সিপিডির প্রস্তাব দুই ধাপে ৮ হাজার ২ শত টাকা

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:২৩
তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার ২শ’ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। তবে প্রথম বছর এর ৮০ শতাংশ বা ৬ হাজার ৫৬০ টাকা ও পরবর্তী বছর বাকি ২০ শতাংশ দেয়া যেতে পারে বলে মনে করে সংস্থাটি। তার মধ্যে বেসিক ব্যয়ের জন্য ৪ হাজার ৩শ, বাড়ি ভাড়া ১ হাজার ৭২০ টাকা এবং চিকিত্সা সেবার জন্য ৫৪০ টাকা দরকার। একজন শ্রমিক কাজ করতে গিয়ে যে পরিমাণ শক্তি ক্ষয় করে তা পূরণ করে উত্পাদন অব্যাহত রাখা ও পরিবারের কথা বিবেচনা করলে তার মজুরি হওয়া উচিত ১৭ হাজার ৮শ’ টাকা। গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে তৈরি পোশাক শিল্পের ন্যূনতম মজুরি নিয়ে আয়োজিত এক সংলাপে এ তথ্য জানানো হয়। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানেখন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এ প্রস্তাব করেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ সুলতান আহমেদ বলেন, মজুরি বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী, ন্যূনতম মজুরির কথা বিবেচনা করা হলে তা হলে এক সঙ্গে দিতে হবে। মিনিমাম ওয়েজ ভেঙ্গে ভেঙ্গে বাস্তবায়ন করার কোন বিষয় নয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইসরাফিল আলম, বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রমিক নেতা নজরুল ইসলাম খান, অধ্যাপক এমএম আকাশ। বক্তব্য রাখেন ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, অধ্যাপক অপু উকিল এমপি, সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া এমপি, শ্রমিক নেতা নাজমা আক্তার, বাবুল আক্তার, তৌহিদুর রহমান প্রমুখ। ড. খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম উল্লেখ করেন, শ্রমিকদের ন্যূনতম চাহিদা বিবেচনা করলে ন্যূনতম মজুরি ৮২০০ টাকা হওয়া দরকার। প্রয়োজন হলে পর্যাক্রমে এ মজুরির বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। নজরুল ইসলাম খান বলেন, যখন মজুরি নির্ধারণ করা হয়, তখন মালিকদের পক্ষ থেকে বলা হয় শ্রমিকদের দাবি করা মজুরি দিতে গেলে কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু কারখানা বন্ধ হয় না। বরং কারখানার সংখ্যা বাড়ছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইসরাফিল আলম বলেন, মালিক পক্ষ ২০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হিসেবে ৬শ’ টাকা মজুরি বৃদ্ধির যে প্রস্তাব দিয়েছে তা যৌক্তিক নয়। কারণ ২০১০ সালে তাদের ঠকানো হয়েছে। অধ্যাপক এমএম আকাশ বলেন, মালিকদের নীট আয়ের ২০ শতাংশ দিলে গার্মেন্টস খাতে শ্রমিক অসন্তোষ থাকবে না। মালিকদের সব নেয়ার মানসিকতা তৈরি পোশাক খাতকে আরো বিপদের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে।