস্থল হোটেল হিলটনের আশেপাশে এসব কর্মসূচি পালন করবে তারা। বিএনপি এই বিক্ষোভ কর্মসূচির নাম দিয়েছে ‘যেখানে হাসিনা, সেখানেই প্রতিরোধ।’ অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী ও দলের প্রধানকে বিমানবন্দর এবং জাতিসংঘের সামনে স্বাগত জানাবে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন। দুইপক্ষই কর্মসূচি সফল করতে নিউইয়র্ক পুলিশের কাছ থেকে পূর্বানুমতি নিয়ে রেখেছে। জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে স্থানীয় সময় সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় (বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত সাড়ে ১০টা) নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। বিক্ষোভ কর্মসূচির কারণে জাতিসংঘ নিরাপত্তা কর্মীরা প্রতিবারই বিমাবন্দরের পেছনের দরজা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে যান। এবারো এর ব্যতিক্রম হবে না। প্রধানমন্ত্রীর দেখা না পেলেও সেখানে সকাল ৭টা থেকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করবে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ সম্রাট জানান, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন ও জেল-জুলুম এবং সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের হত্যা-সন্ত্রাসের প্রতিবাদে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিমানবন্দরে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হবে। তিনি জানান, শুধু রাজনৈতিক কারণেই এ বিক্ষোভ নয়, বর্তমান সরকার প্রবাসীদের দেয়া কোনো প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। বিশেষ করে প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে বিমান চালু করতে পারেনি। এদিকে দেখা না মিললেও প্রধানমন্ত্রী ও দলের প্রধান শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে সোমবার সকাল থেকে বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত থাকবেন। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। সংগঠনের সহ-প্রচার সম্পাদক তৈয়বুর রহমান টনি জানান, বিমানবন্দরে সংবর্ধনা জানানোর সময় গত ৫ বছরে মহাজোট সরকারের সাফল্যগাঁথা ব্যানার ও ফেস্টুনের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। তিনি জানান, শুধু বিমানবন্দরেই নয়, ২৭ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণদানের সময় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাতে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী শান্তি সমাবেশে সমবেত হবেন। সেখানেও সরকারের সাফল্য ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড ও বুকলেটের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে। তৈয়বুর রহমান টনি আরো জানান, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে জাতিসংঘের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে। প্রতিবছর বিএনপির এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তির দাবিসম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন থাকে। আসলে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর কৌশল হিসাবে বিএনপির ব্যানারে জামায়াত প্রতিবছর জাতিসংঘের সামনে এ ধরনের কর্মসূচি পালন করে আসছে। এদিকে প্রতিবছরের মত এবারো নিউইয়র্কে সার্বজনীন গণসংবর্ধনা দেবে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। ইতিমধ্যে একটি সংবর্ধনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। পদাধিকারবলে কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব হয়েছেন যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ। কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী।