ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা করার দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো সড়ক-মহাসড়কে নেমে বিক্ষোভ করেছেন গার্মেন্টসের শ্রমিকরা। গতকাল রাজধানী ছাড়াও গাজীপুর, টঙ্গি, সাভার, কালিয়াকৈর ও রাজধানীর আশপাশের বিভিন্ন গার্মেন্টসের শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। রাজধানীতে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় দু’টি মটরসাইকেলে আগুন আর কিছু যানবাহনে ইট পাটকেল ছোড়া হয়। আর গাজীপুরে আনসার ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে ৪টি রাইফেল ও ১৬০ রাউন্ড গুলি লুট করে নিয়ে যায়। পরে রাইফেল ৪টি পাশের একটি ডোবা থেকে উদ্ধার হলেও ১৩৫ রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়নি। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায় তিন ঘণ্টা এবং সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ঘণ্টাখানেক যান চলাচল বন্ধ থাকে। এছাড়া শ্রমিকরা রাজপথে নামার কারণে রাজধানীতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিকরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। বিশৃঙ্খলা এড়াতে রাজধানী ও গাজীপুরসহ আশপাশের সব গার্মেন্টসেই গতকাল ছুটি ঘোষণা করা হয়। গার্মেন্টস মালিকরা বলেছেন, নিরাপত্তা পেলে আজই তারা কারখানা চালু করতে চান।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও অঞ্চলের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার জানান, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের নাবিস্কো এলাকার বিভিন্ন কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক সকাল ১০টার দিকে রাস্তায় নেমে আসে এবং টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। শ্রমিকরা কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে এবং দু’টি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়। তাদের অবরোধের কারণে গুলশান-তেজগাঁও লিংক রোডে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ টিয়ার শেল ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে বেলা ১১টার দিকে ওই সড়কে আবার যান চলাচল শুরু হয়। এদিকে নাবিস্কোর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পরপরই বিক্ষোভ শুরু হয় মহাখালীতে। তিতুমীর কলেজের কাছে গার্মেন্টের শ্রমিকরা সড়কে নেমে মিছিল শুরু করলে যান চলাচল বিঘ্নিত হয় বলে জানিয়েছেন মহানগর পুলিশের গুলশান অঞ্চলের উপ-কমিশনার লুত্ফুল কবীর। প্রায় একই সময়ে বনানী ও ফার্মগেইট এলাকাতেও শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাজধানীর মালিবাগে গতকাল বিকেল ৩টার দিকে গার্মেন্টস শ্রমিকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় পুলিশ শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়ার জন্য কয়েক রাউন্ড ফাঁকা রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিতে শ্রমিকরা একটি মিছিল বের করে। মিছিলটিকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে মিছিলকারীরা বিভিন্ন অলিগলিতে চলে যায়। তবে এতে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। রমনা থানার এসআই আলী হোসেন জানান, বেতন ভাতার দাবিতে শ্রমিকরা একটি মিছিল বের করলে তাদেরকে সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়। কিন্তু তারপরও তারা রাস্তায় বসে পুলিশকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ হয়।
গাজীপুরে আনসারের অস্ত্র ও গুলি লুট
গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, গতকাল সোমবারও গাজীপুর জেলা সদরের বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানায় বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ, যানবাহন ভাংচুর, অবরোধ করেছে শ্রমিকরা। একটি গার্মেন্টসে আনসারদের অস্ত্র ও গুলি লুটের ঘটনা ঘটেছে। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে গতকাল সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ভোগড়া বাইপাস মোড় এলাকায় কলোসাস এ্যাপারেলস লিঃ ইউনিট-২ তে বহিরাগত শ্রমিকরা হামলা চালায়। তারা জোরপূর্বক গেইট ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করতে চাইলে আনসার সদস্যরা তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। এ সময় বহিরাগত উত্তেজিত শ্রমিকরা ওই কারখানার গেইট ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে আনসার সদস্যদের বেধড়ক মারধর করে চারটি রাইফেল ও ১৬০ রাউন্ড গুলি লুট করে নিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ভোগড়া বাইপাস মোড় এলাকায় কলোসাস এ্যাপারেলস লিঃ ইউনিট-২ তে বহিরাগত শ্রমিকরা হামলা চালায়। তারা প্রথমে কারখানার প্রধান ফটকের কাছে গেলে কারখানার নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার সদস্যরা শ্রমিকদের বাধা প্রদান করেন। এক পর্যায়ে তারা জোরপূর্বক গেইট ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করতে চাইলে আনসার সদস্যরা তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। এ সময় বহিরাগত উত্তেজিত শ্রমিকরা ওই কারখানার গেইট ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে আনসার সদস্যদের বেধড়ক মারধোর করে ৪টি রাইফেল ও ১৬০ রাউন্ড গুলি লুট করে নিয়ে যায়। তারা কারখানার অভ্যন্তরে একটি মাইক্রোবাস, কারখানার জানালার কাঁচ, আনসার সদস্যদের গার্ডরুম, সিসি ক্যামেরা, কম্পিউটার ও আসবাবপত্র ভাংচুর করে। পরে অন্য আনসার সদস্যরা কারখানার পার্শ্ববর্তী একটি ড্রেন থেকে ভাঙ্গা অবস্থায় ৪টি রাইফেল উদ্ধার করলেও ১৩৫ রাউন্ড গুলির কোন সন্ধ্যান পাওয়া যায়নি। বহিরাগত শ্রমিকদের হামলায় আনসার সদস্য আলম মৃধা, মাহে আলম ও রায়হান গুরুতর আহত হন। তাদেরকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় ওই কারখানার আনসার কমান্ডার আপন মোল্লা, শেখর, তরিকুল ইসলাম ও আবুল কালাম আহত হন। সকাল দশটার দিকে গাজীপুর জেলা আনসার এ্যাডজুটেন্ট আলমগীর হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কলোসাস এ্যাপারেলস লিঃ এর ম্যানেজার নূরে আলম জানান, তাদের কারখানায় এক হাজার শ্রমিক কাজ করলেও বেতন ভাতা নিয়ে তাদের কোন অভিযোগ নেই। কিন্তু বহিরাগত শ্রমিকরা এসে জোরপূর্ব কারখানায় হামলা চালালে বাধ্য হয়ে ভাংচুর এড়াতে নিজেদের কারখানার শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দেয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গাজীপুর জেলা সদরের চান্দনা চৌরাস্তা, বোর্ডবাজার, বড়বাড়ি, ভোগড়া, বাসন সড়ক, ভোগড়া বাইপাস, সাইনবোর্ড, নাওজোর, জয়দেবপুর তিন সড়ক, তেলিপাড়া, হোতাপাড়া, কোনাবাড়ি, কাশিমপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে বিক্ষিপ্তভাবে সকাল ৮টার দিকে মহাসড়কে নেমে আসে এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা নাওজোড় এলাকার দিগন্ত সোয়েটার কারখানার সামনে অবরোধ করলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কোনাবাড়ি শিল্প এলাকার ইন্টার স্টপ, তুশুকা গার্মেন্টস, ইন্টার লিংক, সানমুন, এমএম গার্মেন্টস, সিদ্দিক ফ্যাশন, ভোগড়া এলাকার বলমন্ট ফ্যাশন্স, মেন ট্রাস্ট, গাজীপুর সদরের তিন সড়ক এলাকার স্পেরো অ্যাপারেলসসহ আশপাশের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা বিভিন্ন স্থানে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। শ্রমিকরা লাঠিসোটা নিয়ে চান্দনা চৌরাস্তা মোড়ে ঢাকা ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন ভাংচুর করতে থাকে। এ সময় জয়দেবপুর থানার পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ শ্রমিকদের বাধা দিলে তাদের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে অর্ধশত শ্রমিক ও পথচারি আহত হয়।