বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ডামাডোলে শঙ্কায় এবারের ঈদের সিনেমা বাজার!

আপডেট : ১৭ মে ২০১৯, ২২:০০

আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা নাজুক হলেও অন্তত ঈদ মৌসুমে একটা নতুন ডামাডোল তৈরি হতো। কিন্তু চলচ্চিত্রের ব্যবসা ক্রমেই নাজুক হতে হতে সেই জৌলুসটাও যেন হারাতে বসেছে। অনেকের মনেই তাই প্রশ্ন এবারের ঈদে ছবির বাজার কেমন হবে। চলচ্চিত্র পাড়ায় মূলত দুটি সফল অঙ্ক রয়েছে। তা হলো ঈদে যদি শাকিব খানের একটি ভালোমানের ছবি তৈরি করা যায় তাহলে তা লাভজনক হয়। এটি একটি সরল সমীকরণ। কিন্তু একা শাকিবের ওপর আর প্রত্যাশার চাপ আমরা কতটাই বাড়াবো। তাই সফল নায়িকার অঙ্কও তেমন। যদি তুমি হও শাকিব খানের নায়িকা তবেই তুমি সফল। এরই ভেতরে একটি লাইভ অনুষ্ঠানে প্রতিভাবান নায়িকা তানহা তাসনিয়া বলেই ফেললেন, শাকিব খানের সাথে বিনা পারিশ্রমিকে তিনি ছবি করবেন। কারণ ক্যারিয়ার প্রশ্ন এখানে।

এদিকে হল ডিস্ট্রিবিউটররা ঈদে শাকিবের ছবি হলে এমজি (মিনিমাম গ্যারান্টি)’র অর্থ দিতে চান। নয়তো গত ২/৩ বছরে কোনো ছবির লগ্নির টাকা প্রযোজক পেয়েছেন কি-না সেটিই বড় প্রশ্ন। তবে এবারের ঈদটা কেমন হবে? এর ভেতরে মরার ওপর খাঁড়ার ঘাঁ হলো ঠিক ঈদ মৌসুমেই শুরু হচ্ছে ক্রিকেট বিশ্বকাপ।

যার প্রতি এদেশের দর্শকদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। এখন ক্রিকেট বিশ্বকাপের মোহ ফেলে হলে গিয়ে ঈদের ছবি দেখবে এটা ভাবাটা খুবই কষ্টসাধ্য। শাকিব খান বলেন, ‘পাসওয়ার্ড ছবিটি নিয়ে আমি আশাবাদী। কারণ একটি ভিন্ন ধরনের গল্পে ছবিটি তৈরি। তবে এবারে ঈদেই যেহেতু ক্রিকেট বিশ্বকাপ পড়ে গেছে, সেক্ষেত্রে কিছু রিস্ক তো থেকেই যায়।’ শাকিব-বুবলী জুটির ‘পাসওয়ার্ড’ পরিচালনা করছেন মালেক আফসারী। ছবিটির এখনো শুটিং চলছে তুরস্কে। একবার ভাবুন তো ঈদের মাত্র ক’দিন বাকি। অথচ ঈদের ছবির শুটিং এখনো চলছে। টিজার, ট্রেলর, তারকাদের ক্যাম্পেইন এসব না দেখে কিভাবে একটি ছবির পরিপূর্ণ সফলতা কেউ প্রত্যাশা করে। অথচ এভাবেই চলছে আমাদের চলচ্চিত্র শিল্প। নানা হতাশার ভেতরেও আশার খবর হলো এর ভেতরেও একঝাঁক নির্মাতা ছবি তৈরির নেশায় পড়ে দর্শকদের কিছু না কিছু উপহার দেওয়ার চেষ্ট করছেন। কিন্তু ক্রমান্বয়ে ছবির লগ্নি উঠে না আসা, ছবির বাজার মন্দা, শাকিব বিহীন ছবিতে টাকা না পাওয়ার আশঙ্কায় আজ ঈদের ছবিতেও সফলতা পাওয়ার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারছে না। এর ওপর এবারের ঈদে ক্রিকেট বিশ্বকাপ হওয়ায় নায়ক-প্রযোজকরা ছবির সফলতা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। এ প্রসঙ্গে বুবলী বলেন, ‘ঈদে আর যাই হোক শাকিব-বুবলী জুটির জন্য সবারই একটা অপেক্ষা থাকে। তাই আমি কোনো ভয় দেখছি না।’

অন্যদিকে শাকিব-ববি জুটির ছবি ‘নোলক’ এবারের ঈদে মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও খোদ শাকিব খানই ছবিটির কথা কোথাও বলেন না। এই দৃশ্য অবশ্য গত কয়েকবছর ধরেই চলমান। শাকিব খান প্রতি ঈদেই নিজের দু-একটি ছবির বিরোধীতা করেন। এর কারণ প্রসঙ্গে শাকিব খান বলেন, ‘দেখুন, প্রত্যেকেরই কাজ অনুযায়ী একটা ক্যারিয়ার প্ল্যান থাকে। এখন কেউ যদি বৈশাখের ছবি বলে আমার কাছ থেকে কাজ করিয়ে সেটা ঈদে মুক্তি দেয় তখন আমার কী করার আছে। এটা তো প্রতারণা।’

এরপরও ঈদকে কেন্দ্র করে ছবি পাড়ায় উত্সবের রঙ ছড়াক সেটিই সকলের প্রত্যাশা। ঈদে মুক্তি প্রতীক্ষায় রয়েছে নিরব ও সোহানা সাবা অভিনীত সাইফ চন্দন পরিচালিত ‘আব্বাস ওটু’, দীর্ঘদিন ধরে মুক্তি প্রতীক্ষিত ছবি কামরুজ্জামান কামু পরিচালিত ‘দ্য ডিরেক্টর’সহ আরো কিছু ছবি। স্ব স্ব ছবির কলাকুশলীরা স্বপ্ন দেখছেন তাঁদের ছবিই ব্যবসাসফল হবে। এমন প্রত্যাশার বালিঘড়িই আমাদের শিল্পকে আজো বাঁচিয়ে রেখেছে।