সিভিও পিআরএল-এর লেনদেন স্থগিত, তিন তদন্ত কমিটি

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫৬
শেয়ার বাজারে অপতত্পরতা এবং শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে বাজারে স্বাভাবিক স্থিতিশীলতা নষ্টের অভিযোগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গঠিত তদন্ত কমিটির অধীনে তদন্তাধীন চারটি কোম্পানির মধ্যে চট্টগ্রামের সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি লিমিটেডের (সিভিওপিআরএল) অনিয়মের ব্যাপারে তিনটি কমিটি পৃথকভাবে তদন্ত করবে। জনস্বার্থে এবং শেয়ার বাজারে সিভিওপিআরএল-এর শেয়ারের দরবৃদ্ধির অস্বাভাবিকতার প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে স্থগিত ঘোষণা করেছে। সিভিওপিআরএল ইতিপূর্বে নাম-বদল এবং দীর্ঘদিন উত্পাদনে না যাওয়া সত্ত্বেও ৫০ টাকার প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ৮শ’ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় সমপ্রতি বাজারে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের একটি দায়িত্বশীল সূত্র ইত্তেফাক-কে জানায়, এই কোম্পানিটির শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির কারণ এবং এর নেপথ্যে কারা রয়েছে তা উদঘাটন করতে বিএসইসি ছাড়াও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) পৃথক পৃথকভাবে তদন্ত করবে। বিএসই’র তদন্তাধীন বাকি তিনটি কোম্পানি হচ্ছে বঙ্গজ লিমিটেড, মিথুন নিটিং এন্ড ডাইং এবং তাল্লু স্পাইনিং মিলস লিমিটেড। তবে এ তিনটি কোম্পানির লেনদেন ডিএসই ও সিএসই’র কোথাও স্থগিত হয়নি বলে মঙ্গলবার স্টজ এক্সচেঞ্জ সূত্রটি জানায়। এদিকে চট্টগ্রামের শেয়ার লেনদেনকারী কয়েকটি সিকিউরিটিজ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরেই তারা উপরোক্ত কোম্পানিগুলোর অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির বিষয়টি লক্ষ্য করে আসছেন। এসব কোম্পানির সবগুলোরই লট নির্বিশেষে প্রতিটি শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য ৫০ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। তারা জানান, গত ২৩ সেপ্টেম্বরের লেনদেনে তাল্লু স্পাইনিংয়ের প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ছিলো ৪৫ টাকা ৯০ পয়সা, মিথুন নিটিংয়ের ১১৮ টাকা ৩০ পয়সা, বঙ্গজের ৫৪২ টাকা ১০ পয়সা এবং সিভিওপিআরএল-এর ৮৬১ টাকা ৩০ পয়সা। সিভিওপিআরএল-এর কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জাভেদ জানান, শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির ব্যাপারে কোম্পানির কোনো হাত বা কারসাজি নেই। এটা শেয়ার বাজারে ঘটছে। বিএসইসি তদন্তের জন্য কাগজপত্র তলব করায় তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিএসইসি বরাবরে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, ভোজ্য তেলের কারখানাকে পেট্রোলিয়াম পণ্য উত্পাদনের কারখানায় পরিণত করার কাজ তারা ২০১২ সালে শুরু করেছেন। কাজ প্রায় শেষ, তবে বাণিজ্যিক উত্পাদনে এখনো যাননি। সরকারি আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতে এখনো বাকি। তিনি জানান, তাদের কোম্পানির মার্কেট শেয়ার রয়েছে ১৮ কোটি টাকা। তার মধ্যে ৫০ শতাংশ শেয়ার মালিকের। ২২ শতাংশ শেয়ারের ক্রেতা এখনো মেলেনি। পেট্রোলিয়াম সেক্টরের একটি বিশেষজ্ঞ সূত্র জানান, ভোজ্য তেলের রিফাইনারিকে বিএমআরই’র মাধ্যমে পেট্রোলিয়াম প্রোডাক্টের কারখানায় রূপান্তরে সিভিওপিআরএল-এর উদ্যোগটি তার কাছে উদ্ভট মনে হচ্ছে। কারণ এ ধরনের পেট্রোকেমিক্যাল কারখানার জন্য বিশেষ ধরনের যন্ত্রপাতি, জায়গা ও অবকাঠামো লাগে। কোম্পানিটির শেয়ারের উচ্চমূল্য আলোচিত হচ্ছে। সিএসই’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চারটি কারখানার শেয়ারের দরের উঠানামা নিয়ে তদন্তের বিষয়টি বিসিএসইসি তাদেরকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করেছে। এই কোম্পানিগুলোর শেয়ার দরের অসঙ্গতি বিএসইসি’র ইনস্ট্যান্ট ওয়াচ মার্কেট সার্ভিলেন্স সিস্টেম সনাক্ত করে। গত ২৭ আগস্ট এ ব্যাপারে গঠিত দুই সদস্যের তদন্ত কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয় বিএসইসি’র উপ-পরিচালক শামসুর রহমান এবং সহকারী পরিচালক রাকিবুর রহমানকে।