বাংলাদেশের সর্ববৃহত্-সর্বপ্রাচীন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসু নির্বাচন প্রায় দুই যুগ হতে চললো বন্ধ আছে। ১৯৯০ সালের পরে আর ডাকসু নির্বাচন হয়নি। অথচ নব্বই-এর গণআন্দোলনে এরশাদ সরকারের পতনের পরে এদেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে বলে দাবি করা হয়। সত্যিই কি তাহলে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে? অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, স্বৈরাচারের পতনের পরে এদেশে গণতন্ত্রের নামে প্রহসন হয়েছে বারবার।
ডাকসুকে বলা হয় জাতির দ্বিতীয় সংসদ। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ আসেন নানা পেশা থেকে। এর মধ্যে ব্যবসায়ীদের সংখ্যা সত্যিকার রাজনীতিবিদদের চেয়ে বেশি। জাতীয় সংসদের সদস্যদের অনেক সময় এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে ও কর্মীদের চাহিদা মেটাতে অনিচ্ছাসত্ত্বেও অপ্রীতিকর অনেক কাজ করতে হয়। কিন্তু ডাকসুর ছাত্রনেতারা কোনো কোনো দলের লেজুড়বৃত্তি করলেও তাঁরা জাতির ক্রান্তিকালে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে থাকে। তার জ্বলন্ত উদাহরণ বায়ান্নোর ভাষা সংগ্রাম এবং নব্বই-এর স্বৈরাচার পতনের আন্দোলন ।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্রনেতারা সবসময় ডাকসুর কর্মসূচিকে অনুসরণ করে থাকে। ডাকসুর কেন্দ্রীয় নেতারা প্রায়ই দেশের বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনবরণসহ নানা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ফলে ছাত্রনেতৃবৃন্দের মধ্যে একটা অদৃশ্য ‘চেইন অব কমান্ড’ সৃষ্টি হয়। আজ সেই ডাকসু না থাকার ফলে এই চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে। ফলে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্রনেতারা বুঝে না বুঝে ছাত্ররাজনীতির নামে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের ছত্রছায়ায় নানাবিধ অপ্রিয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন।
দেশের জাতীয় রাজনীতি যত অস্থিতিশীলই হোক ডাকসু সক্রিয় থাকলে মধুর ক্যান্টিনের টেবিল টক-এর মাধ্যমে অবশ্যই একটা সমাধান বেরিয়ে আসতো। সরকারি দলের ছাত্রসংগঠন বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে ডাকসুর প্রভাবে তার একটা ভারসাম্য থাকতো। যদি কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত সংসদ নির্বাচন হতো তাহলে সকল ছাত্রনেতাই সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের কাছে নিজের ভাবমূর্তির কথা ভেবে অশোভন-অপ্রিয় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রেখে আদর্শবান হবার চেষ্টা করতেন। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে তাই অচিরেই ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা উচিত।
রাজবাড়ী
