‘সেই সময়ে (১৯৮১ সালে) শেখ হাসিনাকে দলের সভানেত্রী নির্বাচিত করা যে সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল তা আজ প্রমাণ হয়েছে। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল। তিনি দেশে না ফিরলে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর হারানো বাংলাদেশকে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হতো না।’
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেছেন। গতকাল শুক্রবার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ এই সভার আয়োজন করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী।
আলোচনা সভা ছাড়াও নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩৮তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন করেছে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। গণভবনে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রাণঢালা ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর শুভেচ্ছায় স্নাত হন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। এসব আয়োজনে স্বাধীনতাবিরোধীদের বারবার পরাজিত করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্যই বাঙালি বিশ্বের বুকে সম্মানিত জাতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বাঙালির রাজনৈতিক মুক্তি এনে দিতে পারলেও অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দিয়ে যেতে পারেননি। তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাঙালিকে শুধু অর্থনৈতিক মুক্তিই এনে দেননি, তিনি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তিও এনে দিয়েছেন।
বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, বিএনপি তার কৃতকর্মের ফল ভোগ করছে। ইতিহাসের অমোঘ নিয়মেই বিএনপি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতা গ্রহণ করে যেভাবে কারফিউ দিয়ে খুন ও গুপ্তহত্যা চালিয়েছিলেন, বিএনপি এখন তারই প্রায়শ্চিত্ত করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে প্রমাণ করেছিলেন—তিনি দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য। শেখ হাসিনা দেশে না ফিরলে আওয়ামী লীগের সংকট দূর করা এবং বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর হারানো বাংলাদেশকে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হতো না।
দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, জিয়াউর রহমানকে বিএনপির নেতারা কীভাবে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা বলেন এবং কথায় কথায় তারা মানবাধিকারের কথা বলেন তা কারোরই বোধগম্য নয়।
দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, শেখ হাসিনা মানে উন্নয়ন, শেখ হাসিনা মানে গণতন্ত্র, শেখ হাসিনা মানে সমৃদ্ধি। এই অগ্রগতিকে আরো বেগবান করতে হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করতে হবে।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মির্জা আজম এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত প্রমুখ।
