বান্দরবানে পাহাড় কেটে মত্স্য প্রকল্প, ডুবে গেছে সড়ক-জমি

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:২০
বান্দরবানে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের দুইল্যা পাড়ায় পাহাড় কেটে মত্স্য বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া স্থানীয় প্রভাবশালী মোহাম্মদ হারেছ বুলডোজার দিয়ে নির্বিচারে পাহাড় কাটার কারণে স্থানীয়দের জমি ও চলাচলের সরকারি রাস্তাও বাঁধের পানিতে ডুবে গেছে। পাহাড় কাটা বন্ধে জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ হারেছ লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের দুইল্যা পাড়া এলাকায় ২৬.৫০ একর পাহাড়ি জমি ক্রয় করে মত্স্য চাষের জন্য ২০১০ সালে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে শর্তসাপেক্ষে চলতি বছরের জুন মাসে বাঁধ নির্মাণের অনুমতি দেন প্রশাসন। শর্তগুলো হচ্ছে-বুলডোজার দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা যাবে না, কোন ধরনের পাহাড় কাটা বা মোচন করা যাবে না, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয় এমন কোন কাজ করা যাবে না, অন্যের জমি প্লাবিত বা ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না এবং খাল বা পাহাড়ি ঝিরির প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা গেছে, প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নির্বিচারে পাহাড় কেটে পাহাড়ি জমিতে ৫টি মত্স্য বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আবিদুর রহমানসহ কয়েকজন জানান, বাঁধ নির্মাণের জন্য নির্বিচারে বুলডোজার দিয়ে পাহাড় কাটা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিশাল দুটি পাহাড়ের অংশ বিশেষ কেটে সাবাড় করে ফেলেছে প্রভাবশালী ব্যক্তির লোকজনেরা। বাঁধ নির্মাণের কারণে বৃষ্টির সময় ঢলের পানিতে স্থানীয়দের জমি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে স্থানীয়দের চলাচলের একমাত্র সরকারি রাস্তাও ৫/৬ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া প্রভাবশালী হারেছ প্রকল্পে যাতায়াতের জন্য বিকল্প রাস্তা তৈরি করতে গিয়ে তার (আবিদুর রহমানের) রোপণ করা শত শত গাছ বুলডোজার দিয়ে কেটে ফেলেছেন। তিনিসহ স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনরা প্রভাবশালী হারেছ এর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এদিকে পাহাড় কাটার বিষয়টি অস্বীকার করে মোহাম্মদ হারেছ জানান, সরই এলাকায় তার ৪০ একর জায়গা রয়েছে। নিজের জমিতে মত্স্য চাষের জন্য মত্স্য প্রকল্প গড়ে তুলছেন। বুলডোজার ঢুকানোর জন্য বিকল্প রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে বলেও তিনি স্বীকার করেছেন। এব্যাপারে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হেলাল উদ্দিন জানান, পাহাড় কেটে মত্স্য বাঁধ এবং বিকল্প সড়ক নির্মাণের খবর পেয়েছি। স্থানীয় লোকজনের লিখিত অভিযোগও পেয়েছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।