পৃথিবীর অস্তিত্ব বিবর্তনে পানি সম্পদের অবদান সবারই জানা। এই পানি সম্পদ রক্ষায় জাতিসংঘ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করে। তারই ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘ ২০১৩ সালকে আন্তর্জাতিক পানি সহযোগিতা বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই বর্ষকে আরো বেগবান, উল্লেখযোগ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ করতে জাতিসংঘ বিশ্ব পর্যটন সংস্থা পানি সম্পদ সুরক্ষাকে পর্যটন দিবসের ঘোষিত কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছে।
আমাদের সবার একই রকম সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য পর্যটন ও পানি সম্পদ উন্নয়নের ভূমিকা অন্যতম— এই আলোকে এ বছরের পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য Tourism and Water : Protecting our Common Future।
পর্যটনকে সাধারণত জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী ক্ষেত্র বলে দাবি করা হয়। কিন্তু গত কয়েক দশকে এর চিত্র পরিবর্তন হয়েছে অনেকখানি। এখনকার গবেষণায় পর্যটনশিল্পকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় টেকসই হাতিয়ার হিসেবে গণনা করা হচ্ছে। তাই তো এবারসহ গত অর্ধযুগ ধরে বিশ্ব পর্যটন দিবসের কর্মসূচিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও এর মোকাবেলায় বিভিন্ন উপায় ও করণীয় সম্পর্কে জাতিসংঘের নির্দেশনা বেশ জোরালো।
বিশ্ব পর্যটনশিল্প অনেকাংশে পানি সম্পদ সুরক্ষার ওপর নির্ভরশীল। ইউরোপ-আমেরিকায় জলপর্যটন বেশ জনপ্রিয়। পর্যটনশিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও ভবিষ্যত্ পানি সম্পদ সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্য নিয়ে যে কোনো প্রকার জলধারা থেকে শুরু করে বাড়ি-ঘরে পর্যটন নিবাসে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ পর্যন্ত বিস্তৃত।
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেন, ‘‘পানি সম্পদ রক্ষা করে আমরা একটা সুন্দর ভবিষ্যত্ বিনির্মাণ করতে পারি। যেটা আমাদের সবারই স্বল্প।” ২০১৩ সালের বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রধান প্রেক্ষাপটের সারমর্মে বলা হয়েছে— ‘‘সতেজ পানি সম্পদ রক্ষা ও টেকসই উন্নয়নে পর্যটন এগিয়ে আসতে পারে। বিশ্ব পর্যটনশিল্পের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা এতে ভূমিকা রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস।”
বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পে পানি সম্পদের ভূমিকা লক্ষণীয়। আমাদের পর্যটনশিল্পের প্রতীক— কক্সবাজার, কুয়াকাটা, সুন্দরবন, সেন্টমার্টিন, জাফলং, হাওর-বাঁওড়, জলধারা প্রভৃতি পানি সম্পদেরই অংশ। এই সকল পর্যটন সম্পদ রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সবার। ট্যুর অপারেটর থেকে শুরু করে সাধারণ পর্যটকদের সতেজ এবং ব্যবহারযোগ্য পানিধারা অব্যাহত রাখার জন্য ভূমিকা রাখতে হবে। টেকসই দায়িত্বশীল ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন নীতিমালা প্রণয়ন করে আইন তৈরি করার প্রয়োজনীয়তা এখনই। সব ধরনের সমুদ্রসৈকত, দ্বীপ, নদী-নালা, পুকুর, লেক, জলপার্ক দূষণমুক্ত রাখতে হবে। পরিবেশবান্ধব জলযান ও জল উত্সবকে প্রাধান্য দিতে হবে। এই বিষয়ে সব ধরনের তথ্যযন্ত্রে জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠান প্রচারের ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক অ্যামপিডোকল্স পানিকে পৃথিবী সুরক্ষার বাহক হিসেবে গণ্য করেছেন। চলুন আমাদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য সঙ্গে সঙ্গে নব প্রজন্মের সুরক্ষায় পানি সম্পদ রক্ষায় এগিয়ে আসি।
ঢাকা
