চলতি অধিবেশনেই দুই দলের মতপার্থক্য দূর হবে আশা করছি

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫৩
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংসদে যে কোন আলোচনার সুযোগ রয়েছে। সেই আলোচনায় দুই দলই অংশ নিতে পারে। আমি আশা করছি সংসদের চলতি অধিবেশনেই নির্বাচনকে ঘিরে প্রধান দু’টি দলের মধ্যে যে মতপার্থক্য রয়েছে তা আলোচনার মাধ্যমে দূর হবে। গতকাল বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাস্তবায়নাধীন এ-টু-আই (অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন) প্রোগ্রামের উদ্যোগে সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ডের অনুদান হস্তান্তর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি একথা বলেন। তিনি বিরোধীদলকে সংসদে যোগদানের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংসদের চলমান অধিবেশনেই সংবিধান অনুযায়ী আলোচনা করে সরকার ও বিরোধীদল তাদের মতপার্থক্য নিরসন করতে পারে। আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনের আলোচনার জন্য প্রধান দু’টি দলের প্রতি আহ্বান জানাবেন কিনা জানতে চাইলে স্পিকার বলেন, আমার আহ্বান সবসময় থাকবে। তারা চাইলে সংসদে যে কোন আলোচনা করতে পারে না। তবে আগে তাদেরকে আলোচনার বিষয়ে একমত হতে হবে। এর আগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার বলেন, দেশের প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে সহজে, দ্রুত এবং স্বল্প ব্যয়ে সরকারি ও বেসরকারি সেবা পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন তথ্য সেবাকেন্দ্র, জেলা ই-সেবাকেন্দ্র, জাতীয় ই-সেবা সিস্টেম, জেলা তথ্য বাতায়ন, ই-তথ্যকোষ, ন্যাশনাল পোর্টাল ফ্রেমওয়ার্কসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এসব সেবা সহজলভ্য হওয়ার ফলে মানুষের জীবনমান উন্নত হয়েছে এবং সার্বিকভাবে জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা, ইউএনডিপি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর পলিন ট্যামেসিস ও এ-টু-আই প্রকল্পের পলিসি অ্যাডভাইজার আনির চৌধুরী। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা বলেন, ডিজিটাল সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ড থেকে সাতটি ক্ষুদ্র অনুদান প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়ে ওঠার পথে আরো সাতটি ধাপ এগিয়ে গেল। ডিজিটাল বাংলাদেশ আরো কর্মক্ষম, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হবে বলে বিশ্বাস করি। ডিজিটাল প্রযুক্তি মধ্য আয়ের বাংলাদেশ গড়ে তোলায় সহায়তা করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল বিপ্লব বাংলাদেশকে পরবর্তী এশিয়ান টাইগার হতে সহায়তা করবে। ইতিমধ্যে ৬৪টি জেলার সবকয়টি ইউনিয়ন পরিষদ ডিজিটাল নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশিরা ইতিমধ্যে সরকারের প্রধান সেবাসমূহ যেমন ভূমি নামজারী, জন্ম নিবন্ধন, বিশ্ববিদ্যালয় আবেদন ও অন্যান্য সেবাসমূহে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রবেশাধিকার লাভ করেছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি এই মৌলিক সেবাসমূহ প্রদান আরো সহজ ও সাশ্রয়ী করে তুলেছে। স্পিকার দেশে প্রথমবারের মত সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ড-এর জন্য মনোনীত পাঁচটি সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘অনলাইনে সেবা সম্প্রসারণের জন্য’ পরিবেশ অধিদফতর, অনলাইনে সার সুপারিশে অটোমেটেড তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও তথ্য হালনাগাদ-এর জন্য সয়েল রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই), মোবাইল সেবা সম্বলিত বহুমাত্রিক পরিবহন পোর্টাল-এর জন্য যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সড়ক বিভাগ, মোবাইল নির্ভর পেমেন্ট সার্ভিস-এর জন্য জীবন বীমা অধিদফতর ও মোবাইলভিত্তিক সেবা প্রদান-এর জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদফতর এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (এনজিও)-মাল্টিমিডিয়া ডিজিটাল টকিং বুক-এর জন্য ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন ও একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-বাংলা অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনাইজার (ওসিআর)-এর জন্য ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধির হাতে অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন। আলোচকরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের মাধ্যমে স্বপ্নে সোনার বাংলা গড়ার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা জনগণের জন্য উন্নত ও নতুন নতুন সেবা উদ্ভাবন ও তার বাস্তবায়নের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে সকলকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।