তৈরি পোশাক শিল্পের ভবিষ্যত্ সংকটাপন্ন

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:১৭
দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের কবলে দেশের পোশাক শিল্প। বেতন বৃদ্ধির নামে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হচ্ছে, তাতে এই শিল্পের ভবিষ্যত্ সংকটাপন্ন বলে উল্লেখ করেছে এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি)। গতকাল ইএবি প্রেসিডেন্ট আব্দুস সালাম মুর্শেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেন, সম্প্রতি দেশের পোশাক কারখানা হুমকির সম্মুখীন। গত বছরে পোশাক শিল্প থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ২১ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। এই শিল্পে প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। পোশাক শিল্পের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত শিল্পগুলোর শ্রমিক/কর্মচারী তাদের পরিবার বেঁচে থাকার পথ খুঁজে পেয়েছে। ২০১০ সনে নতুন নিয়োগকৃত পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩ হাজার টাকা করা হয়েছিল। ইতিমধ্যে ওয়েজ বোর্ড-এ বেতন বৃদ্ধিকল্পে পোশাক শিল্প উদ্যোক্তাবৃন্দ ৩ হাজার ৬শত টাকা বেতন করার প্রস্তাব দিয়েছেন। ওয়েজ বোর্ড এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। আশা করা যাচ্ছে আলোচনার মাধ্যমে পোশাক শিল্প মালিক, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং সরকারের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্বারক সম্পাদিত হবে। ঠিক এমন অবস্থার প্রেক্ষিতে হঠাত্ করে শ্রমিকদের উস্কানি দিয়ে নানা মহল অরাজকতার সৃষ্টি করছে। বহু পোশাক কারখানায় আগুন দেয়া হয়েছে, ভাংচুর করা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে অনেক কারখানা ইতিমধ্যে রপ্তানি সিডিউল অনুযায়ী শিপমেন্ট করতে ব্যর্থ হয়েছে। দেশের দেড় হাজার পোশাক কারখানা ইতিমধ্যে নানা জটিলতায় রুগ্ন শিল্পে পরিণত হয়েছে। বিরাজমান পরিস্থিতির কারণে আরও শত শত কারখানা রুগ্ন হয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। এমতাবস্থায়, ঈদ-উল-আযহার/পূজার বেতন/পাওনাদি পরিশোধ করা উদ্যোক্তাবৃন্দের পক্ষে কষ্টদায়ক হবে। তিনি জানান, পোশাক শিল্পের একজন শিক্ষানবীশ হিসাবে নিয়োগকৃত শ্রমিকের ন্যূনতম বেতন ৩ হাজার টাকা হলেও ঐ শ্রমিক সব মিলিয়ে প্রতি মাসে সাড়ে ৪ হাজার টাকা হতে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পায়। অথচ ঝুঁকিপূর্ণ, কষ্টদায়ক ও স্বাস্থ্যের ক্ষতিকর কয়েকটি সেক্টরের শ্রমিকদের বেতন কাঠামো ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে অযৌক্তিকভাবে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম প্রচার করার ফলে পোশাক শ্রমিক আরও বিশৃংখল হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ওয়েজ বোর্ড কর্তৃক ন্যূনতম বেতনসহ একটি বেতন কাঠামো ঘোষণা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সকলকেই অপেক্ষা করতে হবে। আশা করা যাচ্ছে যে ওয়েজ বোর্ড কর্তৃক শিঘ্রই ন্যূনতম বেতন ঘোষণা হবে। সরকারকেই এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।