সারাদেশে বেড়ে গেছে লোডশেডিং

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:২২
হঠাত্ করেই সারাদেশে বেড়ে গেছে লোডশেডিং। তীব্র গরমের মধ্যে অসহনীয় লোডশেডিংয়ে জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বিদ্যুতের দাবিতে মানুষ মারমুখো হয়ে উঠলে বিদ্যুতের লোকজন অফিসে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়। অন্যদিকে ময়মনসিংহের ফুলপুরে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধের মতো ঘটনা ঘটেছে। কালিয়াকৈর (গাজীপুর) সংবাদদাতা জানান, কালিয়াকৈরে বিদ্যুতের লোডশেডিং চরম আকার ধারণ করেছে। শিল্প কারখানার উত্পাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করতে পাড়ছে না। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুত্ সরবরাহ না পাওয়ায় জনমনে বিরাজ করছে চরম অসন্তোষ। বিদ্যুত্ সরবরাহের দাবিতে যে কোন সময় অবরোধ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে ২২ ঘন্টাই বিদ্যুত্ থাকছে না। দিনে-রাতে অন্তত ২০ থেকে ২৫ বার বিদ্যুত্ যাওয়া আসা করে। পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির নাঙ্গলকোট ডি জি এম মোহাম্মদ রহমতে সোবহান জানান, কুমিল্লা গ্রিড সাব স্টেশন থেকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুত্ সরবরাহ না থাকায় অসহনীয় লোডশেডিং হচ্ছে। ১৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মাত্র চার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ পাওয়া যাচ্ছে। আলফাডাঙ্গা সংবাদদাতা জানান, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ গতকাল বৃহস্পতিবার বিদ্যুতের দাবিতে আলফাডাঙ্গা পল্লী বিদ্যুত্ অফিস ঘেরাও করে। সকাল থেকে মাইকিং করে এলাকার সাধারণ মানুষ বিদ্যুত্ অফিসের সামনে জড়ো হতে থাকলে বিদ্যুত্ বিভাগের কর্মকর্তা / কর্মচারীরা অফিসে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়। উপস্থিত জনতা বিদ্যুত্ অফিস ভাংচুরের চেষ্টা করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় বাজার বণিক সমিতি উপস্থিত সকলের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেয়। স্মারক লিপিতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৮ ঘন্টা বিদ্যুত্ না থাকায় জীবন যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।। ফুলপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ময়মনসিংহের ফুলপুরে বিদ্যুতের দাবিতে কাজিয়াকান্দায় কুরিয়ার সেতু এলাকায় গাছের গুঁড়ি ফেলে ঢাকা-হালুয়াঘাট মহাসড়ক চার ঘন্টা অবরোধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। এ সময় বাসযাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ে। গ্রাহকরা জানান, প্রায় দেড় মাস আগে কাজিয়াকান্দা এলাকায় বিদ্যুতের ২শ’ কেভি ট্রান্সফরমার বিকল হয়। তারপর থেকে বিদ্যুত্ নেই। নিরুপায় হয়ে তারা সড়ক অবরোধ করছেন। ভোলা উত্তর প্রতিনিধি জানান, গত ১০ আগস্ট থেকে জেলার সর্বত্র বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিং চলছে। দিনে রাতে অন্তত সাত থেকে আট বার বিদ্যুত্ আসা যাওয়া করে। বিদ্যুত্ না থাকায় বরফের উত্পাদন কমে গেছে। ফলে বিপদে পড়েছেন ইলিশ শিকারীরা। হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা জানান, বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংয়ে প্রতিবাদে অতিষ্ঠ চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের মানুষ তিন ঘন্টা অবরোধ করে রাখলেন কুমিল্লা-চাঁদপুর মহাসড়ক। গতকাল হাজীগঞ্জের বাকিলা বাজারের কাছে গাছের গুঁড়ি ফেলে, টায়ার জ্বেলে দুপুর ১১টা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত শনিবার থেকে তারা দৈনিক দুই থেকে তিন ঘন্টার বেশি বিদ্যুত্ পাচ্ছেন না।