নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জাতীয় তথ্যভাণ্ডার এবং মাঠ পর্যায় থেকে আসা ভোটারের সংখ্যায় গরমিল পাওয়া গেছে। বর্তমানে দেশে মোট ভোটার সংখ্যার দুই রকম তথ্য এখন কমিশনের হাতে। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অণুবিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী হালনাগাদের পর দেশের মোট ভোটার ৯ কোটি ১৯ লাখ ৪৮ হাজার ২২৪ জন। অন্যদিকে মাঠ পর্যায় থেকে পাওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ৯ কোটি ১৪ লাখ ৯৩ হাজার ৩১৯ জন। এ হিসেবে একই সংস্থার দুই স্তরের ভোটারের সংখ্যায় ব্যবধান চার লাখ ৫৪ হাজার ৯০৫। আসলে কোনটি সঠিক এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইসি সচিবালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক ইত্তেফাককে বলেন, ভোটার সংখ্যা নিয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অণুবিভাগের জাতীয় তথ্যভাণ্ডারের তথ্যই সঠিক। জেলা বা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য ভুল। কোনোভাবেই তথ্যভাণ্ডার নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।
ইসি সচিবালয়কে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের তথ্য দিয়েছে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অণুবিভাগ। সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত সারসংক্ষেপে বলা হয়, সারাদেশের ৯ কোটির বেশি ভোটারের মধ্যে পুরুষ ৪ কোটি ৬১ লাখ ১১ হাজার ৫৪৭ জন ও মহিলা ৪ কোটি ৫৮ লাখ ৩৬ হাজার ৬৭৭ জন। ২০১২-১৩ সালে হালনাগাদের সময় ৭০ লাখ ১৭ হাজার ৫২১ জন নতুন ভোটার হয়েছে। এসময় ৭ লাখ ৪১ হাজার ৬৯ জন মৃত ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ভোটার স্থানান্তর হয় ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৪ জন। হালনাগাদের আগে ভোটার সংখ্যা ছিল ৮ কোটি ৫৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪০০ জন। দশম সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে ভোটার সংখ্যা অনুপাতে ভোট কেন্দ্রের তালিকা চায় ইসি সচিবালয়। ইতোমধ্যে ইসির মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ৩০০ আসনের ৩৬ হাজার ৯৫৪টি ভোট কেন্দ্রের তথ্য পাঠিয়েছে। ইসি সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে জানান, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাঠানো তথ্য একীভূত করে ৩০০ আসনে ৯ কোটি ১৪ লাখ ৯৩ হাজার ৩১৯ জন ভোটার সংখ্যা হয়েছে। তবে তিনি আরো জানান, নতুন সীমানা হয়েছে কোথাও কোথাও। জেলা থেকে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাঠানো তথ্যগুলো পর্যায়ক্রমে আসনভিত্তিক যাচাই-বাছাই করতে হবে।
