ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় প্রাইভেট কারে মাত্র ৩.৮ শতাংশ মানুষ চলাচল করলেও তারা সড়ক পথের প্রায় ৭০ ভাগ স্থান দখল করে রাখছে। অথচ ৯৬.২ শতাংশ মানুষ বাস, রিকশা, সাইকেল ও হেঁটে যাতায়াত করলেও মাত্র ৩০ ভাগ সড়ক ব্যবহারের সুবিধা পাচ্ছে। যা যাতায়াতের ক্ষেত্রে ভারসাম্য নষ্ট করছে।
এ বাস্তবতাকে সামনে রেছে যানজট থেকে পরিত্রাণ পেতে, যানজট হ্রাসে প্রাইভেট কার নয়, হেঁটে স্কুলে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটার পরিবেশ এবং পাবলিক পরিবহনের মানোন্নয়নের দাবি জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থা ‘ইকো সোসাইটি’ ও ‘ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট’।
সংগঠন দুইটি গত রবিবার ‘বিশ্ব কারমুক্ত দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডি স্কলাস্টিকা স্কুলের সামনে লিফলেট ক্যাম্পেইন ও মানববন্ধন কর্মসূচির মাধ্যমে এ দাবি জানান।
কর্মসূচি চলাকালে সংগঠন দুইটির পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, বর্তমানে ঢাকা শহরে যাতায়াত মানেই যানজটে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহানো। কখনো কখনো দশ মিনিটের পথ এক ঘন্টায় পাড়ি দেয়া কঠিন হয়ে পড়ে। নিয়ন্ত্রণহীনভাবে প্রাইভেট কারের ব্যবহার যানজট বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। প্রাইভেট গাড়ি নির্ভর জীবনযাত্রা শহরের মানুষগুলোর জীবনকে আরো দুর্বিষহ করে তুলেছে। যা সন্তানের সুস্থতা এবং সামাজিকীকরণে প্রভাব ফেলছে।
উপযোগী হাঁটার পরিবেশ ও মানসম্মত গণপরিবহন না থাকায় প্রাইভেট কারের উপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। বিশেষ করে ঢাকা শহরে হুইল চেয়ার, সাদা ছড়ি ও ক্র্যাচ ব্যবহারকারীদের চলাচলের জন্য সহায়ক কোন ব্যবস্থা নেই। এই পরিস্থিতি দুষ্টচক্রের ন্যায় যানজট, জ্বালানি অপচয়, দূষণ, দুর্ঘটনা, অবকাঠামোগত ব্যয়, যাতায়াত খরচ এবং মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বৃদ্ধি করছে।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান দুটি আরো জানায়, ২টি প্রাইভেট কার একটি বাসের সমান জায়গা নেয় এবং প্রায়শই দেখা যায় একটি প্রাইভেট গাড়িতে একজন যাত্রী চলাচল করে বা ফাঁকা থাকে অথচ একটি বাসে একটি রুটের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রায় ২০০ যাত্রী বহন করে। প্রাইভেট কার শুধুমাত্র চলাচলের জন্যই বেশি জায়গা নেয় না বরং পার্কিং এর জন্য ১৬০ বর্গফুট জায়গা নেয় এবং ৯০ ভাগ সময় পার্কিং অবস্থায় থাকে। এজন্য প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে।
ইকো সোসাইটি’র প্রধান নির্বাহী শেখ আরিফ আহমেদের নেতৃত্বে কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট এর আতিকুর রহমান, ইকো সোসাইটি’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার আনুতোষ চ্যাটার্জী, স্বেচ্ছাসেবক সদস্য মোঃ কামরুল হাসান, মো: মাহবুবুর রহমান, শিবলী মাহমুদ সৌখিন, নুরুদ্দিন ভুঁইয়া, মিয়া মোহাম্মদ শামসুল হক শাকিল, মোঃ আল-আমিন, মেহেদী হাসান মিন্টু, মোঃ অপু আহম্মেদ ও আরিফুল ইসলাম সাগর প্রমুখ।
উল্লেখ্য, জ্বালানি সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য ১৯৭৩ সালে বিশ্বে কারমুক্ত দিবস পালিত হয়ে আসছে। এ বছর চার হাজারের উপর বিভিন্ন শহরে দিবসটি একযোগে পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও ২০০৬ সাল থেকে পরিবেশবাদী সংগঠনসমূহ দিবসটি পালন করে আসছে।
