দেশের প্রখ্যাত কবি দৈনিক ইত্তেফাকের সহকারি সম্পাদক মহাদেব সাহা গুরুতর অসুস্থ। বর্তমানে তিনি রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালের ইউরোলজি অ্যান্ড নেফ্রোলজি ডিপার্টমেন্টের চিকিত্সকদের তত্ত্বাবধায়নে আছেন। তিনি প্রোস্টেট এবং কিডনি সংক্রান্ত রোগে ভুগছেন। জাতীয় কবিতা পরিষদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে তার উন্নত চিকিত্সার জন্য বিদেশে প্রেরণের দাবি জানানো হয়েছে।
মহাদেব সাহা ৬০ এর দশকের শেষভাগের কবিদের মধ্যে অন্যতম। তার লেখা কবিতার বই ১২০টি। স্বভাবে অন্তর্মুখী এই কবি ১৯৯০ এর দশকে প্রতিক্রিয়াশীল জাতীয়তাবাদ এবং বাংলাদেশে ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে একজন স্পষ্টবাদী মুখপাত্র হিসাবে পরিচিতি পেয়েছিলেন সুধীজনের কাছে।
সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের রাজপথ কাঁপানো সৈনিক কবি মহাদেব সাহা বাংলা একাডেমী পুরস্কার, একুশে পদক, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কারসহ বহু পুরস্কার পেয়েছেন।
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে মহাদেব সাহা ছিলেন সক্রিয় কর্মী। একাত্তরের কালো রাত্রি, ২৫ মার্চ তিনি থাকতেন আজিমপুর রোডের একটি বাসায় মেসবাড়ি সারারাত নিজের ঘরে বসে প্রত্যক্ষ করেন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর বর্বরতা। ২৭ মার্চে ঢাকা থেকে চলে যান নিজের গ্রামের বাড়িতে। সেখানে গিয়ে স্থানীয়ভাবে তরুণদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেন। পরে কলকাতায় গিয়ে যুক্ত হন ‘জয়বাংলা’ পত্রিকার সঙ্গে, কাজ করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রেও।
সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা, রাজনৈতিক মনস্কতা মহাদেব সাহাকে টেনে আনে মাটি আর মানুষের কাছাকাছি। তার কবিতার শব্দনির্বাচন, ধ্বনি, চিত্রকল্প সবকিছুই যেন মৌমাছির মতো গুঞ্জরণ তোলে মানুষের উত্সবে।
তার কবিতার মধ্যে ’চিঠি দিও’অন্যতম। আজও মুখে মুখে ফেরে এই কবিতার পংক্তিগুলো। ‘করুণা করে হলেও চিঠি দিও, খামে ভরে তুলে দিও আঙ্গুলের মিহিন সেলাই ভুল বানানেও লিখো প্রিয়, বেশি হলে কেটে ফেলো তাও, এটুকু সামান্য দাবি, চিঠি দিও, তোমার শাড়ির মতো অক্ষরের পাড়-বোনা একখানি চিঠি। চুলের মতন কোনো চিহ্ন দিও বিস্ময় বোঝাতে যদি চাও ... বর্ণনা আলস্য লাগে তোমার চোখের মতো চিহ্ন কিছু দিও!
