গল্প নয় সত্যি

শিশুর স্মরণশক্তি বাড়ায় দুপুরের ঘুম

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:২৩
শৈশব মানেই দিনমান ছুটোছুটি আর ক্লান্তিহীন খেলাধুলার আয়োজন। এখানে ঘুমিয়ে কিংবা দু’দণ্ড বসে সময় নষ্ট করার মতো সময় যেন নেই অনেক শিশুরই। আর এ কারণেই রাতের বেলায় নির্ধারিত সময়ে কিংবা মাঝ দুপুরে শিশুকে ঘুমের জগতে টেনে নিতে প্রায়ই বেগ পেতে হয় অভিভাবকদের। যদিও শিশুদের পরিপূর্ণ বিকাশ ও মানসিক পরিপক্কতার জন্য ঘুম বিশেষ করে দিনের মাঝভাগে খানিকটা ঘুমিয়ে নেওয়া যে বেশ জরুরি সেটা সম্প্রতি আরও একবার জানিয়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস আমহার্স্টেও একদল গবেষক। এই গবেষকদের দাবি, স্কুলে যাওয়ার আগের সময়টাতে শিশুকে যদি দিনে কমপক্ষে এক ঘণ্টা হলেও ঘুমের অভ্যাস করানো যায় তাহলে সেটি পরবর্তী সময়ে তাকে প্রাথমিক বিভিন্ন বিষয় শিখতে ও স্মৃতিশক্তিকে সংগঠিত রাখতে ভুমিকা রাখে। ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্স সাময়িকী প্রসিডিংসে প্রকাশিত এই গবেষণার জন্য মনোবিজ্ঞানী রেবেকা স্পেন্সার এবং তার সহ-গবেষক হিসেবে কাজ করা দুই ছাত্রী ক্যাসি ডুক্লোস ও লরা কার্ডজায়েল এখনও স্কুল যাওয়া শুরু করেনি এমন ৪০ শিশুর ওপর গবেষণা করেন। গবেষণার অংশ হিসেবে শিশুদের সকাল বেলায় কিছু জিনিস শেখানো হয়। এটি মূলত কিছু ছবি দেখানো এবং ছবিগুলোর মধ্যে কোনটিতে কী ধরনের পার্থক্য রয়েছে তা শিশুদের মনে রাখানোর মতো একটি খেলা। এরপর এই খেলায় অংশগ্রহণকারী শিশুদের দুই ভাগে ভাগ করা হয়। প্রথম ভাগকে দিনের বেলায় কমবেশি এক ঘণ্টার মতো ঘুমানোর সুযোগ দেওয়া হয় এবং বাকি দলটিকে দিনে ঘুমাতে দেওয়া হয় না। এভাবে ঘুমিয়েছে ও ঘুমায়নি এমন দুই দলের স্মৃতিশক্তি বিশ্লেষণ করে দেখা যায় ঘুমের সঙ্গে স্মৃতিশক্তির উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে এভাবে ঘুমের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পরদিন সকালে পরিচালিত পরীক্ষায় দেখা যায় বেশির ভাগ বিষয় ভুলে যাওয়াদের মধ্যে আগের দিন বিকেলে ঘুমোয়নি, এমন শিশুর সংখ্যাই বেশি এবং না ঘুমানোদের মধ্যে ৩৫ ভাগই ঠিকঠাক মতো শেখা জিনিস মনে রাখতে পারেনি। আর যারা দিনের বেলা ঘুমিয়েছে, তাদের মধ্যে ঠিকঠাক মনে রাখতে পেরেছে ৭৫ শতাংশ।