দায়িত্ব গ্রহণের চতুর্থ বর্ষপূর্তি

সেবা সংস্থার সমন্বয়হীনতা নগর উন্নয়নে বড় বাধা

আপডেট : ১৮ মে ২০১৯, ০০:৩১

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, নাগরিক সেবা প্রদান এবং নগরের উন্নয়নে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে থাকা সমন্বয়হীনতা এখনো অনেক বড় প্রতিবন্ধকতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে। নগর ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এ প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পারলে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা যাবে। দায়িত্ব গ্রহণের ৪র্থ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার রাজধানী ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র এসব কথা বলেন।

সিটি করপোরেশনের সেবা সংস্থাগুলোকে দুই ভাগ করার প্রস্তাব দিয়ে মেয়র বলেন, সিটি করপোরেশনের মতো সেবা সংস্থাগুলোকেও উত্তর-দক্ষিণে বিভক্ত করা হলে সেবার মান বৃদ্ধি পাবে। সিটি করপোরেশন বিভক্তে প্রধানমন্ত্রীর যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ছিল। এর ইতিবাচক ফলাফল এ শহরের মানুষ ভোগ করছেন। তাই অন্য সেবামূলক সংস্থাগুলোকে যদি উত্তর ও দক্ষিণে ভাগ করা হয়, আমার ধারণা সেবার মান বৃদ্ধি পাবে এবং নাগরিকদের সেবা আগের তুলনায় বেশি করে তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

চার বছরের উন্নয়ন ফিরিস্তি তুলে ধরে মেয়র বলেন, চার বছর আগে শূন্য তহবিল, খানাখন্দে ভরা বেহাল রাস্তাঘাট, আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হওয়া এবং নষ্ট-অকেজো সড়কবাতির কারণে অন্ধকারে ডুবে থাকা এ নগরীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলাম। নগরীতে উন্নয়নের ছোঁয়া এখন দৃশ্যমান। সংবাদ সম্মেলনে যেসব উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে সেগুলো হলো— এলইডি বাতি স্থাপন, রাস্তা, নর্দমা, ফুটপাথ উন্নয়ন ও সংস্কার, পরিচ্ছন্ন কর্মী নিবাস নির্মাণ। এছাড়াও শান্তিনগর, নাজিমউদ্দিন রোড, গণকটুলী এবং বংশাল এলাকায় প্রায় চার যুগের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসন হয়েছে। নগরীর সার্বিক জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকল্প গ্রহণসহ ৪৯৭ কিলোমিটার উন্মুক্ত নর্দমা এবং ৫৩৭ কিলোমিটার পাইপ ড্রেনের আবর্জনা অপসারণ করা হয়েছে। জেট অ্যান্ড সাকার মেশিনের মাধ্যমে ড্রেনে জমাটবদ্ধ হয়ে থাকা আর্বজনা অপসারণ করা হচ্ছে। মেয়র বলেন, নবসংযুক্ত ৮টি ইউনিয়নের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। রাজধানীর খেলার মাঠ-পার্ক উন্নয়ন করা হয়েছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক ডিএসসিসি মেয়রের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নগর পরিবহনগুলো ৬টি কোম্পানির আওতায় এনে ২২টি রুটে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০১০ সালে পুরনো ঢাকার নিমতলীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর কেমিক্যাল ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন এবং নতুন ইস্যু বন্ধ রাখা হয়। পুরান ঢাকার জনজীবন অধিকতর নিরাপদ করার লক্ষ্যে টাস্কফোর্স পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ প্রতিষ্ঠান সিলগালা, জরিমানা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসির কাউন্সিলরগণ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. জাহিদ হোসেন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রি. জেনারেল ডা. মো শরীফ আহমেদ, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।