ক্রেতা নেই, কমছে পাটের দাম

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:১৮
গাইবান্ধায় হাট-বাজারে পাটের অব্যাহত দরপতনে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ক্রেতার অভাবই এ দরপতনের কারণ বলে কৃষক ও ব্যবসায়িরা জানান। এদিকে প্রায় দশ কোটি টাকা বকেয়া রেখেই সরকারি ক্রয় কেন্দ্রগুলো পাট কেনা বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা পাটে আগুন দিয়ে তাদের হতাশা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছে। জেলার মুখ্য পাট পরিদর্শক অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৬টি পাট ক্রয় কেন্দ্রের কাছে কৃষক, বেপারি ও ব্যবসায়িদের পাওনা রয়েছে ১০ কোটি টাকারও বেশি। কর্তৃপক্ষ পাওনাদারদের তাগাদায় এখন অস্থির। সরকারি পাট ক্রয় কেন্দ্রগুলোর মধ্যে পলাশবাড়ীর প্লাটিনাম জুট মিলস্ এবারে পাট খরিদ করেছে ৭ হাজার ৮৫০ মণ। যার মূল্য প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা। কিন্তু অর্থাভাবে কর্তৃপক্ষ কোনো টাকাই পরিশোধ করতে পারেনি। শহরের জাতীয় জুট মিল কেন্দ্রে পাট কেনা হয়েছে ২৪ হাজার ১৮২ মণ। মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৪০ টাকা। পরিশোধ করা হয়েছে মাত্র ৭০ লাখ টাকা। পাওনাদারের ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে না পারায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এখন আত্মগোপন করে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। একইভাবে সাদুল্লাপুর উপজেলার কামারপাড়া ইউএমসি জুট মিল এবার পাট ক্রয় করেছে ৩১ হাজার ৭৫০ মণ। যার মূল্য প্রায় ৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এর মধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে মাত্র ১৫ লাখ টাকা। নলডাঙ্গার স্টার জুট মিল ক্রয় করেছে ৪ হাজার ৩শ’ মণ। এর মূল্য প্রায় ৫৭ লাখ ১১ হাজার টাকা। কোনো টাকাই পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জে আলিম জুট মিল খরিদ করেছে ৮ হাজার ১৫৪ মণ। এর মূল্য প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত পরিশোধকৃত টাকা মাত্র সাড়ে ১০ লাখ। বাকি টাকার জন্য পাওনাদার ব্যবসায়িরা প্রতিদিন ভিড় করছেন। এছাড়া সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গায় খালিশপুর জুট মিলে পাট ক্রয় করা হয়েছে মোট ৮ হাজার ১৮২ মণ। যার মূল্য প্রায় ১ কোটি ১১ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়েছে মাত্র ১৭ লাখ টাকা। ক্রয় কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, ক্রয় কেন্দ্রগুলোতে এ মৌসুমে ১৩শ’ থেকে ১৫শ’ টাকা পর্যন্ত দরে পাট কেনা হয়েছে। খরিদ বন্ধ করায় বাজারে তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এখন বাজারে পাট বিক্রি হচ্ছে ৮শ’ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৯শ’ টাকা মণ দরে। গাইবান্ধা জাতীয় জুট মিলের পার্চেজার নুরুন্নবী সরকার জানান, মৌসুমের শুরু থেকেই ক্রয় কেন্দ্রগুলোতে ছিল নগদ টাকার অভাব। তাই পাট কিনে টাকা না দিতে পেরে স্থানীয় কর্মকর্তারা কৃষক ও বেপারিদের কাছে নাজেহাল হচ্ছেন। সাদুল্লাপুরের হবিবুল্লাপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, ফরিয়া-দালালদের হাত থেকে বাঁচতে এবং সরকার নির্ধারিত মূল্য পেতে হাটের পরিবর্তে ক্রয় কেন্দ্রে পাট নিয়ে গিয়ে এখন বিপাকে পড়েছি। কবে টাকা পাবো তার কোন নিশ্চয়তা পাচ্ছি না। ফুলছড়ি হাটে পাট বিক্রি করতে আসা ফজলুপুরের কৃষক আব্দুস সালাম জানান, গত মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ফুলছড়ি হাটে মান ভেদে ৮শ’ টাকা থেকে সর্বোচ্চ হাজার টাকা দরে পাট বিক্রি হয়েছে। কিন্তু তারপরও ক্রেতা নেই। ফলে অনেকেই পাট বিক্রি করতে না পেরে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন। অনেকে পাট আগুনে পুড়িয়ে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।