সরকার ইচ্ছে করলে যুদ্ধাপরাধের ফাঁসির দণ্ড কার্যকর না করে ঝুলিয়ে রাখতে পারে। আন্তর্জাতিক অপরাধসূমহ (ট্রাইব্যুনালস) আইন-১৯৭৩ এর একটি বিধান সরকারকে এ সুযোগ দিয়েছে। ওই আইনে ফাঁসি কার্যকর করার সময়সীমা নির্দিষ্ট নেই। আইন বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, সরকার পরিবর্তন হলে আইনের এই বিধানটির অপব্যবহার হতে পারে।
প্রচলিত আইনে ফৌজদারি কার্যবিধি ও জেল কোডের বিধান অনুযায়ী ফাঁসি কার্যকর করা হয়। জেল কোডের বিধান অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কপি (মৃত্যু পরোয়ানা) পাওয়ার পর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার জন্য দণ্ডিতকে সাত দিনের সময় দেয়া হয়। এই সাতদিন সময় অতিবাহিত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি যদি ফাঁসি কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ, দণ্ড মওকুফ বা হ্রাস না করেন, তাহলে কারা কর্তৃপক্ষকে ২১ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর করতে হয়। কিন্তু প্রচলিত ফৌজদারি আইন ও জেল কোডের বিধান যুদ্ধাপরাধের দণ্ড কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। কেননা আন্তর্জাতিক অপরাধসমূহ ট্রাইব্যুনালস (আইন) ১৯৭৩-এর একটি বিশেষ আইন। এ ক্ষেত্রে সাধারণ আইনের চেয়ে বিশেষ আইন প্রাধান্য পাবে। যে কারণে ফৌজদারি কার্যবিধি বা সাক্ষ্য আইন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়নি। প্রসঙ্গত আন্তর্জাতিক অপরাধসূমহ (ট্রাইব্যুনালস) আইন-১৯৭৩ এর ২০(৩) ধারায় বলা আছে, ‘এই আইনের অধীন প্রদত্ত দণ্ড কার্যকর হইবে সরকারের আদেশাবলী অনুযায়ী।’ অর্থাত্ রাষ্ট্রপতি প্রাণভিক্ষার আবেদন যেদিনই নাকচ করবেন সেদিন থেকে যে কোন দিন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল ও যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের প্রধান সমন্বয়কারী এডভোকেট এমকে রহমানও একই অভিমত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জেল কোডের বিধান এক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। সরকার তার বিবেচনায় যেভাবে নির্ধারণ করবে সেভাবেই ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হবে। জেল কর্তৃপক্ষকে দণ্ড কার্যকর করার ক্ষেত্রে সরকারের আদেশের অপেক্ষায় থাকতে হবে। তবে তিনি বলেন, এই সরকার সর্বোচ্চ আদালতের দণ্ড কার্যকরের রায় ইচ্ছাকৃতভাবে ঝুলিয়ে রাখবে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তন হলে এই আইনের অপব্যবহার হতে পারে। এর আগে চার দলীয় জোট সরকার নানা অজুহাতে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলাও ঝুলিয়ে রেখেছিল।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লাকে দেয়া আপিল বিভাগের ফাঁসির পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়নি। রায় প্রকাশের পর রিভিউ পিটিশন দায়ের করবে দণ্ডিত পক্ষ। অন্যদিকে এটর্নি জেনারেল এডভোকেট মাহবুবে আলম গতকালও ইত্তেফাককে বলেছেন, যুদ্ধাপরাধের ক্ষেত্রে দণ্ডপ্রাপ্তদের রিভিউ পিটিশন দাখিলের কোন সুযোগ নেই। সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদে রিভিউয়ের যে বিধান রয়েছে, তা ৪৭ক(২) অনুচ্ছেদে রহিত করা হয়েছে।
কাদের মোল্লার আইনজীবী ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, রিভিউ পিটিশন করা দণ্ডিতের সাংবিধানিক অধিকার। অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা মনে করেন, রিভিউয়ের সুযোগ না দিয়ে ফাঁসি কার্যকর করা হলে তা হবে একটি জুডিশিয়াল কিলিং।
