পাচারকারী প্রতারক চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার

আপডেট : ১৭ মে ২০১৯, ২২:৪৫

বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ইউরোপে পাঠানোর সময় সম্প্রতি ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় জড়িত মানব পাচারকারী সংঘবদ্ধ দালাল ও প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। গ্রেফতারকৃতরা হলেন আক্কাস মাতুব্বর (৩৯), এনামুল হক তালুকদার (৪৬) ও আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়া (৩৪)। এদের মধ্যে এনামুল সিলেটের ইয়াহইয়া ওভারসিজের মালিক। ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে যে ৪০ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন, তাদেরকে ইয়াহইয়া ওভারসিজের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল। গতকাল শুক্রবার ভোররাতে রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর, খিলক্ষেত ও বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

কারওয়ানবাজারে র্যাবের মিডিয়া  সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, সম্প্রতি লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে কমপক্ষে ৩৯ জন বাংলাদেশি নিখোঁজ হয়েছেন। জীবিত উদ্ধার হয়েছেন ১৪ জন। এ ঘটনার পর আলোচনায় আসে বাংলাদেশ থেকে মানবপাচারের বিষয়টি। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আক্কাসের বাড়ি শরীয়তপুর, এনামুলের সিলেট ও রাজ্জাকের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া। রাজ্জাককে সঙ্গে নিয়ে এনামুল হক একটি সিন্ডিকেট পরিচালনা করতেন। আক্কাস এদের দালাল।

র্যাবের এই কর্মকর্তারা বলেন, ঘটনার তদন্তে নেমে ইউরোপে মানবপাচারের সঙ্গে দেশজুড়ে অন্তত ১০ থেকে ১৫টি চক্রের তথ্য পেয়েছে। এর মধ্যে ৫ থেকে ৬টি চক্রের মাধ্যমে পাচার হওয়া বাংলাদেশিরা সেদিন নৌ-দুর্ঘটনায় পতিত হন। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ভিকটিমদের পাসপোর্ট তৈরি, ভিসা সংগ্রহ, টিকিট ক্রয় এই সিন্ডিকেটের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়। ইউরোপে  পৌঁছে দিতে তারা ৭-৮ লাখ টাকা অর্থ নির্ধারণ করে। এর মধ্যে সাড়ে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা লিবিয়ায় পৌঁছানোর আগে এবং বাকি টাকা লিবিয়া থেকে ইউরোপে যাত্রার আগে পরিশোধ করতে হয়। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দুই মাস থেকে এক বছর  সময় লাগে। এর মধ্যে অধিকাংশ টাকা পরিশোধ হয়ে যায়, ফলে ইচ্ছা থাকলেও আর ফেরত আসতে পারেন না ফাঁদে পড়ে যাওয়া ভুক্তভোগীরা।