ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মাধবপুরে সোহাগ পরিবহনের একটি বাসে দুর্ধর্ষ ডাকাতি হয়েছে। গত রবিবার গভীর রাতে এই ডাকাতির সময় কর্তব্যরত একজন পুলিশ কনস্টেবলসহ পাঁচজন আহত হন। ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, ল্যাপটপসহ কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুট করে নেয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের চার সদস্যকে আটক করে বেশ কিছু লুট হয়ে যাওয়া মাল উদ্ধার করে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সোহাগ পরিবহনের সুপাইভাইজার সাইদুর রহমান জানান, সিলেট কাউন্টার থেকে রাত ১২টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা সোহাগ পরিবহনের একটি বাসে যাত্রীবেশী সাত ডাকাত ওঠে। বাসটি শায়েস্তাগঞ্জ গোলচত্বর পার হওয়ার পর ডাকাতরা চালককে জিম্মি করে বাসের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এ সময় কর্তব্যরত পুলিশ কনস্টেবল নিহার রঞ্জন ব্যানার্জীকে তারা অস্ত্রের মুখে পেছনে নিয়ে আটকে রেখে যাত্রীদের মারধর ও মালামাল লুট করতে থাকে। এরই মধ্যে কৌশলে কনস্টেবল নিহার রঞ্জন সিলেট থেকে আসা সোহাগের অন্য একটি বাসের নিরাপত্তায় নিয়োজিত কনস্টেবল সিদ্দিককে মোবাইল ফোনে ডাকাতির ঘটনা জানায়। তখন ওই বাসের চালক মাধবপুর উপজেলার ডাক্তার বাড়ি নামক স্থানে সড়কে ব্যারিকেড দিলে ডাকাতির কবলে পড়া বাসটি আটকা পড়ে। তখন ডাকাতরা বাস থেকে নেমে হাওরে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় পুলিশ বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে চিরুনী অভিযান চালিয়ে ঢাকার টিকাটুলির ফুল মিয়ার ছেলে দেলোয়ার হোসেন (২৮), নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার গোতুলিয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন শাহদাতের ছেলে বাবুল মিয়া অপু (২২), আড়াইহাজার উপজেলার কালীবাড়ি গ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে আকাশ মিয়া (২৭) ও রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন গ্রামের দেলুয়ার হোসেনের ছেলে শফিকুল ইসলামকে (২০) আটক করে। এ ব্যাপারে সোহাগ পরিবহনের সুপারভাইজার সাইদুর রহমান বাদী হয়ে মাধবপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
