শরীর আর মনকে নিমিষেই চাঙা করে তোলার জন্য কফির বিকল্প কোনো পানীয় খুঁজে পাওয়া খানিকটা কষ্টকরই বটে। আর কফি নামের এই পানীয়টির এই গুণের কারণেই জ্বালানি তেলের পর বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পরিমাণে বিক্রি হয় যে পণ্যটি সেটি হলো কফি। ধারণা করা হয় যে, কফি গাছের পাকা ফল কাজে লাগিয়ে যে এ ধরনের একটি পানীয় তৈরি করা যায় সে বিষয়টি মানুষ প্রথম জানতে পারে নবম শতকের মাঝামাঝি সময়ে। এর শুরুটা হয়েছিল ইথিওপিয়া থেকে। সে সময় অর্থাত্ আনুমানিক ৮৫০ খ্রিস্টাব্দে আরব ব্যবসায়ীরা ইথিওপিয়া থেকে কফি বীজ আরবে বয়ে নিয়ে যান। প্রথম দিকে কফি বীজের এই ব্যবহার শুধুমাত্র আরবদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও কালক্রমে তাদের কাছ থেকেই এটি বিস্তৃত হয় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। যদিও কফির ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে কেউ কেউ ইথিওপিয়ারও আগে মধ্য আফ্রিকার কথা উল্লেখ করে থাকেন। এ দলের দাবি, মধ্য আফ্রিকা থেকে ইথিওপিয়ায় কফি বীজ এসেছিল সিভেট নামের একধরনের বিড়ালের মাধ্যমে যারা মধ্য আফ্রিকা থেকে কফির বীজ তথা গাছকে ছড়িয়ে দিয়েছিল ইথিওপিয়াতে। এদিকে বাণিজ্যিক ভাবে কফির উত্পাদন ও বিপণনে প্রথমেই যাদের নাম আসে তারা হলেন ইতালির ভেনিস নগরীর ব্যবসায়ী। ১৬১৫ সালে এদেরই হাত ধরে ইউরোপে কফি বাণিজ্যের বিস্তার ঘটে। এমনকি ১৬২৩ সালে ইউরোপের প্রথম কফি হাউসটিও যাত্রা শুরু করে এই ভেনিস নগরীতেই। এদিকে ১৬১৬ সালে ডাচরা কফি নিয়ে যায় হল্যান্ডে এবং সেই সাথে ইন্দোনেশিয়ার ডাচ কলোনিগুলোতেও কফির আবাদ শুরু করে এই ডাচরা। আমেরিকায় ১৬৬৮ সালের দিকে প্রথম কফি ব্যবহারের কথা জানা যায়। অবশ্য ১৭২০ সালে লাতিন আমেরিকায় কফির চাষবাস শুরু হয়। সে সময় ফরাসি, ব্রিটিশ এবং ডাচরা লাতিন আমেরিকায় কফির প্রচলন ঘটান। তবে পরিচিতির দৌড়ে আমেরিকায় কফি সবচেয়ে দেরিতে পৌঁছালেও বর্তমানে উত্তর আমেরিকাই কফির সবচেয়ে বড় ভোক্তা এবং মার্কিনিরা প্রতি বছর গড়ে ১১০ বিলিয়ন কাপ কফি খায়। উল্লেখ্য কফি গাছ সাধারণত উচ্চতায় ২০ থেকে ৩০ ফুট হয়। উজ্জ্বল সবুজ রঙের পাতার আকার হয় ডিম্বাকৃতি, ফুলের রং সাদা। এই ফুল থেকেই থোকা থোকা ফল ধরে যার রং হয় প্রথমে হালকা সবুজ, পরে লাল এবং সব শেষে গাঢ় বাদামী রং। ফলের ভিতরে মিষ্টি শ্বাসে আবৃত দুটি বীজ থাকে। কফির এই পাকা বীজ ১৫ দিনের মতো রোদে ফেলে রাখা হয়। তারপর পুড়িয়ে গুঁড়ো করে কফি তৈরি হয়। এ ছাড়া কফি বীজটি পানিতে ধুয়ে গাজিয়ে নেওয়ার পর তা পুড়িয়ে গুঁড়ো করেও কফি গুড়ো তৈরি করা যায়। আর ইংরেজিতে শব্দ হিসেবে কফি এই শব্দটির প্রচলন হয় ১৫৯৮ খ্রিস্টাব্দে ডাচ শব্দ coffie থেকে।
