মৌলভীবাজারে বাণিজ্যিকভাবে দেশি-বিদেশি প্রজাতির কবুতর পালন ও খামারি-উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো শৌখিন কবুতর প্রদর্শনী। আমাদের দেশে মানুষ শৌখিনভাবে দেশি-বিদেশি জাতের কবুতর পালন করে থাকেন। আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূলে থাকায় বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন জাতের কবুতরের খামার করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। এই লক্ষ্যে মৌলভীবাজারে একটি কমিউনিটি সেন্টারে ৫০টিরও অধিক জাতের কবুতর নিয়ে প্রদর্শনীর অয়োজনে করেন কয়েকজন শৌখিন কবুতর খামারি।
বুধবার সকাল ১১টায় দিনব্যাপী প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান। উপস্থিত ছিলেন প্রদর্শনীর মুখ্য সমন্বয়ক ও কবুতর খামারি রাজু হানিফ, মৌলভীবাজার চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ডা. এমএ আহাদ, শৌখিন কবুতর খামারি মোহাম্মদ আফজল, রূপক রায়সহ অনেকে। প্রদর্শনীতে উজবেক টাম্বলার, ইংলিশ পোটার, লাহোর সিরাজী, আর্চ অ্যাঞ্জেল, জেকবিন স্প্ল্যাশ, কিং অ্যাশ রেড, বিউটি হোমার, বোখারা, রিভার্স উইং পোটার, পিগমি পোটারসহ প্রায় ৫০ দেশি-বিদেশি জাতের কবুতর স্থান পায়। মেলার তথ্যকেন্দ্র থেকে বাণিজ্যিকভাবে এসব কবুতর খামার ও পালন প্রক্রিয়া সম্পর্কে দর্শনার্থীদের তথ্য প্রদান করা হয়। মেলার অয়োজক রাজু হানিফ জানান, জাতভেদে এসব কবুতরের বাজার মূল্য ২ হাজার থেকে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত হয়ে থকে। এদেশের আবহাওয়া কবুতরের বংশবিস্তারে খুব উপযোগী। কবুতরের রোগ-বালাইও তুলনামূলক কম হয়। পোল্ট্রি খামারের চেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কবুতর পালন অনেক সহজ। তাই এদেশের অনেক মানুষের আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কবুতর খামার অবদান রাখতে পারে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসলে এদেশে কবুতর খামারকে লাভজনক শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব।