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রমিকরা নাওজোর এলাকার দিগন্ত সোয়েটার কারখানার গেইট ভেঙ্গে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উপর ফেলে অবরোধ করে রাখে। এসময় তারা ওই কারখানার অভ্যন্তরে পরিত্যক্ত সুতার গোডাউনে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং নিরাপত্তা কর্মীদের অফিস ও চাইল্ড কেয়ার হোম ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। শ্রমিকরা মহাসড়কের উপরে বিভিন্ন আসবাবপত্র এনে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে পুরো এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। দিগন্ত সোয়েটার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামাল উদ্দিন অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হলেও তারা ঘটনা ঘটার দুই ঘন্টা পরে আসায় কারখানার ব্যাপক ক্ষতি হয়। সঠিক সময়ে পুলিশ এলে ক্ষয়ক্ষতি এড়োনো সম্ভব হতো। তিনি জানান, বহিরাগত কিছু শ্রমিক দিগন্ত সোয়েটার কারখানার গেইটে এসে প্রথমে হামলা চালায় এবং ওই সময় শিল্প পুলিশকে অদূরে অবস্থান করতে দেখা গেলেও তারা এগিয়ে আসেনি। এগারটার দিকে জয়দেবপুর থানার ওসি এসএম কামরুজ্জমানের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ২০/২৫ রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করলে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
একই দাবিতে সকাল নয়টার দিকে কোনাবাড়ি এলাকার বিভিন্ন গার্মেন্ট শ্রমিকরা রাস্তায় এসে বিক্ষোভ ও যানবাহন ভাংচুর করে থাকে। শ্রমিকরা বিক্ষিপ্ত ভাবে বিভিন্ন পোশাক কারখানায় গিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও হামলা করে অন্য শ্রমিকদের বাইরে বের করে আনতে চেষ্টা করে। পরে কর্তৃপক্ষ কারখানা ভাংচুরের আশংকায় কারখানা ছুটি ঘোষণা করে। পুলিশ যানবাহন ও কারখানা ভাংচুরে বাধা দিলে তাদের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া পল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ শ্রমিকদের উপর লাঠিচার্জ ও কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কোনাবাড়ি পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে শ্রমিকরা। পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়।
এদিকে গত রবিবার সন্ধ্যায় গাজীপুর মহানগরের সাইন বোর্ড এলাকায় এলিট গার্মেন্টসে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করে। তা কারখানার ভবনে ব্যাপক ভাংচুর শুরু করে। এসময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে উত্তেজিত শ্রমিকরা কারখানা অভ্যন্তরে নিরাপত্তা অফিস কক্ষে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে তারা কারখানার পার্ক করা অবস্থায় একটি পিকআপ ভ্যান, একটি মাইক্রোবাস, একটি প্রাইভেটকার, ৫টি মোটর সাইকেল, ১৫টি বাইসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে। গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই ওই যানবাহনগুলো পুড়ে যায়। খবর পেয়ে র্যাব-পুলিশ ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এক পর্যায়ে র্যাব-পুলিশ ও এলাকাবাসী কারখানাটি ঘিরে ফেললে বহিরাগতরা দেয়াল টপকে পালিয়ে যায়। এ সময় জনতা ও কারখানার লোকজন ১১ জনকে আটক করে। একই দিন সন্ধ্যায় গাজীপুর ভোগড়া বাইপাস এলাকায় স্কয়ার ফ্যাশন লিঃ এ বহিরাগত কিছু সংখ্যক লোক এসে হামলা চালায়। কারখানার প্রধান গেইটের সামনে আগুন ধরিয়ে দিলে স্থানীয় লোকজন তা নিভিয়ে ফেলে। ওই বহিরাগতরা কারখানার অভ্যন্তরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভবনের কাঁচ ভাংচুরসহ ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
টঙ্গীতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ
