আকাশে ওড়ার স্বপ্ন

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৮:৩৬
আগামী শুক্রবার বাংলাদেশের প্রথম মহিলা বিমান প্রশিক্ষক ফারিয়া লারার পনেরোতম মৃত্যুবার্ষিকী। ফারিয়া লারার অনেক স্মৃতি এখনো আমাদের হূদয়ে জ্বল জ্বল করে। শৈশব-কৈশোরে ফারিয়া ও তার বোন লাজিনা মুনা ছবি আঁকতো। কচি-কাঁচার মেলায় আসতো নিয়মিত। ওদের আঁকা ছবি ছাপা হতো ছোটদের পাতায়। শিশুতোষ মাসিকেও প্রচ্ছদ সাজানো হতো ওদের আঁকা ছবি দিয়ে। ফারিয়া লারার অনেক গুণ ছিলো। একসময় গবেষণা, অনুবাদ ও দোভাষীর কাজও করেছে। এর আগে টেলিভিশনে অভিনয় করেছে, মানুষের মন কেড়েছে। ১৯৭০ থেকে ১৯৯৮ সাল ছিলো তার আয়ুষ্কাল। অর্থাত্ মাত্র ২৮ বছরের জীবনটুকু ছিলো নানা ঘটনায় উজ্জ্বল। ফারিয়ার স্বপ্ন ছিলো আকাশে ওড়ার। তাঁর স্বপ্ন সে পূরণ করে এনেছিলো। যারা আকাশচারী হতে চায়, তাদেরও লারা বৈমানিক হওয়ার স্বপ্ন দেখাতে চেয়েছিলো। কিন্তু আকাশের দৈত্য-দানোগুলো ছিলো ভীষণ হিংসুটে। সেই আটানব্বইয়ের ২৭ সেপ্টেম্বর শরতের শিউলি ঝরা এবং বৃষ্টিমাখা সকালে লারা ও সুমনের পারাবতের ডানা দুটোকে ভেঙে ফেললো দৈত্য-দানোরা। পোস্তাগোলার শ্মশানঘাটের কাছাকাছি ময়দার মিল কম্পাউন্ডে বৃষ্টি-বাদলার মধ্যে বিমানে আগুন লাগে। ভস্মীভূত হয়ে যায় নবীন বিমান প্রশিক্ষক লারা ও সুমনের স্বপ্নগুলো। লারা ও সুমনের এই হারিয়ে যাওয়া অনেকদিন আমাদের কাঁদিয়েছে, এখনও কাঁদায়। লারার স্মৃতিগুলো কোনভাবে মুছে ফেলা যায় না। লারা কখনো কখনো ডাইরি লিখতো। ১৯৮৪ সালের ১৬ এপ্রিল লারা লিখেছে: আজ আমার জন্মদিন। আজ ১৪ বছর শেষ করে ১৫ বছরে পড়লাম। আজ আমি অনেক বড়। সুন্দর জন্মভূমি আরও সুন্দর হয়ে ওঠো। ডাইরির শেষাংশে লারা তার মা প্রখ্যাত কথাশিল্পী ও বাংলা একাডেমির প্রাক্তন পরিচালক সেলিনা হোসেনের কাছ থেকে জন্মের সময়, তারিখ ও সন জেনে নিয়ে লিখেছে: ১৬ই এপ্রিল ১৯৭০, রাত ১২-৪০, বৃহস্পতিবার। লারা উদয়ন বিদ্যালয়, হলিক্রস কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। কিছুদিন সাপ্তাহিক সময় পত্রিকার সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে। ১৯৭৯ সালে ফিলিপস বাংলাদেশ পুরস্কার ও ১৯৮০ সালে নিপ্পন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক আয়োজিত প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক পায়। এছাড়া ১৯৮৪ সালে ভারতের শঙ্কর আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের ১৯৭৮ সালের নতুনকুঁড়ি প্রতিযোগিতায় ছবি আঁকা ও উপস্থিত বক্তৃতায় পুরস্কার লাভ করে। ফারিয়া লারার স্মৃতি দীর্ঘদিন আমাদের হূদয়ে জাগরুক হয়ে থাকবে। খালেক বিন জয়েনউদদীন