গার্মেন্টস খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে :বিজিএমইএ

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:২২
দেশের তৈরি পোশাক খাত নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত চলছে বলে আবারো অভিযোগ তুলেছে গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। গতকাল সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, এই খাত নাজুক সময় পার করছে। শ্রমিকদের উস্কে দিয়ে অরাজকতা সৃষ্টির জন্য উদ্দেশ্যমূলক পাঁয়তারা চলছে। তাজরীন ও রানা প্লাজার দুর্ঘটনার পর হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে যখন চেষ্টা চলছে তখন অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। এটি অত্যন্ত উদ্বেগের। এভাবে অসন্তোষ চলতে থাকলে আগামী ঈদের আগে বেতন-বোনাস দেয়া সম্ভব হবে না। গত তিন দিন ধরে দেশের গার্মেন্টস খাতে শ্রম অসন্তোষের জেরে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। এর উপর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এ নিয়ে নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল এ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে বিজিএমইএ। এতে মূল বক্তব্য তুলে ধরেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এসএম মান্নান কচি। সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশ পৃথিবীর একমাত্র গার্মেন্টস রপ্তানিকারক দেশ নয়। আরো অনেক প্রতিযোগী দেশ রয়েছে। এই অসন্তোষ আত্মঘাতী হয়ে উঠবে। এসময় অভিযোগ তোলা হয়, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যমে এই খাতকে ধ্বংসের জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে খণ্ডিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। এই খাতকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার জন্য দেশের রাজনীতিবিদদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে এতে। বিকেএমইএ’র সভাপতি এ প্রসঙ্গে বলেন, এখানে সবার কথা বলার অধিকার আছে। কিন্তু এমন কিছু বলা উচিত হবে না যাতে উস্কানি তৈরি হয়। মজুরি বোর্ড আগামী নভেম্বরের মধ্যে যৌক্তিক মজুরি কাঠামো ঘোষণা করবে বলে আশা প্রকাশ করে বলা হয়, ঘোষিত মজুরি কারখানাগুলো বাস্তবায়ন করবে। এসএম মান্নান কচি বলেন, ন্যূনতম মজুরিকে গার্মেন্টস এর মজুরি ৩ হাজার টাকা বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। এই মজুরি কেবল গ্রাম থেকে আসা একজন অদক্ষ শ্রমিকের জন্য। ওই অদক্ষ শ্রমিকও অন্যান্য সুবিধাসহ কমপক্ষে ৪ হাজার ৫শ’ টাকা পান। বিবিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দীন বলেন, মজুরি বোর্ডের কাজ চলমান রয়েছে। অথচ শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। সেলিম ওসমান বলেন, মুজরি বোর্ডে উভয় পক্ষই প্রস্তাব দেবে। এ বিষয়টি দর কষাকষির। তিনি শ্রমিকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। আগামী ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন বোনাস পরিশোধ করা হবে। বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে বলা হয়, গার্মেন্টস খাতের চেয়েও কম মজুরি পায় এরকম অনেক খাত রয়েছে। টি প্যাকেজিং, দর্জি, হোটেল ও রেস্টুরেন্ট, চিংড়ি শিল্প, বেকারি ও বিস্কুট শিল্প খাতে বিদ্যমান মজুরি গার্মেন্টস খাতের ন্যূনতম মজুরির চেয়েও কম। এছাড়া সিনেমা হল, জুতা ও পাট শিল্পের প্রস্তাবিত মজুরিও তিন হাজার টাকার মধ্যে। বিটিএমএ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলামিন শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সামনে ঈদ। আন্দোলন নয়, আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে। এদিকে গতকাল বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) একটি গবেষণা পত্রে বলা হয়, লোকসানি ও বন্ধ কারখানাকে লাভে রূপান্তর করা সম্ভব। এ জবাবে বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, শুধু বন্ধ কারখানা নয়, লাভজনক করার শর্তে চলমান কারখানাও সিপিডিকে দিয়ে দিতে চাই। তার এই বক্তব্যকে সমর্থন করেন উপস্থিত সব গার্মেন্টস মালিক। এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম, রিয়াজ বিন মাহমুদ, বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রমুখ।