অর্থনৈতিকভাবে আমরা প্রতিবেশী অনেক দেশের চেয়ে সফল

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৩৭
যুক্তরাষ্ট্র সফররত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, ম্যাক্রো ইকনমিকসের ধ্যান-ধারণায় বাংলাদেশ এগিয়ে চলায় আমাদের নিকট প্রতিবেশী অনেক দেশের চেয়েও আমরা অর্থনৈতিকভাবে বেশি সাফল্য অর্জনে সক্ষম হচ্ছি। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয়ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিক্রমা আজ আন্তর্জাতিকমহলে মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের বলরুমে জাতিসংঘ আয়োজিত এক সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর। জাতিসংঘ গ্লোবাল কমপ্যাক্ট লিডারস সামিট-২০১৩ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের এক্সিকিউটিভ সেশনে ‘লোকাল সাসটেইনাবিলিটি মুভমেন্ট’ শীর্ষক আলোচনায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ড. আতিউর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশ্বের প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ, সমাজকর্মী, করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী, রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও শ্রমিক ইউনিয়নের শীর্ষ পর্যায়ের সহস্রাধিক ব্যক্তি অংশ নেন। এবারের অনুষ্ঠানের মূল শ্লোগান ছিল ‘আর্কিটেক্ট অব দ্য বেটার ওয়ার্ল্ড।’ অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন সম্মেলনের উদ্যোক্তা কমিটির চেয়ারম্যান ও জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন। উদ্বোধনী দিনের ডিনার পার্টিতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকাণ্ড উপস্থাপন করেন এবং বিশ্বকে দারিদ্র্যমুক্ত করার চলমান আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। সম্মেলনে ড. আতিউর রহমান বলেন, বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অর্জনকে স্থিরভাবে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, সরকার সমতার ভিত্তিতে সমাজের সর্বস্তরে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দিতে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতি জনগণের আস্থা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জনগণের সচেতনতা সৃষ্টি করা। গৃহীত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে জনমত তৈরির বিষয়টি বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেবে। স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় মূল বক্তব্য উপস্থাপনকালে ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘টেকসই উন্নয়নের কর্মকাণ্ডকে বাংলাদেশ তার অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হিসেবে নিতে ব্যাপক জনমত সৃষ্টিতে সক্ষম হয়েছে। বলা যেতে পারে, বিশ্ব উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে সারাদেশে চলছে নীরব বিপ্লব। সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে সৃষ্টি হয়েছে জাতীয়ভিত্তিক জাগরণ। রাজনৈতিক অঙ্গীকারে পরিণত হয়েছে জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়নের লক্ষ্য, যার অধিকাংশই অর্জনে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ।’ অনুষ্ঠানে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্টার ফর রেসপনসিবল বিজনেসের নির্বাহী পরিচালক জো ম্যাকনেস ও যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ জর্জ সটো বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ খুরশিদ আলমও এতে অংশ নেন। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন বলেন, ‘২০১৫ সালের পর কেমন বিশ্ব আমরা দেখতে চাই, সে ধরনের কৌশল ও পরিকল্পনা গ্রহণে এ সম্মেলনের সুপারিশ বিশেষ গুরুত্ব পাবে। জাতিসংঘের চলতি অধিবেশনে বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হবে।