হূদয় জেতার দিন শেষ, এবার ট্রফি জিতল বাংলাদেশ।
সপ্তম স্বর্গে মিলল ট্রফির সন্ধান। ছয়টি ফাইনাল হারের দুঃখগাঁথাকে মাড়িয়ে বহুজাতিক টুর্নামেন্টে প্রথমবার শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করল বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে গতকাল দুর্দান্ত জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়েছে টাইগাররা। ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে চলে আসা মাশরাফি বিন মুর্তজার হাত ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে যুক্ত হলো অর্জনের নতুন পালক। গতকাল মালাহাইডে বৃষ্টিবিঘ্নিত ফাইনালে ডিএল মেথডে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ।
গতকাল ডাবলিনে বাংলাদেশের স্নায়ুর চূড়ান্ত পরীক্ষা নিয়েছে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল। ছিল বৃষ্টির বাধা, ডিএল মেথডের খড়গ হিসেবে আসা বাড়তি রানের চাপ। অদম্য সাহসিকতা, দৃঢ়চেতা মনোবলে সব বাধা উতরে গেছে বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে ট্রফির রূপকার সৌম্য সরকার ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। দুই তরুণের বেপরোয়া, দুর্বিনীত ব্যাটিংয়ে উড়ে গেছে ক্যারিবিয়ানরা। শুরুতে নান্দনিক ব্যাটিংয়ে বিমোহিত করেছেন সৌম্য। পরে মোসাদ্দেকের টর্নেডো নিশ্চিত করেছে ঐতিহাসিক জয়। গতকাল টসে হেরে আগে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০.১ ওভারে বিনা উইকেটে ১৩১ রান তুলেছিল। তারপরই মালাহাইডে নামে বৃষ্টি। ভেজা আউটফিল্ড ও বৃষ্টির কারণে প্রায় পাঁচ ঘন্টা বন্ধ থাকার পর ম্যাচের দৈর্ঘ্য নির্ধারিত হয় ২৪ ওভার। বৃষ্টির আগে ও পরে ব্যাট করে ক্যারিবিয়ানরা এক উইকেটে ১৫২ রানের স্কোর গড়ে। পরে ডিএল মেথডে বাংলাদেশের টার্গেট দাঁড়ায় ২১০ রান। জবাবে ২২.৫ ওভারে সৌম্য-মোসাদ্দেকের হাফ সেঞ্চুরিতে পাঁচ উইকেটে ২১৩ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় বাংলাদেশ। ৭ বল আগে আসা জয়ে ম্যাচ সেরা হন ২৪ বলে অপরাজিত ৫২ রানের (২ চার, ৫ ছয়) বিস্ফোরক ইনিংস খেলা মোসাদ্দেক।
রান তাড়া করতে নেমে সৌম্যর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৫ ওভারেই বিনা উইকেটে ৫১ রান তোলে বাংলাদেশ। ৪ রানে জীবন পাওয়া তামিম ষষ্ঠ ওভারে পরপর দুই বলে গ্যাব্রিয়েলকে দুটি চার মারেন। কিন্তু পরের বলেই আবার মারতে গিয়ে ক্যাচ তোলেন তিনি। ১৮ রান করেন তামিম। দুই বলের ব্যবধানে সাব্বির (০) এলবির ফাঁদে পড়লে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।
৬০ রানে দুই উইকেট হারানোর পর তৃতীয় উইকেটে ৪৯ রানের জুটি গড়েন সৌম্য-মুশফিক। ২৭ বলে দশম হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সৌম্য। হাফ সেঞ্চুরির পরও তোপ দাগাচ্ছিল তার ব্যাট। কিন্তু ১২তম ওভারের তৃতীয় বলে রেইফারের শিকার হন তিনি। সৌম্য ৪১ বলে ৬৬ রান (৯ চার, ৩ ছয়) করেন। দলীয় ১৩৪ রানে ফিরে যান মুশফিক। ২২ বলে ৩৬ রান করেন তিনি। ভালো শুরু করার পরও রিভার্স খেলতে গিয়ে এলবির ফাঁদে পড়েন মিঠুন (১৭)। ১৪৩ রানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
পরে মোসাদ্দেক-মাহমুদউল্লাহর ৭০ রানের জুটিতে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় টাইগাররা। ২২তম ওভারে তিন ছয়, এক চারে ২৫ রান তুলে রান-বলের দূরত্বটা ঘুচিয়ে দেন মোসাদ্দেক। ২০ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। পরের ওভারে মাহমুদউল্লাহর চারে জয় নিশ্চিত হয়। ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন মাহমুদউল্লাহ।
এর আগে বৃষ্টির বাধা নামার আগে ক্যারিবিয়ানদের দুই ওপেনার আমব্রিস ৫৯, হোপ ৬৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। বৃষ্টির পর ব্যাটিংয়ে নেমে ৩.৯ ওভারে এক উইকেট হারিয়ে ২১ রান যোগ করে উইন্ডিজরা। ২৩তম ওভারের চতুর্থ বলে শাই হোপকে ফেরান মিরাজ। বাউন্ডারিতে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন মোসাদ্দেক। হোপ ৭৪ রান করেন। আমব্রিস অপরাজিত ৬৯, ড্যারেন ব্র্যাভো অপরাজিত ৩ রান করেন।
