সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই পাচার হচ্ছে ইলিশ। ইলিশ চোরাচালানিরা দিনে দিনে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মাছ বিক্রির পর ওই টাকা দিয়ে ভারত থেকে আনা হচ্ছে জিরা, মরিচ, এলাচ এবং ফেনসিডিলসহ নানা ধরনের মাদকদ্রব্য। এতে করে একদিকে দেশের ইলিশ বাইরে চলে যাচ্ছে অন্যদিকে মাদকের প্রভাবে ধ্বংস হচ্ছে দেশের যুবসমাজ। বিজিবি অভিযান চালিয়ে মাঝে মধ্যে দু’একটি চালান আটক করলেও অধিকাংশ সময়ই চোরাচালানিরা রয়ে যাচ্ছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।
স্থানীয়রা জানান, প্রথমে ইলিশ মাছ পাচার হতো মোটর সাইকেল যোগে। এরপর শুরু হয় প্রাইভেটকার যোগে। বর্তমানে যাচ্ছে দেড় থেকে দুই টনি মিনি পিকআপ ভ্যানে। সরেজমিনে দেখা গেছে, প্লাস্টিকের বক্স ভর্তি মাছ মিনি পিকআপ ভ্যানে বহন করা হচ্ছে। প্রতিদিন রাত ৯ টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শহরের বড় বাজার থেকে ইটাগাছা বাজার রোড হয়ে সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ সড়ক দিয়ে বিপুল পরিমাণ ইলিশ মাছ পাচার হচ্ছে।
দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ভোমরা ও দেবহাটা সীমান্তসহ প্রতিটি সীমান্ত দিয়ে প্রায়ই ইলিশ পাচার হয়ে থাকে। চোরাচালানিরা সুলতানপুরের মধ্যদিয়ে পিটিআই রোড হয়ে ব্যাংদহা সড়ক দিয়েও ইলিশ পাচার করছে। জানা গেছে, সমপ্রতি ভারতীয় টাকার মান কম হওয়ায় কয়েকদিন ইলিশ পাচার বন্ধ ছিল। গত সপ্তাহ থেকে আবার ইলিশ পাচারকারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এ দেশে এক কেজির একটি ইলিশের দাম ৮/৯ শত টাকা হলেও ভারতে সেই ইলিশের দাম দেড় হাজার টাকা।
জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, বিগত আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে কোন ইলিশ মাছ আটক করতে পারেনি পুলিশ। কিন্ত ৩৮ বিজিবি সদস্যরা চলতি মাসের ১৬ তারিখে শহরের বড় বাজার থেকে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৩৬৬ কেজি ও ৩৩৫ কেজি ইলিশ মাছ আটক করে পৃথক দুটি মামলা করেছেন। এছাড়া গত শুক্রবার রাতে বিজিবি’র অপর এক অভিযানে সাতক্ষীরা সীমান্ত থেকে ২৩০ কেজি ইলিশ মাছ আটক করা হয়েছে।
এদিকে জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, অনুমোদন ছাড়াই বড় বাজারের কিছু মাছ ব্যবসায়ী অবৈধভাবে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ইলিশ মাছ বিক্রি করছে। সেগুলোই পাচার হতে পারে। ইলিশ পাচারের বিষয়ে ৩৮ বিজিবি’র অধিনায়ক এম আর পারভেজ জানান, মাছ পাচার বন্ধে বিজিবি’র অভিযান অব্যাহত আছে।
