দুদক আইনের অধীনে আসবে যে কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৩৬
অবশেষে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন সংশোধন করা হচ্ছে। বাছাই কমিটির চূড়ান্ত করা সংশোধিত আইন সংসদের অধিবেশনে পাস করার কথা রয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের সংশোধনের প্রস্তাব করেছিল। জানতে চাইলে দুদক সদস্য শাহাবুদ্দিন চপপু ইত্তেফাককে বলেন, সংশোধিত আইনকে অন্যান্য আইনের উপরে প্রাধান্য দেয়ায় এখন যে কোন সংস্থা প্রতিষ্ঠানকে দুদক আইনের অধীনে আনা সম্ভব হবে। বিদ্যমান আইনে এটি ছিল না। এছাড়া আদালতের অনুমতি ছাড়াই তদন্ত চলাকালে সহায়-সম্পদ জব্দ করা যাবে। এ প্রসঙ্গে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া ইত্তেফাককে বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ থেকে তথ্য উপাত্ত নিয়ে আইনের সংশোধনী চূড়ান্ত করা হয়েছে। সংসদের চলতি অধিবেশনেই সংশোধিত দুর্নীতি দমন কমিশন আইন পাস করা হবে। শাহাবুদ্দিন চপপু আরো বলেন, জালিয়াতি, প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ইত্যাদি বিষয় এখন দুদক আইনের তফশিলভুক্ত করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন ব্যুরো বিলুপ্ত হবার পর এগুলো পুলিশের হাতে চলে গিয়েছিল। সংশোধিত আইনে গুরুত্বপূর্ণ কতিপয় ধারা সংযোজন করা হয়েছে। ২৩ (ক) ধারায় সরকারি, স্বশাসিত এমনকি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে তথ্য প্রদানে এক প্রকার বাধ্যতার মধ্যে আনা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি হচ্ছে মহাপুলিশ পরিদর্শক, র্যাবের মহাপরিচালক, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়াও সরকার বিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে আরও প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে এ ধারার অধীন করতে পারবে। এ ধারায় বলা হয়েছে, অন্য আইনে যাই থাকুক না কেনো আলোচ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান স্বীয় উদ্যোগে কমিশনকে তথ্য প্রদান করবে। যথাসময়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না করলে কমিশন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারকে অনুরোধ করলে সরকার সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে। সংশোধিত আইনের ২৮ (ক) ধারায় বলা হয়েছে, এই আইনের অধীনে গৃহীত অপরাধ আমলযোগ্য, অ-আপোষযোগ্য এবং অ-জামিনযোগ্য হবে। ৩৩ এর উপধারায় ৫ উপধারা সংযোজন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দুদক কর্তৃক গৃহীত যে কোন কার্যক্রমের যে কোন পর্যায়ে কোন আদালতে কেউ প্রতিকার চাইলে দুদককে পক্ষভুক্ত করতে হবে। দুদকের কোন মামলায় আদালতে কেউ জামিন চাইলে বা প্রতিকার প্রার্থনা করলে কমিশনকে যুক্তিসঙ্গত সময় না দিয়ে শুনানি গ্রহণ করা যাবে না। ২৮ (১) ধারায় বলা হয়েছে, মিথ্যা জেনে বা তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত না হয়ে কোন ব্যক্তি ভিত্তিহীন কোন তথ্য দিতে পারবে না। এ রকম তথ্য প্রদানকারী সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থ দণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। পক্ষান্তরে ২৮ (খ) ধারায় বলা হয়েছে, তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে। কিন্তু আদালতের কাছে যদি প্রতীয়মান হয় যে, তথ্য প্রদানকারী ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়েছেন বা তথ্য প্রদানকারীর প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ ছাড়া মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, তাহলে আদালত তথ্য প্রদানকারীর পূর্ণ পরিচয় প্রকাশ করবেন। প্রসঙ্গত, আইনের সংশোধনী চূড়ান্ত করার আগে ৭ সদস্যের সংসদীয় প্রতিনিধি দল ইউএনডিপির আর্থিক সহায়তায় অস্ট্রেলিয়া ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া সফর করেন। তারা এসব দেশের দুর্নীতি প্রতিরোধের আইন ও প্রতিষ্ঠানগুলো ঘুরে দেখেন।