গল্প নয় সত্যি

অর্থ যখন অনর্থ!

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:৩৩
যে করেই হোক সফল হতে হবে জীবনে! হতে হবে বিত্ত আর বৈভবের মালিক! এমনকি এতে যদি বন্ধুহীন হতে হয় তাতেই বা কী ক্ষতি! এই বাক্যগুলো পড়ে কেউ কেউ হয়তো আঁতকে উঠতে পারেন। আবার কারও মধ্যে শুরু হয়ে যেতে পারে নিজেকে বিশ্লেষণের চেষ্টা। তবে কথাগুলো যত রূঢ়ই শোনাক না কেন, অর্থ উপার্জনের নেশায় দিন-রাত কাটানো বহু মানুষই কিন্তু বাস্তব জীবনে হয়ে পড়েন বন্ধুহীন। সীমিত গণ্ডির মাঝে বাধা পড়ে তাদের সামাজিক যোগাযোগও। তবে এভাবে কেউ কেউ বিপুল অর্থের মালিক হলেও চূড়ান্ত বিচারে তিনি অনেকাংশেই তার বিত্তকে স্থায়ী রূপ দিতে পারেন না। সেই সাথে বাড়তে থাকে অসুখী থাকবার প্রবণতাও। এ কারণে যারা অর্থের পেছনে ছুটে নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করেন শেষ পর্যন্ত তাদের সেই অর্থই হয়ে ওঠে প্রকৃত অনর্থের কারণ। একাকী হয়ে পড়া জীবনের সাথে আর্থিক অবস্থার সম্পর্ক নিরুপণ করতে যেয়ে সম্প্রতি এমনটাই জানিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের একদল গবেষক। মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল ছাত্র-ছাত্রীর আর্থিক বিষয়াদি ও তাদের সামাজিক যোগাযোগের ধরন বিশ্লেষণ করেই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন গবেষকরা। তারা জানান, উচ্চাকাঙ্ক্ষী মানুষেরা একদিকে যেমন অধিক অর্থ উপার্জন করতে যেয়ে কখনও কখনও বন্ধুহীন হয়ে পড়েন তেমনি এদের কেউ কেউ আবার অর্থকে বন্ধুর বিকল্প হিসেবেও ভাবতে শুরু করেন। এদের মনে এই ধারণা জন্মায় যে টাকা দিয়ে হয়তো সব আনন্দই কেনা যায়। এভাবে নিঃসঙ্গতা থেকেই এরা ক্যাসিনো, জুয়া বা অর্থ ব্যয় হয় এমন নানা ধরনের বিনোদন অথবা জীবনযাপনের সাথে জড়িয়ে পড়েন। এটি একদিকে যেমন এদের আর্থিক অবস্থাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে তেমনি বাড়িয়ে তোলে জীবনের প্রতি হতাশাও। গবেষণার এই ফল প্রকাশ করা হয় আমেরিকান সাইকোলজিকাল অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক বৈঠকে।