ড. ইউনূসের আয়কর তথ্য প্রতিহিংসাবশত প্রকাশ করা হয়েছে

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৩৫
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী বলেন, এদেশে যারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট ও চুরি করে, তাদের কোনো শাস্তি হয় না। অথচ ভাল মানুষদেরকে শাস্তি দেয়ার জন্য সরকারের তরফ থেকে সর্বপ্রকার ব্যবস্থাই নেয়া হয়ে থাকে। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে ডা. জাফরউল্লাহ বলেন, এই মন্ত্রী বলেছেন যে ড. ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের নারী পরিচালকরা আদালতকে প্ররোচিত করেছে। এর মাধ্যমে তিনি আদালত অবমাননা করেছেন। কিন্তু আদালত তাকে কিছু বলছে না। অর্থমন্ত্রী প্রতিহিংসাবশত ড. ইউনূসের আয়কর সম্পর্কিত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করেছেন। ন্যূনতম সততা থাকলে তার নিজের আয়কর তথ্যও জনগণের সামনে প্রকাশ করা উচিত। ড. ইউনূস কেবল দেশের দারিদ্র্য বিমোচনেই ভূমিকা রাখেননি বরং নারীর ক্ষমতায়নের পথকেও প্রসারিত করেছেন। তাই বর্তমান সংকটকালে গ্রামীণ ব্যাংক রক্ষায় দেশের সকল নারী এগিয়ে আসবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ওপর সরকারি আক্রমণ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে ‘গ্রামীণ ব্যাংক রক্ষা ও দুর্জন প্রতিরোধ কেন্দ ’ নামের একটি সংগঠন। সাবেক সচিব এম মুনীরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে আরও আলোচনায় অংশ নেন সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মুজমদার, স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, সাবেক রাষ্ট্রদূত রাশেদ আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ। ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, শেখ হাসিনা আগেরবার প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তর্জাতিক মাইক্রো ক্রেডিট সামিটে মূলবক্তা হিসাবে বক্তৃতাকালে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অতিমানব আখ্যায়িত করে বলেছিলেন, তার সৃষ্ট গ্রামীণ ব্যাংক তথা ক্ষুদ্র ঋণের ধারণা বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বে দারিদ্র্য বিমোচনের যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তাতে একজন বাংলাদেশি হিসাবে তিনি গর্বিত। স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, অসামান্য কীর্তির জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূস গোটা দুনিয়ায় অনেক পুরষ্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। কিন্তু তিনি ‘আগা খান অ্যাওয়ার্ড’ নামে একটি পুরষ্কারও পেয়েছেন, যেটি কেবলমাত্র স্থপতিদেরকে দেয়া হয়। ড. ইউনূসকে এই পুরষ্কার দেয়া হয়েছিলে তার অনন্য এক স্থাপত্য-উদ্ভাবনীর জন্য। তিনি উপকূলীয় অঞ্চলের দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় কংক্রিট কলাম দিয়ে বাড়ি তৈরির একটি ধারণা প্রচলন করেছিলেন, যার সুফল পেয়েছে উপকূলের হাজার হাজার পরিবার। গ্রামীণ ব্যাংক তার এমন অসাধারণ কীর্তি, যেটি সারা পৃথিবীতে নোবেল পুরষ্কার পাওয়া একমাত্র ব্যাংক। কিন্তু সরকার এখন বিশেষ উদ্দেশে এই ব্যাংকের ওপর অশুভ দৃষ্টি দিয়েছে।