টঙ্গী সংবাদদাতা জানান, গতকালও গার্মেন্টস শ্রমিকরা বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ ও যানবাহন ভাংচুর ও গার্মেন্টে অগ্নিসংযোগ করেছে। পুলিশ জানায়, গতকাল সকাল সাড়ে সাতটা থেকে টঙ্গী বাজার সেনাকল্যাণ ভবনে অ্যাবা গার্মেন্টস শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে। একপর্যায়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এঘটনায় পুলিশসহ শতাধিক আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টঙ্গীর সবক’টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। সকাল সাড়ে এগারোটায় তাজিন গার্মেন্টসে বহিরাগত শ্রমিকরা আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গতকাল সকাল থেকেই শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুঁড়তে বাধ্য হয়। তিনি জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রায় তিনশতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এদিকে বেলা এগারোটায় টঙ্গীর গ্রামীণ ভিলেজ কারখানায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ব্যাপক ভাংচুর চালায় এবং তারা কারখানার একটি মটর সাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। অপরদিকে সকালে মোহাম্মদিয়া ফ্যাশন, টপস এন্ড বোটন, জাবের অ্যান্ড যোবায়ের দ্যাটস ইট গার্মেন্ট, পিনাকি ও সুমি ফ্যাশনের শ্রমিকরা ভাংচুর চালায়। সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখার সময়ও বিভিন্ন এলাকায় খণ্ড খণ্ড ভাবে শ্রমিকদের বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে।
কালিয়াকৈরে সংঘর্ষ, ভাংচুর
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) সংবাদদাতা জানান, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় কমপক্ষে ৪৫ জন আহত হয়েছে। শিল্প পুলিশ ও কারখানা শ্রমিকরা জানায়, গতকাল দুপুর ২টার দিকে ইন্টারস্টপ, ডিভাইন ,নায়াগ্রা টেক্সটাইল ও চন্দ্রা স্পিনিংসহ বিভিন্ন কারখানার শত শত শ্রমিক কর্মবিরতি শুরু করে রাস্তায় নেমে আসে। এরপর লাঠিসোটা নিয়ে উপজেলার মৌচাক, সফিপুর, পল্লীবিদ্যুত্ ও চন্দ্রা এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক থেমে থেমে অবরোধ করে রাখে। শ্রমিকরা মৌচাক এলাকায় একটি লেগুনায় আগুন ধরিয়ে দেয়। জোড়া পাম্প এলাকায় রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে ও মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী কয়েকটি কারখানা ভাংচুর করে। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শুরু হয় তীব্র যানজট। খবর পেয়ে গাজীপুর শিল্প পুলিশ ও কালিয়াকৈর থানা পুলিশ শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করে। এ সময় শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ। এক পর্যায়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসব ঘটনায় শ্রমিক ও পথচারীসহ কমপক্ষে ৪৫ জন আহত হয়। বেলা সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আজাহারুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সাভারে শ্রমিকদের বিক্ষোভ
স্টাফ রিপোর্টার সাভার থেকে জানান, বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সাথে পুলিশ ও মালিক পক্ষের শ্রমিকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয় অন্তত ২৫ জন। গতকাল সকালে ঢাকা-আরিচা সড়কের সাভারের উলাইল ও তালবাগে মজুরি বাড়ানোর দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষের এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি অবনতির আশংকায় আশেপাশের অধিকাংশ কারখানা এদিন একদিনের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে এসময় বেশ কিছুক্ষণ যান চলাচল বন্ধ থাকে। সকালে সাভার পৌর এলাকার উলাইল শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ শুরু করে আনলিমা, আল-মুসলিম, প্রাইড গ্রুপ, সুরমা টেক্সটাইলসহ ১০টি পোশাক কারখানার সহস্রাধিক শ্রমিক। শ্রমিকরা এসময় সাভারের উলাইল বাসস্ট্যান্ডে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে যানবাহন ভাংচুরসহ বিক্ষোভের চেষ্টা করলে পুলিশের সাথে শ্রমিকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২৫ জন আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। সাভার মডেল থানার ওসি মোস্তফা কামাল জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
